অমূল্য রতন! তেলেঙ্গানায় মাটি খুঁড়তেই উঠে এল ঘড়া ভর্তি সোনার গয়না, এলাকায় চাঞ্চল্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, “যেখানেই দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিও তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।” প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্যই যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়ে গেল তেলেঙ্গানায়। জমি খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে এল কেজি কেজি সোনা রূপোর গয়না।

ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার জানগাঁ জেলার পেমভারতী গ্রামে। স্থানীয় এক জমিতে খোঁড়াখুঁড়ি চালাতে গিয়ে সোনাদানা বেরিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে। গয়নাগুলি ওজন করে দেখা গেছে তাতে মোট ১৮৯.৮২০ গ্রাম সোনা এবং ১.৭২৭ কেজি রূপো রয়েছে। সমস্তটাই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের অফিসে।

সূত্রের খবর, নরসিমহা নামের জনৈক ব্যবসায়ীর জমি থেকে মূল্যবান গয়নাগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা। পেমভারতী গ্রামে তাঁর ১১ একর জমিতে বাড়িঘর বানানোর জন্য সম্প্রতি তিনি খোঁড়াখুঁড়ি চালাচ্ছিলেন। তাতেই উঠে এসেছে এই ‘অমূল্য রতন’।

সোনা এবং রূপোর সমস্ত গয়নাগাটি একটি তামার পাত্রের মধ্যে রাখা ছিল। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে প্রায় দুই ফুট গভীরে ওই পাত্রটি খুঁজে পান খননকারীরা। জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খবর দেন নরসিমহা।

এ প্রসঙ্গে জানগাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিসাইডিং অফিসার রাজেন্দ্র প্রসাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, “ঘটনাটি জানতে পেরেই আমরা মূল্যবান জিনিসগুলি উদ্ধার করি এবং কালেক্টরেটের কাছে পাঠিয়ে দিই।” ওই নির্দিষ্ট জমিতে প্রশাসনের আদেশ ছাড়া আপাতত আর কোনও খননকার্য যাতে চালানো না হয়, সে বিষয়েও জমির মালিককে সতর্ক করেছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ।

সূত্রের খবর, শুধু সোনা আর রূপোই নয়, জমি খুঁড়ে যে তামার পাত্র পাওয়া গেছে তাতে মিলেছে বেশ খানিকটা চুনীও। প্রায় ৬.৫ গ্রাম ওজনের লাল চুনী পাওয়া গেছে ওই জমি থেকে। উদ্ধার হওয়া তামার পাত্রটির মোট ওজন ছিল ১.২০০ কেজি।

ঠিক কী কী গয়না পাওয়া গেছে? স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের খবর, তামার পাত্রে ছিল ২২টি সোনার কানের দুল (৭৭.২২০ গ্রাম), ৫১টি সোনার মালা (৫৭.৮০০ গ্রাম), ১১টি সোনার মঙ্গলসূত্র (১৭.৮০০ গ্রাম) ও অন্যান্য কিছু গয়না। এছাড়া, ২৬টি রূপোর দন্ড (১.২২৭ কেজি), ৫টি রূপোর চেন (২১৬ গ্রাম) এবং ৪২ গ্রামের অন্যান্য রূপোর গয়নাও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের অনুমান, এই গয়নাগাটি প্রাচীন কাকতীয় রাজবংশের সময়কালের। খননকার্য চালিয়ে গেলে আরও মূল্যবান ধনসম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More