টলিউডের ‘ইস্কাবন’এর টেক্কা এবার সঞ্জু

তরুণ লেখক রাধামাধব মণ্ডলের ‘রেড স্টারের ক্যাম্প’ গল্প অবলম্বনে সম্প্রতি শেষ হয়েছে ‘ইস্কাবন’ ছবির শ্যুটিং। রেড স্টারদের ডেরার জীবন আর তাঁদের চারপাশের উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অব্যক্ত মিষ্টি প্রেমকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে ছবির গল্প। এই ছবির নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সঞ্জু। এস এম ডি এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত এই ছবির প্রযোজক শেখ আব্দুল লালন। পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মন্দীপ সাহা। এই ছবির হাত ধরেই টলিউডে অভিষেক হল সদ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বি.টেক পাশ করা সঞ্জুর। এক একান্ত আলাপচারিতায় নবাগত সঞ্জু নিজেই জানালেন অভিনয়ে আসাকে কেন্দ্র করে তাঁর জীবনের অনেক অজানা গল্প। ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে নবাগত নায়কের সঙ্গে আড্ডা দিলেন চৈতালি দত্ত…ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেই ছবির জগতে পা রাখা তাও আবার নায়কের চরিত্রে, ব্যাপারটা নেহাত কাকতালীয় নাকি আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল?
সঞ্জু- (হেসে) কাকতালীয় বলতে পারেন।
যেমন…
সঞ্জু- খুব ছেলেবেলা থেকেই অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল। নায়ক হব এই চিন্তাভাবনা তো ছিলই। মাঝেমধ্যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নায়কের মতো নানা অঙ্গভঙ্গিমা করতাম। কখনও আবার কায়দা করে ছবি তুলতাম।এছাড়া স্কুলে নাটক, যাত্রাতেও নিয়মিত অভিনয় করেছি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় আমাদের ইনস্টিটিউশনে থিয়েটার ড্রামা করতাম। এটা আমাদের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির মধ্যে ছিল। যেখানে চার বছর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি পাওয়ার জন্য টোট্যাল একশো পয়েন্ট কালেক্ট করতে হয়। তার জন্য বিভিন্ন বিষয় আছে। আমি থিয়েটার ড্রামা করতাম। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত টলিউড স্টুডিওতেও যাতায়াত করতাম। সেখানেই একদিন পরিচালক মন্দীপ সাহার সঙ্গে আমার আলাপ হয়। আমাদের ইনস্টিটিউশনের থিয়েটার ড্রামা দেখার জন্য আমি ওঁকে আমন্ত্রণ জানাই। উনি একদিন ইনস্টিটিউশনে আসেন। আমার অভিনয় দেখে পছন্দ হয়। তারপরেই ওঁনার পরিচালিত শর্ট ফিল্ম ‘লুজার’-এ অভিনয় করি। এ বছরে যখন ফোর্থ ইয়ারে ফাইনাল পরীক্ষা দেব, তার ঠিক আগেই পরিচালক মন্দীপ সাহা আমাকে ফোন করে বলেন যে উনি বড় পর্দার জন্য ছবি করছেন। সেই ছবিতে আমাকে নায়কের ভূমিকায় কাস্ট করতে চান। ওঁর সঙ্গে বসেই ছবির গল্প শুনি। একেবারে অন্য ঘরানার গল্প। অর্ণব ভৌমিক ও অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়ের লেখা চিত্রনাট্য ও সংলাপ বেশ আকর্ষণীয়। চরিত্রটিও একেবারে অন্য রকমের। গল্প শুনেই ছবি করতে রাজি হয়ে যাই। সেইসঙ্গে ছবিতে অভিনয় করার ব্যাপারে বাবা, মার কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন মেলে।
ইস্কাবন ছবিতে আপনার অভিনীত চরিত্র কেমন তা যদি সংক্ষেপে বলেন…
সঞ্জু- আমি
আধা-সামরিক বাহিনীর ক্যাপ্টেন শিব মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছি। অত্যন্ত চাপা স্বভাবের মানুষ শিব, যে দেশের স্বার্থে সবকিছু করতে পারেন। শিবের কাছে মগজাস্ত্রই হল মূলধন। আবার সে নিজের ভালোবাসার কথা মুখের ওপর জাহির করতেও পিছপা হয় না। চরিত্রটির মধ্যে ডাবল শেডস আছে।এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওয়ার্কশপ কিছু করেছেন কি?
