১ এপ্রিল থেকে নতুন নির্বাচনী বন্ড ছাড়া যাবে, বলল সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদান দেওয়ার ব্যাপারে যাতে স্বচ্ছতা থাকে, সেজন্য চালু হয়েছিল নির্বাচনী বন্ড। এবছর ১ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী বন্ড বিক্রি করার কথা আছে। সুপ্রিম কোর্টে বন্ড বিক্রি বন্ধের আর্জি জানিয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস নামে একটি সংগঠন। সেই আর্জি নাকচ করে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার রায় দিল, ১ এপ্রিল থেকেই নির্বাচনী বন্ড বিক্রি করা যাবে।

২০১৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নির্বাচনী বন্ডের কথা ঘোষণা করা হয়। ওই বন্ড কেনার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা রাজনৈতিক দলকে অনুদান দেয়। বাজারে ১ হাজার, ১০ হাজার, ১ লক্ষ, ১০ লক্ষ এবং এক কোটি টাকার বন্ড ছাড়া হয়। একমাত্র স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া বন্ড বিক্রি করতে পারে। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা কত টাকার বন্ড কিনতে পারবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৫৩৪ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার বন্ড বিক্রি হয়েছে।

কোন ব্যক্তি বা সংস্থা বন্ড কিনে কোন পার্টিকে অনুদান দিচ্ছে, তা গোপন রাখা হয়। বন্ডের মাধ্যমে কে অনুদান দিচ্ছে, তা রাজনৈতিক দলগুলি জানাতে বাধ্য নয়। এর আগে নিয়ম ছিল, যে ব্যক্তি বা সংস্থা ২০ হাজার টাকার বেশি চাঁদা দেবে, তার নাম জানাতে বাধ্য থাকবে রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু বন্ডের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। যে সামাজিক সংগঠনগুলি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য আন্দোলন করে, তাদের বক্তব্য, বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর) শীর্ষ আদালতে আর্জি জানিয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলি অনুদান পাওয়ার ব্যাপারে কতদূর স্বচ্ছতা বজায় রাখছে, তা আগে খতিয়ে দেখা হোক। তারপরে বন্ড বিক্রি করা হবে। ওই সংগঠনের সন্দেহ, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও অপর কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে চাঁদা দেওয়া হবে।

এডিআরের তরফে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “নির্বাচনী বন্ডের নামে কার্যত শাসক দলকে ঘুষ দেওয়া হয়। এর আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কও বলেছিল, নির্বাচনী বন্ড আর্থিক কেলেঙ্কারির অস্ত্র হয়ে উঠবে।” প্রশান্ত ভূষণের মতে, কালো টাকা সম্পর্কে সরকারের প্রকৃত মনোভাব কী, তা ওই বন্ড চালু করা থেকেই বোঝা যায়।

সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, ২০১৮ ও ’১৯ সালে বন্ড বিক্রি হয়েছে। এব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতাও অবলম্বন করা হয়েছে। সুতরাং এবছর বন্ড বিক্রি বন্ধ করার কোনও অর্থ হয় না।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More