এখানেই আমার শেকড়, ফ্যাশনে ফিরে জানালেন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল

সম্প্রতি নিজের স্টুডিওতে একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফ্যাশন জগতে ফিরলেন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে জানালেন নিজের ডিজাইনিং থেকে শুরু করে অনেক অজানা কথা। সেইসঙ্গে তাঁর তৈরি ডিজাইনার শাড়িতে মেলে ধরলেন নিজেকে। ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে তাঁর সঙ্গে আড্ডা দিলেন চৈতালি দত্ত।গত দেড় বছর ধরে আপনার স্টুডিও বন্ধ, কারণ কি রাজনীতি নাকি কোভিড?
অগ্নিমিত্রা- ২০২০র শুরুতে করোনার আবির্ভাব হলে কিছুদিনের মধ্যেই লকডাউন হয়ে যায়। সে কারণেই আমার স্টুডিও বন্ধ ছিল। রাজনীতি তখনও ছিল এখনও আছে।

তাহলে প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রার কাম-ব্যাক হল বলা যেতে পারে?
অগ্নিমিত্রা-একদম। যেসব মানুষ গত তেইশ বছর ধরে আমার সঙ্গে কাজ করেন, তাঁদের দিকে তাকিয়েই আমার ফিরে আসা। সর্বোপরি এটা আমার শেকড়, আমার পরিচিতি। ১৯৯৭ সালে নিজস্ব ব্র্যান্ড লঞ্চ করি আমি। সুতরাং সেটাকে তো ছেড়ে দেওয়া যায় না। রাজনীতিতে যে জায়গা পেয়েছি সেটা ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রার জন্য। নচেৎ আমাকে কেউ চিনত না।রাজনীতির পাশাপাশি ডিজাইনিং, এই দুটোকে ব্যালেন্স করবেন কীভাবে?
অগ্নিমিত্রা- কোনওদিন স্কুল-কলেজে আমি রাজনীতি করি নি। আমার বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির কেউই রাজনীতিতে যুক্ত নয়। এখন প্রচন্ড ব্যস্ত। তবুও বলছি ইচ্ছে আছে সপ্তাহে একদিন আমি স্টুডিওতে আসব। শুধুমাত্র অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দেখা করব। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা কিংবা পরামর্শ দেওয়া অথবা অর্ডার নেওয়া ইত্যাদি ফ্যাশন সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে মানুষের সঙ্গে স্টুডিওতে বসে কথাবার্তা বলব। আমার এই ক্রিয়েটিভ বিষয়কে আমার দল খুব সম্মান করেন। আগামী দিনেও দলকে জানিয়েই স্টুডিওতে আসব। ফ্যাশনের কাজকর্ম করব। আগে আমি তো শুধু ডিজাইনারই ছিলাম। এখন রাজনীতি যেমন একদিকে, তেমনি অন্যদিকে ফ্যাশন ডিজাইনিং। আমার বিশ্বাস দুদিক ব্যালেন্স করতে কোনও অসুবিধা হবে না। বাকিটা আমার ভাই অভিরূপ সেনগুপ্ত আর আমার তেইশ বছরের ছায়াসঙ্গী অনুদি পুরো দায়িত্ব সামলাবেন।
মহিলাদের উন্নতিকল্পে কী ধরনের পরিকল্পনা আপনার রয়েছে?
অগ্নিমিত্রা- আমি তো রাজনীতিতে আসার আগেই ইন্ডিয়ান উয়োমেন নেটওয়ার্কের হয়ে সুন্দরবন অঞ্চলে সেলাই মেশিন লাগিয়ে মহিলাদের সেলাই শিখিয়ে তাঁরা যাতে সেলাই করে পারিশ্রমিক পায় সেই কাজ শুরু করেছিলাম। এমনকি হাসপাতালের বেডশিট থেকে শুরু করে বেডকভার, পিলোকেস, ডাক্তারদের অ্যাপ্রন, নার্সের জামাকাপড় ইত্যাদি তৈরির কাজ শুরু করেছিলাম। ইচ্ছে আছে কিছু মানুষকে এই ধরনের কাজ শিখিয়ে যদি প্লেসমেন্ট দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে কিছু বেসিক জ্ঞান থাকলেই হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন আমার প্রধান কাজ।আপনার এই তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে কী ধরনের কালেকশন থাকল?
