‘চন্দননগর-তিলজলায় নৈরাজ্য চলছে’, বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ফের সরব রাজ্যপাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দননগরের উর্দিবাজার এবং বালিগঞ্জের তিলজলা এলাকায় বুধবার যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে ফের সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রাজ্যপাল বলেছেন, চন্দননগর এবং তিলজলায় নৈরাজ্য চলছে। যা আরও একবার প্রমাণ করে দিল এ রাজ্যের দৈন্য দশার ছবিটা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান বলেছেন, চন্দননগর এবং তিলজলায় যা ঘটছে তা বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

চন্দননগরে মদের ঠেকের গণ্ডগোল নিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি হয়। তা গড়ায় গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর্যায়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল রাত দশটা নাগাদ চন্দননগর নীচুপট্টি এলাকায় মদের ঠেকে গোলমাল বাঁধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লকডাউনে লুকিয়ে মদ বিক্রি হয় ওই এলাকায়। মদের দাম বেশি নেওয়া নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত।

বচসা থেকে হাতাহাতি হয়ে অশান্তি শুরু হয় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। তারপর চলে ভাঙচুর। বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি দোকানে। লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। দু’পক্ষের মধ্যে চলতে থাকে ইট ও মদের বোতল ছোঁড়াছুড়ি। সেইসঙ্গে দেদার বোমাবাজি। ঘটনার খবর পেয়ে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ ও দমকল পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। পুলিশকে লক্ষ্য করেও কাচের বোতল ছোড়া হয়। আহত হন দুজন পুলিশকর্মী। পরে র‍্যাফ ও বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। উত্তেজনা থাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এলাকায়।

চন্দননগর পুর নিগমের ৫,৬,৭,১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার, নীচুপট্টি, চাউলপট্টি, উর্দি বাজার, বিন্দুবাসিনী পাড়ায় সব দোকান পাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

তিলজলাতেও প্রকাশ্য রাস্তায় তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর হয় পুলিশের গাড়িও।

প্রসঙ্গত চন্দননগরে গত কয়েক বছরে বারবার গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কখনও উর্দিবাজার তো কখনও তেলিনিপাড়া। গত বছর কড়া লকডাউনের মধ্যে তেলিনিপাড়ায় এমন গোষ্ঠী হিংসা ছড়িয়েছিল যে চন্দননগর ও শ্রীরামপুর মহকুমায় সাত দিন ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছিল প্রশাসন।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More