রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৭

বন্দি খালেদাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত হয়েছে, দাবি বিএনপি-র

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেলবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসা না করিয়ে ধীরে ধীরে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। রবিবার এমনই দাবি করল খালেদার দল বিএনপি। দলের সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি রুহুল করির রিজভি এদিন বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর দিন কে দিন আরও খারাপ হচ্ছে। কিন্তু তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে না। তাঁর চোখে যন্ত্রণা হচ্ছে। পা ফুলেছে। হাঁটতে পারছেন না। জেলে যাওয়ার আগেই খালেদা অসুস্থ ছিলেন। এখন তাঁর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠেছে।

ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে সাংবাদিক বৈঠক করেন রিজভি। তাঁর অভিযোগ, আমাদের নেত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় ঘন ঘন কোর্টে হাজির করানো হচ্ছে। তাঁর জন্য জেলের অভ্যন্তরে ছোট একটা ঘরে কোর্ট বসানো হয়। তিনি অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। কোর্টে হাজির করানোর নামে তাঁর ওপরে অত্যাচার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রিজভি আবেদন করেন, খালেদাকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। তিনি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সেজন্যই তাঁকে বন্দি করা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। এবার তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত।

এর আগে গত শুক্রবার খালেদার কারাবাসের এক বছর পূর্তি পালন করেছে বিএনপি। তাঁর বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। বিএনপি নেতাদের ধারণা, আইনি পথে তাঁদের নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। একমাত্র রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলেই সরকার খালেদাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে।

এমনিতে বিএনপির অবস্থা এখন ভালো নয়। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শোচনীয় ফলের পরে দলের কর্মীদের গ্রাস করেছে হতাশা। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দলকে চাঙ্গা করার জন্য বিএনপি নেতারা এখন খালেদার মুক্তির দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে চান।

জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্টে দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালত জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ওল্ড ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে। ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন খালেদা। তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি খালেদাকে ফেনি-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে প্রার্থী করতে চেয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, তিনি ভোটে লড়তে পারবেন না।

Shares

Comments are closed.