অগ্নিমিত্রা- ইন্দো ওয়েস্টার্ন, কাফতান, স্কার্ট, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ইত্যাদি আছে। দাম ২ হাজার টাকা থেকে শুরু। কিছু নতুন পোশাক তৈরি হয়েছে। কিছু পিস লকডাউনে তৈরি হয়েছিল। যা আজও প্যাকেট বন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ডিসপ্লে করা হয়নি। সেগুলো আছে। আজ এত মানুষ এই প্রদর্শনীতে আমাকে ভালোবেসে এসেছেন। তাঁরা আমাকে ভরসা এবং বিশ্বাস করেন। আমি খুব খুশি।আপনি তো এখন বেশিরভাগ সময় আসানসোলে থাকেন?
অগ্নিমিত্রা- মাসে পনেরো দিন আসানসোলে আমার মা-বাবার বাড়িতে থাকি। আর বাকি পনেরো দিন কলকাতার বাড়িতে থাকি। আমার বাচ্চাদের জন্য খুব কষ্ট হয়। বড় ছেলের আঠারো বছর বয়স। ওর একটা নিজের জায়গা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ছোটো ছেলে তো খুব ছোটো। মাত্র ছ’বছর বয়স। ওদের খুব মিস করি। তবে ওরাও আস্তে আস্তে বুঝতে শিখছে। আর আমি যেহেতু খুব বাচ্চা ভালোবাসি, ওদের সঙ্গে সময় দিতে পারছি না। এটা আমার খুব কষ্টের জায়গা। আমার স্বামী এখন বাচ্চাদের দেখাশোনা করেন, সংসার সামলান। এটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য বড় সাপোর্ট।
আপনি যদি কলকাতায় বেশিরভাগ সময় না থাকেন তবে ডিজাইনিং করবেন কীভাবে?
অগ্নিমিত্রা- আসলে আমি সপ্তাহে একদিন এখানে আসব।
আমি ডিজাইন করে কারিগরদের কাজটা বুঝিয়ে দেব। আর যদি খুব দরকার পড়ে সেক্ষেত্রে আমি স্কেচ করে পাঠিয়ে দেব। এখন তো ডিজিটাল যুগ। ফলে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ। আর কোনও বাধা নেই। এই তো প্রদর্শনী শুরুর দিনই আজকে আমার ব্রাইডাল কালেকশন বুকিং হয়েছে। তার ডিজাইন তো আমি আজকেই করে দেব। আগামী বছরে বিয়ে, আজকে বুকিং করলেন। প্যাশন থাকলে ঠিক কাজ করা যায়।আগামী দিনের পরিকল্পনা কী আছে?
অগ্নিমিত্রা- দেখুন রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পে আমি যদি কিছু ভাবে যুক্ত হতে পারি সেই ইচ্ছা আছে। সেটা সেলাই শেখানো বা ডিজাইনিং পার্ট হতে পারে। আমি ‘দ্য ওয়াল’ পোর্টালের মাধ্যমে খবরটা পৌঁছতে চাইছি। আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভালো চাই। মানুষের জন্য কাজ করতে এসেছি, সবার উন্নতি হোক এটাই চাই।
অগ্নিমিত্রাকে ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে যেভাবে মানুষ দেখতে অভ্যস্ত রাজনীতিতে আসার সঙ্গে সঙ্গে আপনার লুকস বদলে যায় এটা কিন্তু খুব চর্চিত। আপনি কি সচেতনভাবেই নিজের লুক পরিবর্তন করেছেন?
অগ্নিমিত্রা- আজকে যদি আমি সাংঘাতিক একটা হেয়ার কাটিং করে চুল খুলে দামি শাড়ি, সোনা বা হিরের গয়না পরে কাঁধে ম্যাচিং ব্যাগ ঝুলিয়ে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াই তাঁরা আমাকে কীভাবে বিশ্বাস করবেন? ফলে ওঁরা যেরকম আমি ঠিক সেরকমই থাকি। ওঁদের বোঝাতে চাই আমি ওঁদের দিদি অথবা বোন। আমি খুব কম দামের কটনের শাড়ি পরি। চুল কখনও খোলা আবার কখনও ‘বুড়ি’ খোঁপা অথবা বিনুনি করা থাকে। কপালে বড় সিঁদুরের টিপ, হাতে শাঁখা পলা, নোয়া পরি, যা একজন বিবাহিত মহিলার চিহ্ন। আমি যে সকলের দিদিভাই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More