১৫-র কমবয়সির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ‘ধর্ষণ’, সাজা ২০ বছর পর্যন্ত জেল, ‘ঐতিহাসিক আইন’ ফ্রান্সে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বন্ধে আইন পাশ হয়ে গেল। ইদানীং এমান্যুয়েল মাক্রঁর দেশে ভুরি ভুরি যৌন  নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে।  বলা হচ্ছে, ফ্রান্সে নাকি দ্বিতীয় মি টু মুভমেন্ট চলছে! এই আবহে সর্বসম্মতিতে পাশ হওয়া নতুন আইনে ১৫-র নীচে নাবালক, নাবালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণের তকমা পাবে। সম্প্রতি অনুমোদিত আইনে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যৌন সম্পর্কে জড়ানো দুজনের বয়সের ব্য়বধান কম হলে ২০ বছর পর্যন্ত কারাবাসের সাজা হতে পারে।

এতদিন যৌন সম্পর্কে সম্মতির ক্ষেত্রে বৈধ বয়স ছিল ১৫। কিন্তু সম্প্রতি নাবালকদের যৌন নির্যাতনের গাদা গাদা অভিযোগ উঠছে। আলোড়ন ছড়িয়েছে সে দেশে। তারপরই আইন বদলের উদ্যোগ আইনপ্রণেতাদের। সরকারি কর্তারা বিলটিকে ঐতিহাসিক আইন আখ্যা দিচ্ছেন। ফরাসি পার্লামেন্টের দুটি কক্ষেই সেটি সম্মতি পেয়েছে।  বিলে  একজন প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে ১৮ র কমবয়সি আত্মীয়ের যৌন সম্পর্কও বেআইনি বলা হয়েছে। অর্থাত্ শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে রক্ষা করার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগের আইনে প্রমাণ করতে হত যে, বাচ্চাটিকে প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে ভয়, ছল করে প্রলোভন দেখানো বা তার ওপর জবরদস্তি করা হয়েছে।

তবে একইসঙ্গে আইনে ‘রোমিও জুলিয়েট’ ধারা যোগ করা হয়েছে যাতে নাবালক বা নাবালিকা ও তার চেয়ে ৫ বছরের বড় সঙ্গীর মধ্যে সহমতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্কের রাস্তা খোলা থাকবে। কিন্তু যৌন নিগ্রহের মামলার ক্ষেত্রে এই  ধারা খাটবে না। অল্পবয়সি সঙ্গীদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ককে অপরাধের তকমা দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই ধারা যোগ করেছেন আইনপ্রণেতারা।

গত জানুয়ারি প্রকাশিত এক সমাজবিজ্ঞানীর লেখা বইয়ের পরিসংখ্যানে উঠে আসে এক রুঢ় বাস্তব। ২০১৮য় আলোড়ন ফেলা মি টু আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা বইয়ে বেরয়, ফ্রান্সে প্রতি ১০ জনের একজন যৌন নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে। মি টু আন্দোলন এমন প্রবল ঢেউ তোলে যে মাক্রঁ সরকার দেশের মহিলা, বিশেষ করে বাচ্চাদের যৌন নিপীড়ন রুখতে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করে।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More