মন ভালো রাখতে ঘরেই বানান অনন্য স্বাদের ডার্ক চকলেট

রাখী চট্টোপাধ্যায়

চকলেট খেতে ভালোবাসেনা এমন মানুষ বোধহয় হাতে গুনেও পাওয়া যায়না। দামি গিফটের থেকেও একটা চকলেট মনকে অনেক বেশি শান্তি দেয়। কিন্তু কোথাও একটা খচখচ করে মনের মধ্যে, মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়। কোনো চিন্তা নেই, চিনির অংশটুকু বাদ দিয়ে উপভোগ করুন কোকো-বিনের আসল স্বাদকে, তাহলেই মন ও শরীর দুইই খুশ। আর এই করোনা অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর আমরা সবাই কমবেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। দুঃসময়ে মন ভালো রাখতে ডার্ক চকলেট কিন্তু বিশেষ উপযোগী। কী এমন আছে এতে যা খেলেই মন ভালো হয়ে যায়?১. এই ডার্ক চকলেট ডায়েটে ট্রিপটোফ্যান যোগ করতে সাহায্য করে যা হ্যাপি হরমোন সেরোটোনিনের প্রিকরসার।
২. এতে রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপযোগী। কারণ এটি স্ট্রেস হরমোন করটিসলের নিঃসরণ কমায় ও পজিটিভ মুড বহনকারী হরমোন ডোপামিনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।
৩. উপস্থিত ফিনাইল অ্যালালিন হল ‘লাভ কম্পাউন্ড’ যা মনে পজিটিভ অনুভূতি আনে।
৪. এছাড়াও ডার্ক চকলেট এন্ডোরফিন ক্ষরণ ও উদ্দীপিত করে যা স্ট্রেস কমায়।এ তো গেল মানসিক উপকারিতা, তবে আমাদের দেহের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও কিন্তু ডার্ক চকলেট উপকারী। কারণ এতে রয়েছে ১০০০এরও বেশি উপকারী বায়ো-কেমিক্যাল যৌগ। যেমন-
▪️এতে রয়েছে প্রচুর ফ্লাভোনওয়েড যা রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও খারাপ ফ্যাট LDL ও কমাতে সাহায্য করে।
▪️ উপস্থিত পলিফেনল প্রি-বায়োটিক হিসাবে কাজ করে গাট হেলথ ভালো রাখতে সাহায্য করে ও হজমশক্তি বাড়ায়।
▪️ উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যালগুলি দেহে তৈরি হওয়া ফ্রি-রেডিক্যাল নিষ্কাশনে সাহায্য করে ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়।
▪️বিভিন্ন ফ্লাভোনওয়েডগুলি অ্যান্টি-এজিং যৌগ হিসাবে কাজ করে।
৯. ডার্ক চকলেটের নিয়মিত ও পরিমিত গ্রহণ ‘সুইট টুথ’ নিয়ন্ত্রণ করে, যা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি কমায়।আমরা খুব সহজেই বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারি ডার্ক চকলেট। কোকো পাউডারের সঙ্গে খুব সামান্য পরিমাণ মধু ও লবণ, ভ্যানিলা এসেন্স, সঙ্গে নারকেল তেল- এই সামান্য কয়েকটি উপকরণকে একসাথে ফেটিয়ে নিয়ে (কম উষ্ণতায়) ফ্রিজারে জমিয়ে নিলেই তৈরি ডার্ক চকলেট।তবে বর্তমানে এর পুষ্টিগুণ বাড়ানোর জন্য নারকেল তেলের সাথে সানফ্লাওয়ার বা অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া দেওয়া যেতে পারে আন্টি-অক্সিড্যান্ট যুক্ত অরেঞ্জ ডাস্ট বা লেমন গ্রাস। আমন্ড ও ওয়ালনাটের কুচিও পুষ্টিগুণ বাড়ানোর জন্য খুব ভালো। তবে খেয়াল রাখতে হবে চকলেট পার্সেন্টেজ যেন ৭৫% এর কম না হয়, তাহলে কিন্তু সঠিক উপকারিতা আমরা নাও পেতে পারি।

লেখিকা হাওড়ার নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের সিনিয়ার ডায়েটিশিয়ান

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More