সঞ্জু-
আসলে আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত জন এবং গ্রামের বেশ কিছু মানুষ এই পেশায় রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে চলন-বলন, মুভমেন্ট, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে শুরু করে কিভাবে স্যালুট করতে হয়, আর্মিদের অনুশাসন ইত্যাদি বিষয়ে দেড় থেকে দুমাস পর্যালোচনা করেছি।শিব আর সঞ্জুর মধ্যে কতটা মিল ও অমিল রয়েছে?
সঞ্জু- সেভাবে মিল না থাকলেও শিবের মতো সঞ্জু তার লক্ষ্যে স্থির। তবে সঞ্জু অনেক বেশি প্রাণখোলা, উদার স্বভাবের। সঞ্জু তার ভালোবাসার কথা শিবের মতোই অকপটে বলতে পারে।
সঞ্জুর গার্লফ্রেন্ড আছে নাকি?
সঞ্জু- (খুব লাজুক হেসে) এখন বলা যাবেনা। সদ্য আমি টলিউডে পা রেখেছি। ওটা ব্যক্তিগত। এখন বরং ওই প্রসঙ্গ থাক।ছবির প্রথম দিনের প্রথম শটের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সঞ্জু- একটু নার্ভাস ছিলাম। আমার প্রথম শট সুমিত গাঙ্গুলির সঙ্গে ছিল। আমি যে ভয় পেয়েছিলাম সেটা উনি বুঝতে পেরেছিলেন। ছোটো থেকে ওঁর অভিনয় দেখে বড় হয়েছি। উনি আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, ‘ভয় পাচ্ছিস কেন? আমরা তো নিজেদের লোক। চল, রিহার্সাল করে নি।’ তারপর শটের আগে দু তিনবার রিহার্সাল করেছিলাম। ক্রমশ আমার জড়তা কেটে গেছিল। সুমিত গাঙ্গুলির চোখ বড্ড মায়াবি। আমি খুব ভাগ্যবান যে বড় পর্দার প্রথম ছবিতেই খরাজ মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম গাঙ্গুলি, সুমিত গাঙ্গুলি থেকে শুরু করে আজকের সৌরভ দাস, অনামিকা প্রমুখের সঙ্গে অভিনয় করেছি।আপনি পড়াশোনা কোথায় করেছেন?
সঞ্জু- আমার আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার গ্যাঁরাইগ্রামে। আমি পূর্ব বর্ধমান জেলার গ্যাঁরাই হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছি। এরপর হাওড়া খলৎপুর আল আমিন মিশন থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (বি-টেক) নিয়ে এ বছরে ডিগ্রি অর্জন করেছি।
আপনার বাড়িতে কে কে আছেন?
সঞ্জু- এখন তো আমি কাজের সূত্রে কলকাতায় থাকি। আমার গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা, ভাই, বোন থাকে। আমার বাবা কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা করেন। উনি গভর্নমেন্ট কন্ট্রাকটর।
অবসর সময় আপনার কাটে কীভাবে?
সঞ্জু- গল্পের বই পড়ি। সময় পেলেই পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলি।
আপনার প্রিয় সাহিত্যিক কে?
সঞ্জু- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকুমার রায়।
আর প্রিয় ক্রিকেটার কে?সঞ্জু- ভারতীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি।
আপনার ফিটনেস ফান্ডা 
সঞ্জু- আমি ভীষণ ফিটনেস ফ্রিক। ‘ইস্কাবন’ ছবির জন্য আমাকে পরিচালকের কথা অনুযায়ী ওজন বাড়াতে হয়েছিল। এখন শ্যুটিং শেষ। তাই আবার ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় আছি। ফলে হার্ডকোর ডায়েট ফলো করছি। প্রতিদিন জিমে যাই। নো কার্বোহাইড্রেট। শুধু প্রোটিনের ডায়েটে দাঁড়িয়ে আছি।স্বপ্নের কোন নায়কের সঙ্গে আগামী দিনে অভিনয় করতে চান?
সঞ্জু- আমার প্রিয় নায়ক উত্তম কুমার। ওঁর প্রচুর ছবি আমি অবসর সময় দেখি। এছাড়া আমার স্বপ্নের নায়ক অমিতাভ বচ্চন। তবে বাংলায় বুম্বাদার সঙ্গে অভিনয় করতে চাই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More