রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

রাফায়েল তদন্তে দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছিল মোদী সরকার, দাবি সংবাদমাধ্যমে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষার অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য বেশ কয়েকটি নিয়ম করা হয়েছিল কয়েক বছর আগে। তাতে বলা হয়েছে, কোনও কোম্পানি প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম বিক্রির সময় অবৈধভাবে প্রভাব খাটাতে পারবে না। কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জরিমানা দিতে হবে। কিন্তু ফ্রান্সের দাসো কোম্পানির থেকে রাফায়েল জেট কেনার আগে মোদী সরকার এই নিয়ম শিথিল করে দিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। আগে কোনও কোম্পানিকে এত ছাড় দেওয়া হয়নি।

একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপেই দাসো কোম্পানিকে এত বড় ছাড় দেওয়া হয়েছিল। রাফায়েল বিমান কেনার জন্য সরাসরি ফ্রান্সের ওই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিল প্রধানমন্ত্রীর অফিস। প্রতিরক্ষামন্ত্রককে এড়িয়ে আলোচনা করার জন্য অনেকে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন।

চুক্তি সই করার কিছুদিন আগেই ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট প্রসিডিওর থেকে দুর্নীতি সংক্রান্ত ধারাগুলি শিথিল করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, কেন দুর্নীতির ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাতে কি আমাদের বায়ুসেনা কোনোভাবে উপকৃত হয়েছিল?

একটি সংবাদ মাধ্যমের দাবি, তাদের কাছে যে নথিপত্র রয়েছে, তাতে জানা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বৈঠকে বসেছিল ডিফেন্স অ্যাকুইজিশান কাউন্সিল। সেই বৈঠকে প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম কেনা সংক্রান্ত বিধির আটটি ধারা শিথিল করা হয়। তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন মনোহর পরিকর। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিও তা অনুমোদন করে।

ভারতের হয়ে যাঁরা দাসো সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছিলেন, তাঁদের তিনজন এতে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকা উচিত। সতর্কতা বিসর্জন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম যে কোম্পানির থেকে কেনা হয়, তাদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিতে হয়। কিন্তু দাসো সংস্থাকে সে ব্যাপারেও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল ব্যাঙ্ক গ্যারান্টির বদলে ‘লেটার অব কমফোর্ট’ দিলেই চলবে। সেই লেটার অব কমফোর্টে যা লেখা থাকবে তাও আইনত মেনে চলার বাধ্যবাধকতা ছিল না ফরাসী কোম্পানির।

কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম সোমবার সকালে কয়েকটি টুইট করে বলেছেন, সরকার ভাবতেই পারেনি, রাফায়েল চুক্তির গোপন কথা এত তাড়াতাড়ি ফাঁস হয়ে যাবে। বিজেপি নেতা খেমচাঁদ শর্মা বলেন, কংগ্রেস ও সংবাদ মাধ্যমের একাংশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে চলেছে। সেনাবাহিনীর ক্ষতি করার নোংরা খেলায় নেমেছে কংগ্রেস।

কংগ্রেসের দাবি, ফ্রান্সের দাসো কোম্পানি থেকে বেশি দামে ৩৬ টি রাফায়েল বিমান কিনেছে মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বন্ধু অনিল অম্বানি এই চুক্তির ফলে লাভবান হয়েছেন।

Shares

Comments are closed.