স্তন ক্যানসার নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়, চিকিৎসার চেয়েও জরুরি সচেতনতা: ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী

ক্যানসার শব্দটার সঙ্গেই আজও জুড়ে আছে আতঙ্ক, অসহায়তা। অথচ ক্যানসার আর পাঁচটা অসুখের মতো পুরোপুরি না সারলেও, ক্যানসার-মুক্ত হয়ে দিব্যি সুস্থ থাকা যায়। তবে তা জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ধৈর্য্য, বিশ্বাস। স্তন ক্যানসার এমনই এক ধরনের ক্যানসার। অনেকেই মনে করেন, এই ক্যানসারে কারও আক্রান্ত হওয়া মানে তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের সকল মহিলাই বোধহয় আক্রান্ত হবেন। কেউ আবার মনে করেন, স্তন ক্যানসার মানেই মৃত্যুর পরোয়ানা। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, ভুল ধারণাকে অতিক্রম করে কেবল বিজ্ঞানসম্মত ভাবে সচেতন হতে পারলেই স্তন ক্যানসারের বিপদ অনেকাংশে এড়ানো যায়। অক্টোবর মাস এই স্তন ক্যানসার সচেতনতারই মাস। এই মাসে স্তন ক্যানসার নিয়ে বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি তিয়াষ মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি অঙ্কোসার্জেন ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী। 
ব্রেস্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিশ্বের নিরিখে ভারতীয় মহিলারা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন?

বিশ্ব-সমীক্ষায় দেখা যায়, সারা পৃথিবীর ১১ জন মহিলার মধ্যে ১ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ভারতে এই সংখ্যাটাই কিন্তু ৬ জনের মধ্যে এক জন। আবার মহিলাদের ক্যানসারের ক্ষেত্রে এ দেশে দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রেস্ট ক্যানসার। তার আগে, সবচেয়ে বেশি মেলে জরায়ুমুখের ক্যানসার। আবার প্রতি দুজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত মহিলার মধ্যে এক জন মারা যান এ দেশে। ফলে স্তন ক্যানসার যে খুব সহজ অসুখ নয়, তা সমীক্ষাতেই স্পষ্ট।

Breast Cancer Facts - National Breast Cancer Foundation

শহরাঞ্চলের মহিলাদের মধ্যে কি স্তন ক্যানসার বাড়ছে? এর কারণ কী?

ভারতের ক্ষেত্রে দেখা যায়, শহরবাসী মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। আবার গ্রামের দিকে সার্ভিক্সের ক্যানসার বা জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। এর কারণ গ্রামের মহিলারা পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে আপস করতে বাধ্য হন অনেক সময়। আবার শহরের মহিলাদের লাইফস্টাইল সুস্বাস্থ্যকর না হওয়ায় তাঁরা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্তন ক্যানসার এ দেশের মহিলাদের জন্য কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?

পাশ্চাত্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এ দেশে অনেক কম বয়সে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। ৩০-৪০ বছরের রোগী আকছার পাওয়া যাচ্ছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে এই বয়সটা গড়ে ৫০-৬০। শুধু তাই নয়, এ দেশের মহিলাদের স্তন ক্যানসারের বিষয়টি অনেক বেশি আগ্রাসী। দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি। এর একটা মূল কারণ অবশ্য সচেতনতার অভাব। অসচেতনতার কারণেই অনেক দেরি করে ধরা পড়ে স্তন ক্যানসার। তখন চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায়ই। এই সচেতনতার জন্যই অক্টোবর মাসকে স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়।

A Battle That Touches Us All: Breast Cancer Awareness Month 2019 | GVEC

স্তন ক্যানসারের কারণগুলি কী?

দুরকম কারণ থাকে, যা পরিবর্তনশীল আর অপরিবর্তনশীল। পরিবর্তনশীল কারণগুলির মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হল, খারাপ লাইফস্টাইল। জাঙ্কফুড খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা—এসব কারণে শরীরে ফ্যাট বাড়ছে, যার ফলে বাড়ছে ইস্ট্রোজেন হরমোন। এই হরমোন স্তন ক্যানসারের একটি অন্যতম কারণ। আরও একটি বিষয় হল, এখন মহিলারা অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে, চাকরিতে সেটল করে তার পরে বিয়ে করছেন ও পরিবারের কথা ভাবছেন। অনেকে সন্তান ধারণ করছেন না, অনেকে সন্তানধারণ করলেও বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না। কম বয়সে সন্তানধারণ করা, বুকের দুধ খাওয়ানো—এগুলো সবই ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধী ফ্যাক্টর। এর কোনওটাই নিয়ম করে ঠিক করার বিষয় নয়। বিয়ের বয়স বা সন্তানধারণের বাধ্যতা বাইরে থেকে ঠিক করে দেওয়া যায় না। তবে এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ওভারিয়ান ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে জোট বাঁধতে হবে রোগী, পরিবার, সমাজকে

