মেয়েদের জন্য মনসুন কালেকশন নিয়ে হাজির ফ্যাশন ডিজাইনার অদিতি ভট্টাচার্য

মনসুন কালেকশন নিয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার অদিতি ভট্টাচার্য কী বলছেন? অদিতি তাঁর নিজের স্টুডিও ‘শ্রেয়াস’-এ বসে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে দিলেন দ্য ওয়াল ‘ঘরে বাইরে’কে। পত্রিকার তরফে কথোপকথনে চৈতালি দত্ত…

আপনি সম্প্রতি মনসুন কালেকশন লঞ্চ করলেন। কর্মরতা মহিলাদের জন্য নিয়ে এলেন একেবারে হালফ্যাশনের অ্যাটেয়ার। এই কালেকশনের স্পেশালিটি কী?
অদিতি- আমি মূলত ফিউশন করি। মিক্স ম্যাচ করে কাজ করতে পছন্দ করি। এবারও তাই করেছি। ফিউশনের ক্ষেত্রে দু’ধরনের মেটেরিয়াল মিক্স ম্যাচ করেছি। কোনও পোশাকে কটকির সঙ্গে জয়পুরীর মিলিঝুলি। আবার কখনও সাউথ কটনের সঙ্গে জয়পুরীর কারিকুরি করা। সাধারণত যদি শুধু জয়পুরী ফ্যাব্রিক দিয়ে সিলোওয়েটস তৈরি করি সেক্ষেত্রে কালার ভ্যারিয়েশন থাকে। যেমন আউটফিটের সামনের দিক লাইট ইয়ালো, পেছন অথবা ব্যাক সাইডে লাইট পিংক কালার থাকে। আবার এই দুটো কালার স্লিভসে বিভিন্ন প্যাটার্নে প্লেসমেন্টে করা হয়। যেহেতু আমি পিওর কটন নিয়ে কাজ করি, তাই এই সিজনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেও একটা ভ্যাপসা গরম থেকেই যায়। সেক্ষেত্রে কটন ফ্যাব্রিকে স্বস্তি মেলে। আমাদের ভারতবর্ষের আবহাওয়ায় সুতির কোনও বিকল্প নেই। এি মনসুন কালেকশনে পোশাকের কালার কম্বিনেশন নিয়ে খেলা করেছি।
যেমন…
অদিতি- ইয়েলো রেড কম্বিনেশন দেখতে ভালো লাগে না। আর এই ধরনের কম্বিনেশন নিয়ে আমি কাজও করি না। কালার কম্বিনেশনের ক্ষেত্রে আমি অন্যরকম কাজ পছন্দ করি। যেমন ইয়ালো হোয়াইট, পিঙ্ক-ইয়ালো-গ্রে ইত্যাদি। তবে আমি সারা বছর সব ধরনের রঙ নিয়ে খেলা করি। কারণ এতে অনেক ভ্যারাইটি থাকে। তবে মনসুনে ভাইব্রান্ট কালার ভালো লাগে। সেক্ষেত্রে ব্লু, গ্রিন, পিংক ইত্যাদি কালার যেমন রয়েছে তেমনই দিনের বেলায় অফিস-গোয়িং মহিলাদের জন্য রয়েছে লাইট কালারের অ্যাটেয়ার।আপনার মনসুন কালেকশনে কী কী আউটফিট আছে ?

অদিতি- আমি মনে করি এই সিজনে দু-তিনটে লেয়ারের পোশাক এড়িয়ে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। বিশেষত আচমকা রাস্তায় বৃষ্টির জলে ভিজে গেলে সারাদিনে সেই পোশাক পরে থাকা এই কোভিড পরিস্থিতিতে একদমই ঠিক নয়। যাতে সর্দি-কাশি না লাগে সেই দিকটা সর্বপ্রথম এখন নজর দেওয়া জরুরি। আমি কাফতান ড্রেস তৈরি করেছি। আর এখন কাফতান ড্রেস ‘ফ্যাশনে ইন্’। এছাড়াও একটু অন্যধরনের কাটসের কটন প্যান্টের সঙ্গে ডিজাইনার লং-কুর্তি করেছি। যার মধ্যে ক্যাজুয়াল লুকের পাশাপাশি ফর্মাল অ্যাপ্রোচ আছে। যা খুব স্মার্ট, ট্রেন্ডি। এছাড়া স্নিকারের সঙ্গে পরার জন্য রয়েছে নি-লেংথ ড্রেস। যা এখন ‘ইন্ ফ্যাশন’। অফিস থেকে যদি ছোটখাটো কোনও অনুষ্ঠানে বা কোথাও যেতে হয় তার জন্য সিম্পল কাটসের ইন্দো ওয়েস্টার্ন ওয়ান পিসের সঙ্গে পরার জন্য মানানসই লাইট ওয়েট জ্যাকেট রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে জাম্পস্যুট, স্কার্ট ক্রপ টপ, শর্ট টপ ইত্যাদি।আর যাঁরা সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পরেন না তাঁদের জন্য বিকল্প কী ভেবেছেন?
অদিতি- দেখুন, শাড়ির তো কোনও বিকল্প হয় না। আর দোপাট্টা দিয়ে সালোয়ার কামিজ পরলে যেকোনও মহিলাকেই খুব ‘গ্রেসফুল’ লাগে। তবে এই সিজনকে মাথায় রেখে বলব বর্ষার সময় দোপাট্টা ব্যবহার না করে কামিজের ওপর কটনের ফ্যাশনেবল জ্যাকেট পরা শ্রেয়। কারণ রাস্তায় চলার পথে জলকাদায় হঠাৎ গায়ের থেকে ওড়না খসে পড়ে বিপত্তি ঘটতে পারে। সে কারণে টিপিক্যাল কামিজের পরিবর্তে একটু অন্যরকম কাটসের লং কুর্তি করেছি। কুর্তির কোনও জায়গায় প্লেসমেন্টে ‘প্যাচওয়ার্ক’ এবং ‘ইয়ক’ রয়েছে। আর এই ‘ইয়ক’এ রকমারি ‘এলিমেন্টস’ ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে স্লিভসে নতুনত্ব প্যাটার্ন আছে। যা বাজার চলতি থেকে একেবারেই আলাদা। আর সালোয়ারের বদলে একটু অন্যধরনের স্মার্ট লুকে কটনের প্যান্ট করা হয়েছে। যে কোনও বয়সের মহিলারাই স্বচ্ছন্দবোধ করতে পারেন। একজন ডিজাইনার হিসেবে আমি বিশ্বাস করি তুমি যে পোশাক পরবে তার মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য ও খুশির অনুভুতি যদি থাকে সেটাই হল তোমার স্টাইল।

পোশাকে কী ধরনের ফ্যাব্রিক ব্যবহার করেছেন?

অদিতি- আমি মূলত পিওর কটন নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। সেক্ষেত্রে পোশাকে সব ধরনের হ্যান্ডলুম ছাড়াও লিনেন, কটকি, মলমল, সাউথ কটন, লক্ষৌ চিকনকারি, জয়পুরী ব্যবহার করেছি। আর আমার পোশাকের বিশেষত্ব হল প্রতিটি পিসের নিজস্বতা রয়েছে। একটি পোশাক অপরটি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং স্টাইলিশ। রোগা থেকে পৃথুলা প্রত্যেকের পোশাক তাঁদের বয়স, পেশা, শারীরিক গঠনকে মাথায় রেখে কাস্টমাইজড করি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More