মেয়েদের হাতে মোবাইল না দিলে ধর্ষণ কমবে, মন্তব্য মহিলা কমিশনের সদস্যের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশে ধর্ষণের ঘটনা এত বাড়ছে কেন? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজ্যের মহিলা কমিশনের সদস্য মিনা কুমারীকে। তিনি যে জবাব দিয়েছেন, তাতে চমকে উঠেছেন অনেকে। মিনা কুমারী বলেছেন, “মেয়েদের হাতে মোবাইল দেওয়া উচিত নয়।” কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন, “মোবাইল হাতে পেলেই মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে। পরে তাদের সঙ্গে পালিয়ে যায়।” এছাড়া তিনি যুবতী মেয়েদের ওপরে পুলিশকে নজর রাখার কথা বলেন।

মিনা কুমারীর কথায়, “আমি বাবা-মায়েদের কাছে অনুরোধ করছি, মেয়েকে মোবাইল দেবেন না। যদি দেন, নিয়মিত মোবাইল পরীক্ষা করবেন। মায়েদের অবহেলার জন্যই মেয়েদের বিরুদ্ধে এত অপরাধ হয়।” পরে তিনি বলেন, “মেয়েদের ওপরে নজর রাখা বাবা-মায়েদের কর্তব্য। মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে, কোন ছেলেদের সঙ্গে গল্প করছে, সেদিকে বাবা-মায়েদের নজর রাখা উচিত। মেয়েদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা উচিত। মেয়েরা মোবাইলে ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে। তারপর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।”

এই মন্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হলে মিনা কুমারী বলেন, “আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। আমি বলতে চেয়েছিলাম, বাবা-মায়েরা যেন লক্ষ রাখেন, তাঁদের মেয়েরা পড়াশোনার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে নাকি মোবাইল ব্যবহার করে অন্য কিছু করছে। আমি কখনই বলিনি যে, মেয়েরা মোবাইল ব্যবহার করলেই ছেলেদের সঙ্গে পালিয়ে যাবে।” মিনা কুমারী বলেন, তিনি এমন অনেক ঘটনার কথা জানেন যেক্ষেত্রে মেয়েরা মোবাইলে পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তাই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

মিনা কুমারীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে যাঁরা সরব হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আচ্ছেন দিল্লির মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল। তিনি বলেন, “না ম্যাডাম, মেয়েরা মোবাইল ব্যবহার করে বলেই ধর্ষিত হয়, একথা ঠিক নয়। এর জন্য সামাজিক পরিস্থিতি দায়ী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মহিলা কমিশনের সদস্যদের সংবেদনশীল হওয়া উচিত।”

স্বাতী মালিওয়াল টুইট করে বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মহিলা কমিশনের সদস্যদের একদিনের জন্য দিল্লিতে পাঠানো হোক। তাঁরা দেখে যান, আমরা কীভাবে কাজ করি।”

কয়েকমাস আগে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য চন্দ্রমুখী দেবীকে পঞ্চাশোর্ধ এক মহিলার গণধর্ষিতা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেছিলেন, মহিলা সন্ধ্যায় না পথে বেরোলে ধর্ষিত হতেন না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More