উৎসবের পর ত্বক উজ্জ্বলতা হারিয়েছে? এগুলো নিয়মিত করছেন কি?

0

গৌরী বোস

উৎসবের মরশুম প্রায় শেষ। পুজোর আনন্দ, প্যান্ডেল হপিং- এই সবকিছুর পর নিজের কিছুটা বাড়তি যত্ন নেওয়ার সময় এখন। সিজন চেঞ্জের এই সময়ে যারা যথেষ্ট সাবধানে থাকেন আর কোভিডের নিয়মকানুন মেনে চলছেন, তাঁরা রূপচর্চার জন্য বিউটি পার্লারেও যেতে পারছেন না। ফলে রূপের ঘরে টান পড়েছে বেশ। তাছাড়া মানসিকসভাবেও সবাই বিপর্যস্ত। প্রচুর মানুষ ডিপ্রেশনের শিকার। দুয়ে মিলে কিছুটা বেসামাল সবকিছুই।

শরীর, মনের এই অপূরণীয় ক্ষতি সামলাতে আর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আপাতত বাড়িতেই যাতে কিছু যত্নের ব্যবস্থা করা যায় তেমন কিছু পরামর্শ দিচ্ছি…
১) প্রতিদিন অন্ততঃ ৩বার স্কিনকে ডিপক্লেন্স করতে হবে। সকালে স্নানের সময়, সন্ধেবেলা আর শোবার আগে। স্কিন যত পরিষ্কার থাকবে তত অক্সিজেন সাপ্লাই হয়ে স্কিনের ব্রিদিং সিস্টেম ভালো থাকবে।
২) সন্ধেবেলা ক্লিন করার পর অন্ততঃ ১ ঘণ্টা মুখে কিছু না লাগিয়ে স্কিনকে ন্যাচারাল স্টেজে রাখা উপকারী।
৩) উপযুক্ত প্যাক, স্ক্রাব, টোনার, বেডটাইম ক্রিম, লোশন, জেল ইত্যাদি প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা দরকার।৪) অয়েলি স্কিনে কোনও ক্রিমজাতীয় প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যায় না। সপ্তাহে ২ দিন হাল্কা স্ক্রাব ও ৩ দিন প্যাক ব্যবহার করতে হবে। অ্যাকনে রোসেসিয়া, ভাল্‌গারিস ইত্যাদি থাকলে কখনই এই সমস্ত ব্যবহার করা যাবে না। আগে এর চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হলে তারপর এই যত্নের প্রয়োজন।
৫) ড্রাই ও এজিং ত্বকের জন্য সপ্তাহে ১বার স্ক্রাব ও সমস্যা অনুযায়ী প্যাক যা ৩ থেকে শুরু করে প্রতিদিনও ব্যবহার করতে হতে পারে।
৬) চুলের উপযুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার বা মাস্ক প্রতিদিন যদি নাও করা যায়, একদিন অন্তর করতেই হবে। স্কিনের মত স্ক্যাল্পও একই কারণে পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে চুল সুস্থ থাকে।৭) যারা ফ্যাশান কালার করেন তাদের স্টাইল বদলাতেই হবে, কারণ কন্‌জিউমার হেয়ার কালার একেবারেই রেক্‌মেনন্ডেড নয়। আর যেহেতু বিউটি পার্লার ছাড়া প্রফেশনাল কালার করা সম্ভব নয়, তাই গোড়ার বদলে নীচের দিকে চুলে এই কালার ফ্যাশান করা যেতে পারে। চুলের নীচের কিছুটা অংশ গার্ডার বা দড়ি দিয়ে বেঁধে সেখানে কালার লাগিয়ে তারপর ঐ গার্ডার বা দড়ি কেটে ওয়াশ করতে হবে। এটা খুব ট্রেন্ডি (খোলা বা পনিটেল)। টং দিয়ে কার্ল করা, ক্রিম্পিং, টেম্পোরারি স্ট্রেটনিং, পনিটেল করে তাতে নানান লেন্থের সরু সরু বিনুনি করে কালার্ড পুঁথির ব্যান্ড দিয়ে নীচটা আটকানো বা শুধুই ডগাটা বেঁধে তুলে এনে গোড়ার নীচে পিন করা ও নানান হেয়ার স্টাইলার দিয়ে চুল বাঁধা ইত্যাদি নিজেই করা যেতে পারে।৮) পেডিকিওর ও ম্যানিকিওরের জন্য গ্লাভস্‌ ও মোজার মত ময়েশ্চার ব্যাগের দ্বারা (উল্লেখিত পদ্ধতিতে) ম্যাসাজ ও ময়েশ্চারাইজ করা এবং মুখ ক্লিন করে ফেশিয়াল ‘ট্যিসু মাস্ক’ সপ্তাহে ২বার ব্যবহারে কিছুটা উপকার হবে। দু তিনরকম কালারের নেলপালিশ নানা ডিজাইনে লাগান বা সাদা কালার দিয়ে ফ্রেঞ্চ নেল করা আকর্ষণীয়।