অন্য কারণটি হল অপরিবর্তনশীল, যেটা জেনেটিক। জেনেটিক মানে এই নয় যে মায়ের হলে মেয়ের হবে। তবে কারও হলে, তার পরিবারের পরের প্রজন্মে সম্ভাবনা থেকে যায় স্তন ক্যানসারের। ফলে চল্লিশ বছর আগে পর্যন্ত পরিবারে কারও যদি স্তন ক্যানসার থাকে, তাহলে সে পরিবারের মেয়েদের অন্তত ৩০ বছর বয়স থেকে সচেতন হওয়া উচিত, পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Breast Cancer Detection & Diagnosis Methods - Cytecare Hospitals

স্তন ক্যানসার নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এ নিয়ে কী বলবেন?

সচেতনতার একটা অংশ কিন্তু ভুল ধারণা ভাঙা, অপপ্রচার দূর করা। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, পরিবারে কারও স্তন ক্যানসার হলে সে পরিবারের অন্য মেয়েদেরও স্তন ক্যানসার হবে। কিন্তু সত্যিটা হল, জেনেটিক্যালি ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা ৫ থেকে ১০ শতাংশ মাত্র। আরও একটা ধারণা আছে, ব্রেস্ট ফিডিং করানোর কারণে ব্রেস্টের কাটা-ঘা থেকে ক্যানসার হয়। এটা একেবারে উল্টো কথা। ব্রেস্ট ফিডিং করালে বরং ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো যায়। এছাড়াও অনেকে মনে করেন, ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়া মানে মৃত্যুর পরোয়ানা লেখা হয়ে গেল। এমনটা মোটেও না। বরং স্টেজ ওয়ান বা টু-তে ধরা পড়লে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগী বেঁচে যান।

স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ার পিছনে রয়েছে ‘অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এফেক্ট’। এই বিষয়টা কী?

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মা এবং পরিবারের আরও এক সদস্য ব্রেস্ট ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসারে মারা যান। সে জন্য অ্যাঞ্জেলিনা নিজের বিআরসিএ জিন পরীক্ষা করেন। এই জিন পরীক্ষা করে জানা যায়, তাঁর এই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কতটা। দেখা যায়, তাঁর রিপোর্ট আসে পজিটিভ। অর্থাৎ ঝুঁকি রয়েছে। এর পরেই অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ক্যানসার হওয়ার আগেই নিজের দুটি স্তন এবং ওভারি, জরায়ু বাদ দিয়ে দেন। আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন এভাবে।

Angelina Jolie y la doble mastectomía para combatir el cáncer de mama, ¿en qué consiste el procedimiento? | Nueva Mujer

এই ঘটনা সামনে আসার পরেই সারা পৃথিবীতে বিআরসিএ টেস্টিং-এর প্রবণতা বেড়ে যায়। সক্কলে পরীক্ষা করাতে শুরু করে। এমনটা অপ্রয়োজনীয়। সুযোগ আছে বলেই টেস্ট করাতে হবে, এমনটা কোনও কাজের কথা নয়। পরীক্ষা করারও কিছু প্রাথমিক শর্ত আছে। প্রথমত, পরিবারে কারও এই ক্যানসার না থাকলে জেনেটিক টেস্টিংয়ের কোনও দরকারই নেই। কোনও কিছু মনে হলে, পারিবারিক ইতিহাস থাকলে আগে ডাক্তারের কাছে যান। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।

নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা কারা করবেন? কীভাবেই বা করবেন?

পিরিয়ড শেষ হওয়ার চার-পাঁচ দিন পরে এই পরীক্ষা করতে হবে। পিরিয়ড চলাকালীন করলে এমনিই কিছু অস্বাভাবিকতা ঠেকতে পারে, তবে তা ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাই পিরিয়ডের লাস্ট ডেট নোট করে, তার চার-পাঁচ দিন পরে পরীক্ষা করুন। যাঁদের মেনোপজ হয়ে গেছে, তাঁরা মাসের নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নিন স্ক্রিনিং করার জন্য।

প্রথমে ইনস্পেকশন করতে হবে। সরাসরি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন, কলার বোনের ওপরে বা নীচে কোনও পরিবর্তন আছে কিনা। তার পরে দেখুন স্তনবৃন্ত দু’টি একই উচ্চতায় আছে কিনা, কোনও শিরা উপশিরা প্রকট হয়ে আছে কিনা তাও দেখুন। অস্বাভাবিক কোনও লালচে ভাব থাকলে সেটাও লক্ষ করুন। এর পরে ডান হাত দিয়ে বাঁ স্তন এবং বাঁ হাত দিয়ে ডান স্তনটি তুলে নীচের খাঁজটা পরীক্ষা করুন।

