সিরিয়াল থেকে ওটিটি, নতুন পথে পা দিল আকাশ আট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজস্ব ওটিটি প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করল আকাশ আট। ১৩ অগাস্ট অফিশিয়াল উদবোধনও হয়ে গেল। জনপ্রিয় এই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ডিরেক্টর ঈশিতা সুরানা জানিয়েছেন ‘platform 8’ নামে এই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছে। এই সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে এটি দেখা যাবে। এটি রুচিসম্মত পারিবারিক বিনোদনমূলক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। যেখানে দর্শক টানতে কোনওরকম অশ্লীলতার ছোঁয়া থাকবে না। গুণগত মানসম্পন্ন এই প্লাটফর্মে ওয়েব সিরিজ, শর্টফিল্ম ছাড়াও গান সংক্রান্ত বিষয় অবশ্যই থাকবে। সাহিত্যমূলক গল্প ছাড়াও থ্রিলার, ভৌতিক, কমেডি, রোমান্টিক, রহস্যগল্প ইত্যাদির স্বাদও পাবেন দর্শকেরা। প্রথম শর্ট ফিল্মের নাম ‘পায়েস’, পরিচালক প্রমিতা ভট্টাচার্য। যা এই সপ্তাহ থেকেই ‘platform 8’-এ দেখা যাবে বলে জানা গেছে। ঈশিতা আরও জানালেন যে আজ থেকে তাঁদের চ্যানেলে নতুন দুটি ধারাবাহিকও সম্প্রচারিত হতে চলেছে। ধারাবাহিক দুটির নাম ‘মেয়েদের ব্রতকথা’ এবং ‘ইকির মিকির ‘ ।

মেয়েদের ব্রতকথা

বাংলা ও বাঙালির ব্রতকথা নিয়ে এই প্রথম টেলিভিশনে আকাশ ৮-এ ‘মেয়েদের ব্রতকথা’ নামে নতুন এক ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হতে চলেছে।
বাংলার ধর্মীয়-কথা বা ব্রত পালন শুধুমাত্র মেয়েদের আচার-অনুষ্ঠান নয়। এই ব্রতগুলোর মধ্য দিয়ে প্রকট হয়ে ওঠে বাংলার গ্রামজীবন, সমাজজীবন, সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি বাংলার ইতিহাস। একসময় বাংলার ঘরে ঘরে মা, ঠাকুমার মুখে মুখে বেঁচে থাকত এই ব্রতকথা। পরবর্তী সময়েও বই-আকারে বা পঞ্জিকার সঙ্গে বাঙালি গৃহস্থের ঘরে ঠাই পেত ব্রতকথা। তারপর সময় বদলেছে, প্রজন্ম এগিয়েছে।চ্যানেলের ডিরেক্টর ঈশিতা সুরানা জানালেন, ”এখনও মা, ঠাকুমাদের দেখে পরবর্তী প্রজন্মের মেয়ে, বৌ নিয়মিত বিভিন্ন ঋতুতে, বিভিন্ন মাসে নানা ব্রত পালন করেন। কিন্তু অনেক সময় তাঁরা জানেন না সেই ব্রতকথার পেছনের আসল কারণ কী? কেন এই ব্রত পালন করা হয়? তার পেছনে কী গল্প রয়েছে? সেই কারণেই ব্রতকথা নিয়ে এই ধারাবাহিক তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছি। এই মেগা ধারাবাহিকের শুরুতেই দেখা যাবে ‘মা বিপত্তারিণী ব্রতকথা’। এরপর মা ষষ্ঠী, মা মনসা, শীতলা মা, নীল ষষ্ঠী, মা লক্ষ্মী ইত্যাদি বহুল প্রচলিত দেবদেবীর ব্রতকথা এই মেগা ধারাবাহিকে সম্প্রচারিত হবে।এই ধারাবাহিকের প্রতিটি গল্পই আলাদা এবং প্রতি গল্পের পরিচালক ভিন্ন। একটি গল্প কমপক্ষে এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত চলবে। রীতিমত গবেষণা করেই বিভিন্ন দেবদেবীর ব্রতকথার গল্প প্রতিটি পর্বে সাজানো হয়েছে। যেখানে অহেতুক বাড়তি কোনও সংযোজন নেই। দর্শকদের বিভ্রান্ত করার কোনও প্রচেষ্টা করা হয়নি। রীতিমত গবেষণা করেই দর্শকদের কাছে সঠিক গল্প উপস্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি।” সোম থেকে শনি সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টায় ‘মেয়েদের ব্রতকথা’ ধারাবাহিকটি দেখা যাবে। প্রথম গল্পের পরিচালক হলেন সুমন রায়। সৃজনশীল পরিচালক সৌমিক চট্টোপাধ্যায়। সৌমিক জানালেন, ‘এই ব্রতকথা আমাদের বাংলা সংস্কৃতির অঙ্গ। মা বিপত্তারিণী পুজো কবে, কেন আর কীভাবে প্রচলন শুরু হল তা এই পর্বে দেখা যাবে। মূলত মা বিপত্তারিণী পর্ব দু’মাস চলবে। গল্পে অনেক মজার ঘটনাও রয়েছে।’ এই পর্বে অভিনয়ে আছেন দোলন রায়, সৌপ্তিক চক্রবর্তী, তিতলি, শৈবাল ভট্টাচার্য প্রমুখ। ১৬ আগস্ট থেকে সপ্তাহে ৬দিন সোম থেকে শনি প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় মেয়েদের ব্রতকথা সম্প্রচারিত হবে।

