আন্দোলন চালিয়ে যান, সরকার পিছু হটবেই, কৃষকদের উদ্দেশে বললেন প্রিয়ঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে জনসভা করেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। তিনি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জোরদার আন্দোলন চালিয়ে যান। সরকার দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারকে পিছু হটতেই হবে।

কৃষকদের সতর্ক করে প্রিয়ঙ্কা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার কিন্তু তাঁদের স্বার্থের কথা চিন্তা করছে না। উত্তরপ্রদেশের আখচাষিরা এখনও বকেয়া ১৫ হাজার কোটি টাকা পাননি। রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির দাম বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কংগ্রেস নেত্রী বলেন, তিনি কৃষকদের অসম্মান করেছেন।

প্রিয়ঙ্কার কথায়, “প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আখচাষিদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। তাঁদের রোজগার হবে দ্বিগুণ। আখচাষিদের বকেয়ার পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ১৬ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বিমান কিনেছেন। নতুন সংসদ ভবনের জন্য খরচ করছেন ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আখচাষিদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।”

পরে তিনি বলেন, “রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে। ২০১৮ সালে ডিজেলের এক লিটারের দাম ছিল ৬০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯০ টাকার কাছাকাছি। ডিজেলের ওপরে ট্যাক্স বসিয়ে বিজেপি সরকার গত বছর সাড়ে যে অর্থ উপার্জন করেছে, তার কোনও হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। সেই টাকা কোথায় গেল? যাঁরা ঘাম ঝরিয়ে দেশের সম্পদ উৎপাদন করছেন, তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না কেন?”

কৃষকদের ওপরে লাঠিচার্জ ও জলকামান চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন প্রিয়ঙ্কা। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী চিনে যেতে পারেন, আমেরিকায় যেতে পারেন। কিন্তু কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে কৃষকরা অবস্থান করছেন। রাজধানীর সীমান্ত দেখে মনে হচ্ছে দেশের সীমান্ত।”

গত নভেম্বর থেকে দিল্লির সীমান্তে অবস্থান করছেন কৃষকরা। মারা গিয়েছেন ২১৫ জন কৃষক। প্রিয়ঙ্কা বলেন, “কৃষকদের ওপরে অত্যাচার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের নিয়ে মজা করছেন।”

ভাষণের শেষে প্রিয়ঙ্কা বলেন, “আমি রাজনীতি করতে আসিনি। আমি আগামী দিনেও আসব। আমরা কৃষকদের পক্ষে লড়াই করব। আপনারা পিছু হটবেন না। সরকারই পিছু হটবে।”

তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার কৃষকরা রেল অবরোধ করেন। পাঞ্জাবে দিল্লি-লুধিয়ানা-অমৃতসর রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। জলন্ধর ও মোহালি জেলায় জলন্ধর ক্যান্টনমেন্ট থেকে জম্মু যাওয়ার রেলপথটিও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বেঙ্গালুরুতে পুলিশ কৃষকদের রেল অবরোধে বাধা দেয়। তা নিয়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এক কৃষক নেতা বলেন, “পুলিশ আমাদের রেল অবরোধ করতে দেয়নি। পুলিশ বলেছে, প্রতিবাদ জানানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। কৃষক ইউনিয়নগুলি আগেই ঘোষণা করেছে, দেশ জুড়ে রেল অবরোধ হবে। সেক্ষেত্রে এখানে আলাদা করে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে কেন?”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More