মাউন্টেন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এবারে ডিজিটালে, কবে কোথায় দেখা যাবে? জেনে নিন

0

দার্জিলিঙে দাওয়াইপানি উপত্যকায় হিল ক্যাসেল হোম স্টের অঙ্গনে এবারে বসেছিল মাউন্টেন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল সিজন টু-এর জমজমাট আসর। ২০২০ মার্চ মাসের ঠিক লকডাউনের আগে ইস্ট সিকিমের আগোমলোকে মনাস্ট্রির মাঠে প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে এই অভিনব পার্বত্য সংগীত উৎসবের। এই মিউজিক ফেস্টের মূল উদ্দেশ্য সমতল এবং পাহাড়ের শিল্পীদের নিয়ে একজোটে কাজ করা, আর সেইসঙ্গে ট্যুরিজমকেও উৎসাহিত করে তোলা। হিল ক্যাসেল হোম স্টে ছাড়াও এবছর গানের আসর বসেছিল দার্জিলিঙের শতাব্দিপ্রাচীন রেস্তরাঁ গ্ল্যানেরিসেও। কেমন ছিল সেই গানের আসর! লিখলেন চৈতালি দত্ত।এই অভিনব পাহাড়ি জলসায় কলকাতার শিল্পীদের সঙ্গে অবলীলায় গলা মেলালেন পাহাড়ি অঞ্চলে শিল্পীরা, ঝড় তুললেন গিটারে। তবে এ বছরের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দাওয়াইপানি উপত্যকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অপরূপ পাহাড়ের কোলে সূর্য ওঠা থেকে সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত পরতে পরতে চুঁইয়ে পড়েছিল সুরের মূর্ছনা।ভোরের সুরে কখনও সেতারের ঝংকার, পাহাড়ি ধুন, আবার কখনও বেহালা সেতারের যুগলবন্দিতে বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকীকে বিশেষভাবে স্মরণ করা। নেপালি গান, যন্ত্রসংগীত, মিউজিক থেকে বাংলা ব্যান্ডের গান- সব মিলেমিশে এবারের গানের উদযাপন ছিল বেশ চমকে ভরা।অনুষ্ঠানের আয়োজক সুদীপ্ত চন্দ বললেন,”সংগীতের বৃহত্তর স্বার্থে প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামাঞ্চলে অনেক লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সমতলের শিল্পীদের সমন্বয়ে সুরের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই হল এই ফেস্টিভ্যালের মূল উদ্দেশ্য। আমার বহুদিনের ইচ্ছে ছিল পাহাড়ের কোলে এরকম একটা গানের উৎসব করার। বিভিন্ন জায়গার থেকে মিউজিশিয়ানদের আসার ফলে নানা ধারার সংগীতের চর্চা হয় এখানে। এই ধরনের সুরের উৎসব আমি গত বছর থেকে শুরু করেছি। গত বছরে গ্রাউন্ড ইভেন্ট হয়। ফলে নতুনত্বের স্বাদ পেতে প্রচুর দর্শক শ্রোতা এখানে জমায়েতও হয়েছিলেন। এমনকী কলকাতার বহু শিল্পী অংশগ্রহণ করেছিলেন এই উৎসবে। কিন্তু এ বছরে কোভিড কিছুটা স্বাভাবিক’ হলেও অনুষ্ঠান করা সম্ভব হল না। পাহাড়ের নানা প্রত্যন্ত জায়গায় ঘুরে প্রতিভা অন্বেষণ করে এ বছরে এই অনুষ্ঠানটা ভার্চুয়ালি করা হয়েছে।’ চারিদিকে কফি এবং বেকারির প্রোডাক্টের গন্ধে এক রোমান্টিক আবর্তে কখনও বেহালায় বেজে ওঠে রূপম ইসলামের গানের সুর, তো কখনও গানে গানে ফিরে আসে কিশোর কুমার থেকে দিল চাহতা হ্যায়। এই গানের আসর জমে ওঠে দার্জিলিংয়ের ম্যালে যাওয়ার পথে। এবছরের স্থানীয় মিউজিশিয়ানরা ছাড়াও নেপাল ও কলকাতার শিল্পীরা মিলিয়ে মোট ১৬ জন অংশগ্রহণ করেন মাউন্টেন মিউজিক ফেস্টিভ্যালে। নেপালের ট্র্যাডিশনাল মিউজিশিয়ানদের বাজানো সারেঙ্গীর সুর শুনতে পথ চলতি উৎসুক শ্রোতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।ভারতীয় রেলকে বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন করা হয় অনুষ্ঠানে।  ক্যামেরাবন্দি পুরো অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে আগামী ১১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসে ‘দ্য ড্রিমার্স’-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে রাত ৯ টায়। অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন অরিত্র মুখোপাধ্যায়, রিক বিশ্বাস, নীলাঞ্জন সাহা, ঋতবান গুহ, সুদীপ্ত চন্দ । সঙ্গতে বেহালায় সৌরজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, সেতারে শুভম ঘোষ। এছাড়াও এ বছরে এই উৎসবের বড় চমক হল সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি নিবেদনের দায়িত্বে আছেন শ্যামসুন্দর কোম্পানির জুয়েলার্স। সহযোগিতায় খুকুমণি সিঁদুর আলতা, সুরজিৎ কালা, সেরাম গ্রুপ, জেপি ট্রাভেলস, ভিসটেল ইনফোটেনমেন্ট, ড্যাফোডিল ইনকর্পোরেট, গ্লেনারিজ প্রমুখ।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.