Signs of breast cancer - Insider

এর পরের ধাপে হাত দুটি ওপরে তুলুন। বগলের নীচে লক্ষ করুন ভাল করে। বগলের লিম্ফনোড সবার আগে আক্রান্ত হয়। কোনও ফোলা ভাব আছে কিনা লক্ষ করুন। কিছু পরিবর্তন দেখলে ডাক্তার দেখান।

এর পরে হাতের তালুতে তেলজাতীয় বা সাবানজাতীয় কিছু লাগিয়ে ভাল করে স্তনে হাতটা বোলাতে থাকুন। ফিল করুন কোনও মাংসপিণ্ড বা টিউমারজাতীয় কিছু বুঝছেন কিনা। বগল পর্যন্ত এভাবে হাত বুলিয়ে দেখুন। সব শেষে নিপলে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখবেন, রস জাতীয় কিছু বেরোচ্ছে কিনা। অনেক সময়ে নিপলেই একমাত্র ব্রেস্ট ক্যানসারের লক্ষ্মণ দেখা যায়।

নিজে স্তন পরীক্ষা করে কোনও অস্বাভাবিকত্ব পেলে তিনি কী করবেন? কীভাবে এগোবে চিকিৎসা?

প্রথমেই বলব, প্যানিক করবেন না। স্টাডি বলছে, ১০টার মধ্যে ৯টা লাম্পই ক্যানসার নয়। আমাদের এত কথা বলার উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়, আমাদের উদ্দেশ্য ১০ নম্বর লাম্পটা যেন সচেতনতার আওতা থেকে বাদ না যায়। ক্যানসারের ঝুঁকির একটা বড় কারণ হল তা শেষ স্টেজে ধরা পড়া। যদি প্রথমেই লাম্প ফিল করতে পারেন, তবে ভয় পাওযার কিছু নেই। ডাক্তার দেখান, টেস্ট করান। অনেকের ভুল ধারণা থাকে, বায়প্সি করলে ক্যানসার ছড়িয়ে যায়। এটা সত্যি নয়। ক্যানসার ট্রিটমেন্ট অনেকটা আধুনিক হয়েছে। এখন স্তন ক্যানসারের পরীক্ষাও অনেক সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুল।

Breast Cancer Fight Gets Aid from Immunotherapy and Diabetes Drug Combo

স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা কতটা আধুনিক হয়েছে? স্তন কেটে বাদ দেওয়াই কি একমাত্র উপায়?

আগে দেখা যেত, স্তনে ক্যানসারের চিহ্ন মিললেই বড় সার্জারি করে বাদ দেওয়া হত স্তন। টিউমারের সঙ্গে গোটা স্তন বাদ দিয়ে বগলের লিম্ফনোডগুলোও বাদ দিয়ে দেওয়া হতো। এখন সময়ের সঙ্গে ভাবনাচিন্তা অনেক বেড়েছে। ব্রেস্ট কনসারভেটিভ সার্জারি অর্থাৎ সংরক্ষণের দিকে বেশি নজর দিই আমরা। যতটা সম্ভব কম অংশ যাতে বাদ দেওয়া যায়, সেটাই এই সার্জরির লক্ষ্য। পাশাপাশি ব্রেস্ট রিকনস্ট্রাকশনের জন্য অঙ্কোপ্লাস্টিক সার্জারিও করা হচ্ছে।

সেন্টিনেল লিম্ফনোড বায়প্সি কী?

সেন্টিনেল কথাটার মানে, সামনের সারির সৈন্য। ব্রেস্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথম আক্রান্ত হয় অ্যাক্সিলার লিম্ফনোড। অনেক সময় দেখা যায়, ব্রেস্ট ক্যানসারের সার্জারিতে লিম্ফনোড বাদ দিয়ে দেওয়ার কারণে বহু সমস্যা হয়। যে হাতের লিম্ফনোড বাদ গেল, সে হাত প্রায় অকেজো হয়ে যায়। তাই আমরা কী করি, আক্রান্ত লিম্ফনোডের ম্যাপিং করি। সবার আগে কোন লিম্ফনোড আক্রান্ত, খুঁজে বার করি। তার পরে সেইমতো সার্জারি করি। এটা খুবই আধুনিক পদ্ধতি।

Breast Cancer Diagnosed and Treated in Baltimore - Breast Center at Mercy

স্তন ক্যানসারে অস্ত্রোপচার আর রেডিয়েশন, এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্ক কী?

অনেক সময়ে দেখা যায়, অস্ত্রোপচার অসম্পূর্ণ রেখে রেডিয়েশন দিয়ে কভার করার চেষ্টা করা হয়। এটা কিন্তু হয় না। ক্যানসারের মূল তিনটে স্তম্ভ সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন। তিনটেই জরুরি। অস্ত্রোপচারের বিকল্প রেডিয়েশন নয়। অস্ত্রোপচারের সঙ্গেই রেডিয়েশন জরুরি।

বহু রোগীর দীর্ঘকালীন কেমোথেরাপি দরকার হয়। তাঁদের কী বলবেন?

