এখনই অধিবেশন নয়, মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ তৃতীয়বার নাকচ করলেন রাজ্যপাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে চলেছে উদ্বেগজনক হারে। এই অবস্থায় ২১ দিনের নোটিশ দিয়ে তবেই বিধায়কদের বিধানসভা অধিবেশনে ডাকা যেতে পারে। এই মন্তব্য করে বুধবার তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র। মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন, আগামী শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশন বসুক। রাজ্যপাল সেই প্রস্তাব নাকচ করার পরেই মুখ্যমন্ত্রী ফের গিয়েছেন রাজভবনে। জুলাইয়ের শুরুতে কংগ্রেসের ১৯ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করার পরে এই নিয়ে তিনি চারবার দেখা করলেন রাজ্যপালের সঙ্গে।

রাজভবনে যাওয়ার আগে অশোক গেহলোট বলেন, “আমি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইব, তিনি কী চান? ২১ দিন বা ৩১ দিন, যতদিন বাদেই তিনি অধিবেশন ডাকুন, আমরা আস্থাভোটে জয়ী হব।”

শচীন পাইলট বিদ্রোহ করার পর থেকে টালমাটাল চলছে রাজস্থানের রাজনীতিতে। শচীনের পক্ষে আছেন ১৮ জন বিধায়ক। ২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যতজন বিধায়ক দরকার, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি আছেন গেহলোটের পক্ষে। তিনি চেয়েছিলেন, দ্রুত বিধানসভার অধিবেশন বসুক। সেখানে তিনি গরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। অধিবেশন ডাকার জন্য তিনি দু’বার রাজ্যপালকে অনুরোধ করেছিলেন। রাজ্যপাল বলেন, কয়েকটি শর্ত মানলে অধিবেশন ডাকা যেতে পারে। তিনি প্রশ্ন করেন, মুখ্যমন্ত্রী কি আস্থাভোট চাইছেন? সেকথা তিনি আমাকে চিঠিতে জানাননি। কিন্তু প্রকাশ্যে বলে চলেছেন, বিধানসভার অধিবেশন বসলেই আস্থাভোট নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র বলেন, গোয়া, মণিপুর ও পুদুচেরিতে করোনা অতিমহামারীর জন্য বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ আছে। এই অবস্থায় রাজস্থানের বিধায়কদের যদি অধিবেশনে ডাকতে হয়, ২১ দিন সময় দেওয়া উচিত নয় কি? তাছাড়া বিধানসভার অধিবেশন বসলে সামাজিক দূরত্বই বা কীভাবে বজায় রাখা যাবে?

বুধবারই রাজভবন থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়, করোনা সংকটে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে রাজ্যপাল বলেন, অতিমহামারীর জন্য গত ১৩ মার্চ বিধানসভার অধিবেশন বাতিল করে দেওয়া হয়। তখন রাজ্যে মাত্র দু’জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল। ১ জুলাই রাজ্যে কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয় ৩৩৮১। এখন রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। যেভাবে ওই ভাইরাস ছড়াচ্ছে, তা উদ্বেগের বিষয়। মানুষকে অতিমহামারীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রাজ্য সরকারের তৎপর হওয়া উচিত।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More