কলা বা অ্যাভোকাডো, জেনে নিন পেশির ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে কোন কোন খাবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেশিতে ক্র্যাম্প বা পেশির ব্যথার জন্য অনেকেই ভীষণ কষ্ট পান। পেশির সংকোচন প্রসারণেরও অনেক সমস্যা হয়। এই ব্যথা কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। খেলোয়াড়দের বেশি প্র্যাকটিস করার জন্য পেশির ক্র্যাম্প প্রায়শই হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ঘাম শরীরের ক্ষতি করে। আর ডিহাইড্রেশন শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে, ফলে পেশিতে ক্র্যাম্পের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়।

পেশিতে ব্যথা হওয়ার কিছু বড় কারণ হল:

১. অতিরিক্ত ব্যায়াম, পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার
২. খনিজ বা ইলেক্ট্রোলাইটের ক্ষয় যেমন সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট
৩. ডিহাইড্রেশন
৪. মাংসপেশিতে আঘাত
৫. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
৬.থাইরয়েড আর রেনাস ডিজিজের মতো রোগ থাকলে। ইত্যাদি আরও নানাকারণেই হতে পারে পেশিতে ব্যথা।

মাংসপেশির ব্যথা কমানোর জন্য অনেকেই অনেক বড় বড় ডাক্তার দেখান। কিন্তু শুধু ওষুধেই কোনও কাজ ভাল করে হয় না। দরকার শরীরে পরিমাণ মতো জল, যা শরীরের ভারসাম্যকে বজায় রাখে। এছাড়াও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ম্যাসেজ করা, আইস প্যাক লাগানোর মতো কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেও অনেকটা কমিয়ে ফেলা যাবে পেশির যন্ত্রণা। এখানে সেইরকমই কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হল।

১. তরমুজ

তরমুজ যে কেবলমাত্র সুস্বাদু এমনটা নয়, এর সঙ্গেই এটা খুবই স্বাস্থ্যকর। পেশির ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তরমুজ অন্যতম সেরা একটি ফল। এতে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে, যা শরীরে তরল ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তরমুজে প্রাকৃতিক ভাবেই সিট্রোয়ালিনের মতো অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে যা শরীরে রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে। স্প্যানিশ গবেষকরা ২০১৩ প্রমাণ করেন যে ৫০০ মিলি তরমুজের রস খেলোয়াড়দের পেশির ব্যথাকে কমাতে খুবই সাহায্য করে।

২. অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডোতে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো ইলেক্ট্রোলাইট, যা পেয়ীর ক্র্যাম্পগুলো কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেশির সংকোচন, প্রসারণেরও সহায়তা করে।

৩. নারকেলের জল

নারকেলের জলে রয়েছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস। নারকেলের জল যেমন খেতে ভাল, তেমনই শরীররে পেশির ক্র্যাম্প দূর করতে সহায়তা করে। অ্যালানাইন, আর্গিনাইন, সিস্টাইনের মতো অ্যামিনো অ্যাসিডও রয়েছে এর মধ্যে, যা পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ স্পোর্টস নিউট্রিশনের জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাতে দেখা গেছে যে নারকেলের জল খেলোয়াড়দের শরীরে হাইড্রেশনকে ঠিক রাখে।

৪. কলা

বাচ্চাদের মাংসপেশিকে মজবুত করার জন্য কলা খুবই উপকারী একটা ফল। ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এতে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। ওয়ার্কআউটের আগে অনেকেই কলা খাওয়ার কথা বলেন।

৫. পেঁপে

আরও পড়ুন: এই খাবারগুলো অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি, সাবধান হোন আজই

পেঁপেতে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা পেশির ব্যথা কমানোর জন্য খুবই ভাল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। পেঁপে বদহজমের সমস্যাকেও কমিয়ে দেয়। ভিটামিন এ থাকার জন্য পেঁপে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তোলে ও পরিপাকে সহায়তা করে।

৬. দুধ ও দই

দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম ও পটাসিয়াম রয়েছে যা পেশির যে কোনও সমস্যাকেই নির্মূল করতে সাহায্য করে। দুধে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকার জন্যও এটা পেশির জন্য ভাল হয়। দুধ থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড পেশির বৃদ্ধি ও ভাল থাকাতে সহায়তা করে।

তবে ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, আর কিছু দিন পর পরই কেউ যদি পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে দেরি না করে শীঘ্রই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More