ইকির মিকির

সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের ‘কাহিনির ছায়া’ অবলম্বনে ১৬ আগস্ট থেকে আকাশ আটে শুরু হতে চলেছে মেগা ধারাবাহিক ‘ইকির মিকির’। পরিচালক সুশান্ত বসু ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে ধারাবাহিকটি পরিচালনা করছেন। ইতিপূর্বে ‘জগৎজননী মা সারদা’, ‘মা সন্তোষী’, ‘ও সাঁই রাম’ ইত্যাদি বহু সুপারহিট ধারাবাহিক তিনি পরিচালনা করেছেন। পরিচালক জানালেন, ‘আমি পৌরাণিক ও ভাবগম্ভীর বিষয় নিয়ে অনেক ধারাবাহিক করেছি। তবে গত প্রায় পৌনে দুবছরের ওপরে কোভিডের প্রকটে মানুষকে যে অসহায়তা, দুঃখ, যন্ত্রণা, বেকারত্বের সম্মুখিন হতে হয়েছে সেখান থেকে কিছুটা নির্মল আনন্দ দিতে এবারে ভিন্ন স্বাদের রোমান্টিক কমেডি ধারাবাহিক পরিচালনা করতে চলেছি। আশা করি যা দর্শকদের কাছে উপভোগ্য হবে। ‘বাউন্ডুলে মেয়ে প্রতিমা খোলামেলা স্বভাবের হলেও তাকে নিয়ে বাবা-মার চিন্তার অন্ত নেই। এই মেয়েকে ঘরে ফেরাতে বাবা মহাদেব প্রতিমাকে পাত্রস্থ করতে চান।কিন্তু অন্যদিকে প্রতিমা ভালোবাসে বুলেটকে। কিন্তু বুলেট বেকার। তাই সে প্রতিমাকে ভালবাসলেও বাড়িতে বিয়ের কথা বলতে পারেনা। এদিকে একের পর এক পাত্রপক্ষ প্রতিমাকে দেখতে এলে নানা অছিলায় তাদেরকে ভাগিয়ে দেয় প্রতিমা। অন্যদিকে গল্পের নায়ক সত্যচরণ ভোলাভালা মানুষ। সারাদিন ঘরে বসে সে কবিতা লেখে। আর তাদের এলাকার পোস্টমাস্টারের মেয়ে পাখিকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু সাহস করে সে তার বাবা সতীশচন্দ্রকে তা বলতে পারে না। এদিকে কৃপণ স্বভাবের সতীশচন্দ্র ভাবেন যে তার এত বড় ব্যবসা, কষ্টার্জিত অর্থ আছে যা তার ক্যাবলা ছেলে সত্য কিছুতেই ধরে রাখতে পারবে না। তাই সতীশচন্দ্র এমন পাত্রীর সন্ধান করেন যে কিনা সত্যকে নিজের আয়ত্তে রাখতে পারবে। তবে পাত্রীপক্ষের কাছে সতীশচন্দ্রের একটাই দাবি, পাত্রীকে পাঁচটা জবরদস্ত গালাগালি জানতে হবে। তবেই সেই পাত্রীকে তিনি পুত্রবধু হিসেবে নিয়ে আসবেন। অবশেষে সতীশচন্দ্র অনেক সন্ধান করে প্রতিমার খোঁজ পান। তবে কী প্রতিমার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবে সত্য? এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন লাবণী সরকার, সোমাশ্রী ভট্টাচার্য, সঞ্জীব সরকার, সপ্তর্ষি রায়, মৌসুমী কর চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। গল্পের বাকিটা জানতে হলে রোজ সোম থেকে শনি সন্ধে সাতটায় আকাশ আটে চোখ রাখতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More