পুজো মামলার রায়: হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করছে ফোরাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার হাইকোর্টের দুই বিচারপতি অরিজিত্‍ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ পুজো মামলার রায় দিয়েছে। তাতে রাজ্যের সমস্ত পুজো মণ্ডপকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মঙ্গলবার রিট পিটিশন ফাইল করতে চলেছে ‘ফোরাম ফর দুর্গাপূজা’।

কলকাতার পুজো কমিটিগুলির কেন্দ্রীয় সংগঠন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, “সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা রিট পিটিশন ফাইল করব।” অর্থাত্‍ রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হবে।”

প্রসঙ্গত,রায় ঘোষণার পর সোমবার বিকেলে কলকাতার প্রায় এক ডজন পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। টালা পার্ক, শ্রীভূমি, সুরুচি সংঘ-সহ প্রায় সব বড় পুজোর উদ্যোক্তারাই বলেছিলেন আদালতের নির্দেশ মেনেই পুজো করবেন।কিন্তু রাতেই জানা গেল ফের আদালতে যাচ্ছে ফোরাম। এ ব্যাপারে মামলাকারী আইনজীবী সব্যসাচী চট্টপাধ্যায়। বলেন, পিটিশন হলে আমাদের কাছে কপি আসবে।তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব

মামলার রায়ে হাইকোর্ট যা যা বলেছে দেখে নিন এক নজরে-

১. রাজ্যের প্রত্যেকটি পুজো মণ্ডপকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে গণ্য করতে হবে।

২. বড় পুজোর ১০ মিটার ও ছোট পুজোর পাঁচ মিটারের মধ্যে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মণ্ডপের শেষ অংশ থেকে এই দূরত্বের পরিমাপ করতে হবে। পুজো কমিটির সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ এই বিধি কার্যকর করবে।

৩. পুজোর কাজে কত জন যুক্ত থাকতে পারবেন তাও আদালত বলে দিয়েছে। বড় পুজোর ক্ষেত্রে ২৫ জন এবং ছোট পুজোর ক্ষেত্রে ১৫ জন মণ্ডপের ভিতর পুজোর কাজ করতে পারবেন।

৪. কোনটা ছোট পুজো বা কোনটা বড় পুজো তা ঠিক করবে পুলিশ।

৫. আদালতের নির্দেশ লিফলেট আকারে প্রতিটি পুজো কমিটিকে পৌঁছে দিতে হবে পুলিশকে।

৬. গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার পুজোর বিধি সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সে ব্যাপারে আদালত এদিন বলেছে, অত্যন্ত পবিত্র ইচ্ছে। কিন্তু শুধু ইচ্ছে থাকলেই হবে না। তাকে প্রয়োগ করতে হবে।

৭. এদিন মামলার রায়ে আদালত বলে, ধর্মাচরণে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। কিন্তু মহামারীর সময়ে উৎসবে অনুমতি দেওয়া যায় না। তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

৮. স্কুল-কালেজ এখনও স্বাভাবিক ভাবে খোলেনি। বাচ্চারা মাঠে খেলতে যেতে পারছে না। মানুষ মারা যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন ভিড় কমাতে। এইরকম গুরুতর পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পরবেন আর কোনও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তা হয় না। তাই আদালত হস্তক্ষেপ করল।

৯. আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ব্যাপারে পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে।

১০. সারা রাজ্যে পুজোয় কেমন ভিড় হল না হল, আদালতের নির্দেশ কেমন কার্যকর হল তা লক্ষ্মী পুজোর চার দিনের মধ্যে রিপোর্ট আকারে আদালতে জমা দিতে হবে রাজ্যকে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More