করোনা অতিমারী কালে পরিযায়ী শ্রমিক সঙ্কট দারুণ সামলেছে যোগী সরকার, বলেছে হার্ভার্ডের গবেষণা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২০ তে দেশব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় লকডাউন ঘোষণার পর পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা মোকাবিলায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যা শেয়ার করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্টাডিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস অতিমারীর কালে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের ধাক্কায় দুনিয়াব্যাপী মানুষ যখন বিপর্যস্ত, সেসময় যোগী সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘিরে উদ্ভূত সঙ্কট দারুণ সামলেছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের জনৈক মুখপাত্র বলেছেন, হার্ভার্ডের গবেষণা পরিযায়ী শ্রমিকদের কেন্দ্র করে ঘনিয়ে ওঠা মানবিক সঙ্কটের উল্লেখ করে যোগী সরকার যে দক্ষতার সঙ্গে পরিযায়ী সমস্যা সামলেছে, তার কথা বলেছে।
যোগী সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা, রেশন সামগ্রীর বন্দোবস্ত, হেলথকেয়ার সেন্টার চালানোর বহুমুখী এজেন্ডা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করেছে বলে দাবি করেন মুখপাত্রটি। বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা মূলতঃ দৈনিক মজুরির ওপরই নির্ভর করতেন, রাজ্য সরকার তাঁদের জন্য বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন স্কিম ঘোষণা করেছিল। যোগী সরকার কীভাবে অতিমারী থেকে রক্ষার পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারগুলিকে বাঁচানো, তাঁদের স্কিল বা দক্ষতার ম্যাপিং, কাজের ব্যবস্থা করা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার মেকানিজমের মাধ্যমে পরিযায়ীদের অর্থনীতির দেখভাল করায় মডেল হয়ে উঠেছি, তা নিয়ে ওই স্টাডিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপদে ফেরা ও কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার প্ল্যান বানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রচনা করে রাজ্য সরকার সঙ্কট নিরসনে মানবতাবাদী, পবিত্র দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে স্টাডিতে। আটকে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বাস, ট্রেন পরিষেবার ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্য সরকার তাদের ঘরে ফেরার সুবিধা করে দিয়েছে। এমন সঙ্কট কালে পরিযায়ীদের সাহায্য করার স্কিমগুলির প্রচারের চেষ্টাও করেছে রাজ্য সরকার। ভারতীয় রেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজ্য সরকার ১৬০৪টি ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করে ২১ লাখের বেশি পরিযায়ী শ্রমিককে শ্রমিক ট্রেনের মাধ্যমে ঘরে ফিরিয়েছে।
২০২০র ২৮ মার্চ সীমান্ত সিল হওয়ার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে দিল্লি থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে রাজ্য সরকার ঘরে ফিরিয়েছে। রাজ্যের মধ্যে যাতাযাতের জন্য ২৪ ঘণ্টা বাস পরিষেবার বন্দোবস্তও করেছে। এছাড়া রাজ্য সরকার সংক্রমণ রুখতে থার্মাল স্ক্রিনিং, কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন, এই ত্রিমুখী কৌশল অনুসরণ করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর পরিযায়ী শ্রমিক, অন্যদের, তাদের সংস্পর্শে আসা পরিচিতদের পরীক্ষা করে দেখতে ৯০ হাজারের বেশি স্ক্রিনিং টিম গঠন করেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিসিজ কন্ট্রোলের গাইডলাইন অনুসারে রাজ্য সরকার ১৮ হাজার ১৪০টি কোয়ারান্টিন কেন্দ্রও তৈরি করেছিল, যেখানে নানা সময়ে কোয়ারান্টিন করা হয়েছিল ১৫.১৫ লাখ পরিযায়ী শ্রমিককে। তৃতীয় ধাপ ছিল করোনা সংক্রমণের লক্ষণবাহী পরিযায়ী শ্রমিকদের আলাদা করে সরিয়ে নিয়ে টেস্ট করা। ঘরের কাছাকাছি থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সুযোগ সৃষ্টি করতে চলতি স্কিমগুলি কাজে লাগিয়ে, নতুন মউ স্বাক্ষর করে দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যান বানিয়েছে বলেও রাজ্যের সুখ্যাতি করা হয়েছে স্টাডিতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More