বহু দিন কেমেথেরাপি চললে হাতের ভেনে সমস্যা হতে পারে। তাঁধের আমরা কেমো পোর্ট লাগিয়ে দিতে বলি। গলার ধমনীতে চামড়ার নীচে পোর্টটা লাগিয়ে দেওয়া হয়, সেখান দিয়েই কেমো দেওয়া যায়। দু-তিন বছর থাকে এই পোর্ট। তাই যে কোনও ব্লাড দেওয়া বা ওষুধ দেওয়ার কাজ হতে পারে।

দেখুন, কী বলছেন ডাক্তারবাবু।

স্তন ক্যানসার নিয়ে আলোচনায় অঙ্কোসার্জেন ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী।

স্তন ক্যানসারের কারণ কী? এই মারণ রোগে ভারতীয় মহিলাদের ঝুঁকি ঠিক কতটা? চিকিৎসাই বা কী? বিস্তারিত আলোচনায় রয়েছেন অঙ্কোসার্জেন ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী।

The Wall এতে পোস্ট করেছেন শনিবার, 10 অক্টোবর, 2020

সকলেরই কি স্তন সংরক্ষণ অস্ত্রোপচারের দিকে ঝোঁকা উচিত?

প্রথমত, এই সার্জারির জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, কার্সিনোজেনিক সেলগুলোর ঘনসন্নিবিষ্ট থাকা। দ্বিতীয়ত, সার্জেনকে এবিষয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ হতে হবে। তৃতীয়ত, যেখানে অস্ত্রোপচার করছেন, সেখানকার প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট খুব ভাল হতে হবে। শুধু তাই নয় কেমো ও রেডিয়েশন টিমের সঙ্গে খুব ভাল সমন্বয় থাকা দরকার। কারণ ব্রেস্ট কনসারভেশন সার্জারি মানে এই নয় যে ব্রেস্ট অর্ধেক রেখে বাকি অর্ধেক বাদ দিয়ে দেওয়া। এই সার্জারির অর্থ হল, টিউমার বাদ দিয়ে নেগেটিভ অংশকে রেখে দেওয়া।

Shifting the Focus of Breast Cancer to Prevention - The New York Times

স্তন ক্যানসারের রোগীদের জন্য সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট কতটা জরুরি?

যে কোনও ক্যানসারেই সাইকোলজিক্যাল এফেক্ট পড়ে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন খুবই সংবেদনশীল এখটা ব্যাপার। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, সৌন্দর্য সম্পর্কে ধারণা—অনেক কিছু জড়িয়ে থাকে এই স্তনের সঙ্গে। তাই স্তন ক্যানসারে বা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তে অনেকেই ভেঙে পড়েন মানসিক ভাবে। এসময়ে পরিবারের, বিশেষ করে সঙ্গীর সাপোর্ট খুব জরুরি। তাছাড়া এখন সুযোগ আছে ব্রেস্ট বাদ গেলেও তা পুনর্নির্মাণ করার। তা হয়তো অেকের পক্ষে ব্যয়বহুল হয়, সেক্ষেত্রে বাইরে থেকেও ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করা যায়, যা ব্রা-এর মধ্যে ঢুকিয়ে তা বাইরে থেকে স্তনের মতো দেখতে লাগা সম্ভব।

পুরুষদেরও কি স্তন ক্যানসার হতে পারে?

অবশ্যই হতে পারে। হ্যাঁ, সংখ্যাটা মহিলাদের তুলনায় অনেক কম। ১১২৮ জন পুরুষের মধ্যে একজনের ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে। তবে ভয়ের বিষয় হল, তাদের ক্যানসার অনেক বেশি আগ্রাসী, ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক দ্রুত ছড়ায় পুরুষদের ব্রেস্ট ক্যানসার। তাই কোনও পুরুষ যদি কোনও অস্বস্তি বোঝেন, তাহলে লজ্জা পাবেন না। ডাক্তার দেখান, চিকিৎসা করান।

Male breast cancer: Study offers insight on treatment and prognosis - Tech Explorist

স্তন ক্যানসার রুখতে আপনার বার্তা কী?

শুধু চিকিৎসা নয়। জরুরি সামাজিক সচেতনতা। অক্টোবর মাসকে নির্ধারণ করা হয়েছে স্তন ক্যানসার সচেতনতার জন্যই। আমরা সকলে অর্থাৎ রোগী, চিকিৎসক, পরিবার, সমাজ—সবাই মিলে যদি হাত ধরে লড়াই করি, ভারত একদিন স্তন ক্যানসার থেকে মুক্ত হবেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More