৯) চিবুক ও গলার পাশে বা কাঁধ, হাত, পিঠে ট্যাটু স্টিকার দিয়ে ট্যাটু করাটা লেটেস্ট ফ্যাশন। ‘মড্‌ লুক’-এর জন্য চুলে ও ত্বকে উপযুক্ত কালার্ড সিমার স্প্রে করতে পারেন।
১০) মেকআপের আগে মুখে গরম নুন জলের কমপ্রেস করলে ফোলা ভাব কমে যা ন্যাচারাল কন্টুরিং।
১১) মাস্কে ঠোঁট গাল ঢাকা থাকাতে চোখের মেকআপ আকর্ষণীয় করতে আইল্যাস ও কালার্ড লেন্স ব্যবহার করতে হলে তা আগে থেকেই অভ্যেস করা অত্যন্ত জরুরি। যারা চোখের মেকআপ করেন না, তাঁরা ডিপ ব্রাউন পেনসিল দিয়ে চোখের উপর নীচে হাল্কা লাইন টেনে স্মাজ করে দিলে চোখ ব্রাইট লাগবে।বাজার চলতি উঠতি কোম্পানির নয়, ব্র্যান্ডেড ও টাইম টেস্টেড প্রোডাক্টস-ই ব্যবহার করুন। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ার চোখ ঝলসানো বিজ্ঞাপনের মায়াজালে পড়ে নিজেকে গিনিপিগ তৈরি করা বা ড্রেসিংটেবল্‌ থেকে কাবার্ড সব জায়গায় নতুন নতুন প্রোডাক্ট কিনে না জমানোই ভাল। যার কাছে গিয়ে রূপচর্চা করাতেন, তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
‘থ্রি-কভার’ জেল যা তিনটে কাজ করে (সান ব্লক, অ্যান্টি-এজিং ময়শ্চারাইজার, ট্যান রিমুভ্যাল) এবং সব স্কিনের জন্য উপযোগীও, তেমন প্রোডাক্ট নিয়মিত চানের পর ও যারা বাইরে কাজ করেন তারা দুপুরে আর একবার ব্যবহার করলে স্কিন প্রোটেক্টেড ও সুস্থ থাকে। এছাড়া ‘ওয়াটার জেলি’ ও ড্রাই স্কিনের জন্য ‘ভিটামিন-ই’ ক্রিম রাতে শোবার আগে ব্যবহার করা দরকার।একটা জিনিস যা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে হয় তা হল প্রতিদিন প্রাকৃতিক নিয়মে যে সানবার্ন হয় তা রিমুভ করা। এটা অগ্রাহ্য করলে তা ট্যানে পরিণত হয়। এর জন্য ক্যেমিক্যাল-ফ্রি ‘টোনিং’ (সানবার্ন রিমুভ, টোন-আপ, এক্সফলিয়েশন ইত্যাদি অনেক কাজ করে) ২০-২৫ দিন অন্তর ১বার ব্যবহার করুন। যাদের ট্যান হয়ে গেছে তার জন্য ‘পিলিং’ করা অত্যন্ত জরুরি। আইব্রাও শেপিং ও পাকা চুল কালার যারা করেন তাদের জন্য বিউটি পার্লারে যাওয়া ছাড়া কোনও রাস্তা নেই। এক্ষেত্রে নিজস্ব সাবধানতা তো বটেই, সেই সঙ্গে যেখানে যেতে অভ্যস্ত ছিলেন তা যতই পুরোনো, সুবিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য হোক না কেন, তাদের প্রত্যেক স্টাফ ভ্যাক্সিনেটেড আছে কী না জেনে নেবেন। কোভিড প্রোটেকশন যেন ১০০% সুরক্ষিত ও নিশ্ছিদ্র হয় সেটা অবশ্যই দেখে নিতে হবে।

লেখিকা বিশেষজ্ঞ এস্থেটিশিয়ান, মেক-আপ ডিজাইনার ও এডুকেটর,
যোগাযোগ- শাকম্ভরী বডি এ্যান্ড বিউটি ক্লিনিক
203, এ.পি.সি. রোড, কোলকাতা 700004
মোবাইল : 7003893883         

 

ত্বকের বয়স আটকে দিতে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ফেসিয়ালের ম্যাজিক  

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.