ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নামী দলে খেলেন এই বাংলাভাষী ফুটবলার

 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নামকরা দলে খেলছেন এক বাঙালি ফুটবলার। যিনি বাংলায় কথা বলেন। একেবারে সিলেটি বাংলায়। চলুন চিনে নেওয়া যাক এই বাঙালি পেশাদার ফুটবলারটিকে।

(১) লেস্টার সিটির সিনিয়র দলে, ৩৮ নম্বর জার্সি গায়ে খেলেন ২২ বছরের ফুটবলার হামজা চৌধুরী। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির এই মিডফিল্ডার লেস্টার সিটির অনূর্ধ্ব-২৩ দলেরও অধিনায়ক।

হামজা চৌধুরি

(২) ১৯৯৭ সালের ১ অক্টোবর ইংল্যান্ডের লগবার্গে জন্ম নিয়েছিলেন হামজা। মা রাফিয়া চৌধুরী বাংলাদেশী। বাবা ছিলেন গ্রানাডার মানুষ। কিন্তু পরবর্তীকালে মা বিবাহ করেন বাংলাদেশী মোর্শেদ চৌধুরীকে। তাই হামজার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও নিবিড় হয়ে ওঠে। তবে ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল হামজার।

মা বাবার সঙ্গে

(৩) বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলায় হামজাদের আদি বাড়ি। ইংল্যান্ডে ছোট থেকে থাকলেও কুড়িবারের বেশী গিয়েছেন বাংলাদেশে। বর্ষাকালের বাংলাদেশে, জলকাদার মধ্যে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতাও তাঁর আছে। গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে গিয়ে রিকশা চালাতে শিখেছিলেন ,তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় হামজা।

বাংলাদেশে হামজা। একদম ছোট বেলায়।

(৪) পাঁচ বছর বয়েসে হামজার ফুটবল প্রতিভা দেখে তার দিকে নজর ফেলেছিল বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব নটিংহ্যাম ও লেস্টার সিটি। তবে লেস্টার সিটিকেই বেছে নিয়েছিলেন হামজার বাবা মা। লেস্টারের ফুটবল অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়েছিল ছোট্ট হামজা। শুধু হামজার ফুটবলের জন্যেই  চৌধুরি পরিবারটি লাগবরো থেকে চলে গিয়েছিল লেস্টার।

বালক হামজা

(৫) ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর, তার সঙ্গে প্রথম চুক্তি করেছিল লেস্টার সিটির। লেস্টার সিটির অ্যাকাডেমিতে থাকাকালীন হামজা, অনুর্ধ-১৮ দলের হয়ে এফএ ইউথ কাপের সেমিফাইনাল খেলেছেন। ইংল্যান্ডের অনুর্ধ-২১ জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন হামজা। রাশিয়া, মেক্সিকো, বাহরিন, আলজেরিয়া সমেত বেশ কয়েকটি দেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।  (৬)  মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুলের হামজাকে দেখে মনে পড়ে যায় কলম্বিয়ার বিখ্যাত ফুটবলার কার্লোস ভালদেরামাকে। হামজার দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের সঙ্গে তাঁর চুল নিয়েও আলোচনা চলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে। 

(৭) ২০১৭ সালের ১৯ই মার্চ, লেস্টার সিটির সিনিয়র দলে হয়ে হামজার অভিষেক হয় ইএফএল কাপের তৃতীয় রাউন্ডে।বিপক্ষে ছিল শক্তিশালী লিভারপুল। খেলার ৮২তম মিনিটে পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন হামজা।

(৮) ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর, প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক হয় হামজার। লেস্টার সিটি- টটেনহ্যাম হটস্পার ম্যাচের  ৮২তম মিনিটে পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন হামজা। ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট লেস্টার হামজার সঙ্গে পুনরায় চার বছরের চুক্তি করে। এই বছর ১ জানুয়ারি, লেস্টার সিটির সিনিয়র দলের হয়ে নিউ ক্যাসেলের বিরুদ্ধে প্রথম গোলটি করেন হামজা।

(৯) হামজা নিজেকে বাঙালি ও বাংলাদেশী বলতে ভালোবাসেন। বাঙালির ঐতিহ্য নিয়ে গর্ববোধ করেন। বাঙালি রান্না তাঁর খুব পছন্দ। প্রিমিয়ার লিগে লেস্টারের খেলা থাকলেই মাঠে ভিড় করেন বাংলাদেশীরা, এমনকি ভারতীয় বাঙালিরাও। (১০)  অত্যন্ত কঠিন লড়াই সত্বেও লেস্টার সিটির প্রথম একাদশে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছেন হামজা। লেস্টারের প্রায় প্রতিটি ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে থাকছেন হামজা।  হামজার অসামান্য স্কিল গর্বিত করে চলেছে রাতারাতি লেস্টারের সমর্থক হয়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ বাঙালিকে। হামজা বলেন তাঁর সাফল্যের পিছনে আছেন মা বাবা এবং তাঁর কাকা ফারুক চৌধুরি।

 

Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More