বয়স ধরে রাখতে স্পর্শহীন জেড স্টোন ফেসিয়াল

গৌরী বোস

হাতের স্পর্শ ছাড়া ‘জেড স্টোন’ ফেসিয়াল বিউটি ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে অসাধারণ এক পদক্ষেপ। করোনার কারণে সব যেন তছনছ হয়ে গেছে। পাল্টে গেছে আমাদের জীবনযাত্রা। সাবধানতা হিসেবে সংক্রমণ রুখতে মাস্ক পরা, সাবান স্যানিটাইজার ব্যবহার, একে অপরের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে ‘জেড স্টোন’ ফেসিয়াল অনেক বেশি কার্যকর আর নিরাপদ।
‘জেড স্টোন’ ফেসিয়ালের বিশেষত্বই হল, এতে হাত দিয়ে ফেসিয়াল ম্যাসাজ করা হয় না। করোনার কারণে সরাসরি আঙ্গুলের স্পর্শে (স্যানিটাইজার ব্যবহার করার পরও) অনেকেই ভয় পাচ্ছেন এখন। আর তাই নানান সমস্যার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ফেসিয়াল করাতে পারছেন না। ফলে ত্বক জৌলস হারাচ্ছে, বার্ধ্যকের ছাপ পড়ছে, চোখের পাশে ‘ক্রোজ ফিট’ অর্থাৎ ফাইন লাইনস্‌, স্যাগিং (শিথিলতা)-এর মতো সমস্যা সব থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। চিবুকের নীচ থেকে চোয়ালের নীচটা শিথিল হয়ে যাচ্ছে।উপযুক্ত সময়ে যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে এটা রিপেয়ার করা বেশ শক্ত কাজ। অয়েলি স্কিন সংক্রান্ত সমস্যা যেমন র‍্যাশ, পিম্‌পলস্‌ ইত্যাদি তো আছেই সঙ্গে ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। ‘মাস্ক’ পরার কারণে সবরকম ত্বকের সমস্যা হু হু করে বাড়ছে। একেকটা ত্বকের একেকরকম প্রবলেম দেখা দিচ্ছে। নানান ক্ষেত্রে নানান সমস্যায় পৃথিবী জুড়ে হুলুস্থুল। করোনাকে প্রতিরোধ করে কতটা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখা যায় তার জন্য সমস্ত স্তরেই চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা।ফেসিয়ালের জন্য ‘জেড’ স্টোনের একটা সেট হয়। এতে নানা রকম শেপের স্টোন থাকে তো বটেই তাদের ওজনও হয় আলাদা আলাদা। থাকে ম্যাসাজ রোলার ২/৩ রকমের, যাদের সাইজ হয় আলাদা।‘লিম্ফেটিক ড্রেনেজ পয়েন্ট’- সাদা বাংলায় বোঝাতে গেলে বলতে হয় ময়লা পরিষ্কার করার সময়ে আমরা সমস্তটা ধুয়ে মুছে টেনে নিয়ে গিয়ে নর্দমায় ফেলে দিই অর্থাৎ যেখানে সেখানে টেনে না নিয়ে গিয়ে যে দিকে ড্রেন ও তার মুখ (নর্দমা) থাকে সেখানেই নিয়ে গিয়ে তার ভেতর ফেলি। সেরকম মুখের বিভিন্ন জায়গায় এইরকম নর্দমা থাকে, যাকে ‘ড্রেনেজ পয়েন্ট’ বলা হয়। লিম্ফের ভেতর দিয়ে ম্যাসাজের মাধ্যমে যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ থাকে তা ড্রেনেজ পয়েন্টে নিয়ে গিয়ে ড্রেন করা হয়।
ত্বককে সুস্থ সুন্দর রাখতে বিশেষ ‘লিম্ফেটিক’ ম্যাসাজ সব থেকে আধুনিক ও এফেক্টিভ। বিশেষ করে এজিং স্কিনের জন্য এটা ভীষন উপকারি ও কার্য্যকর। এছাড়া প্রোগ্রামিং-এর ক্ষেত্রে সবসময় ‘জেড’ স্টোন ব্যবহার হয়ে থাকে।‘ট্রিটমেন্ট’ ও ‘প্রোগ্রাম’- রিংকলস্‌, স্যাগিং, প্রিম্যাচিওর এজিং, গ্লো-লেস স্কিন, ব্লেমিস্ট স্কিন, লাইফ-লেস (নির্জীব) স্কিন ইত্যাদি বহুরকমের সমস্যা, সাথে অয়েলি স্কিন সংক্রান্ত প্রচুর সমস্যা যা সকলের জানা আছে। সর্ব্বোপরি যে সমস্যা ৯৯% তা হল সানবার্ন ও ট্যানের সমস্যা। এই সমস্ত প্রবলেমের চিকিৎসা করে ত্বককে সুস্থ করার নামই ‘ট্রিটমেন্ট’
আর যে সমস্ত সমস্যার কথা বলা হল অর্থাৎ এক কথায় যাবতীয় সমস্যার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে আগে থেকেই সাবধানতা নেওয়াকে ‘প্রোগ্রাম’ বলে।
প্রোডাক্ট হিসাবে ব্যবহার করা হয় ভারতের সব থেকে পুরনো ও বিখ্যাত হার্বাল কম্পানির ফেসিয়াল প্রোডাক্ট রেঞ্জ যেমন স্টেমসেল, টেলোমেয়ার, জেম, মেটাল, ডায়মন্ড, পার্ল, অক্সিজেন, হিমালয়ান হার্বস্‌, স্যাফ্রন, চকলেট, নিম ইত্যাদি ইত্যাদি।  এক্ষেত্রে একটা কথা বলে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে এই কোম্পানির সমস্ত প্রোডাক্টই ‘অরিজিনাল’ হতে হবে। এগুলো ওষুধের মতই, জাল ওষুধে যেমন ক্ষতিই হয় এক্ষেত্রেও উপযুক্ত জিনিস ব্যবহার না করলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ১০০ ভাগ। ফলাফল তক্ষুনি বোঝা যায় না। আস্তে আস্তে ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে যা দীর্ঘমেয়াদী।

লেখিকা বিশেষজ্ঞ এস্থেটিশিয়ান, মেক-আপ ডিজাইনার ও এডুকেটর।
যোগাযোগ- শাকম্ভরী বডি এ্যান্ড বিউটি ক্লিনিক
২০৩ এ.পি.সি. রোড, শ্যামবাজার
মোবাইল : 91634 14443 

 

স্ট্রেস থেকে চুল উঠছে? ঘরে বসেই জেনে নিন সমাধানের উপায়

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More