কোভিড ঠেকাতে নাইট কার্ফু হরিয়ানাতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার হরিয়ানায় কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৪০ জন। সোমবার হরিয়ানা সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ জানালেন, এদিন থেকেই রাজ্যে জারি হবে নাইট কার্ফু। রাত ন’টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে হরিয়ানায় করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৮১ জন। মারা গিয়েছেন ৩২৬৮ জন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এত বিপুল সংক্রমণ গত বছরও দেখা যায়নি। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হওয়ার পরে প্রায় প্রতিদিনই নতুন সংক্রমণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবং সংক্রমণের হার এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরেই ভারতের স্থান। সংক্রমণে দৈনিক মৃত্যুও টেক্কা দিয়েছে অন্যান্য দেশকে। আজকের হিসেবই বলছে, একদিনে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৯০০ জনের বেশি, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

চিন্তার শেষ এখানেই নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, দেশে এখন ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও সাঙ্ঘাতিকভাবে বাড়ছে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশে কোভিড অ্যাকটিভ রোগী ২ লাখে নেমে গিয়েছিল। কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হারও কমেছিল। হাঁফ ছেড়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু দু’মাসের মধ্যে পুরো ছবিটাই ফের বদলে গেছে। এই প্রথমবার ভাইরাস সক্রিয় রোগী ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অ্যাকটিভ কেসের হার ৮.৮৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড অ্যাকটিভ কেসের হার এইভাবে বাড়তে থাকলে দেশে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কোভিড পজিটিভিটি রেটও বাড়বে। জাতীয় গড়ে তার প্রভাব পড়বে।

মহারাষ্ট্র এখনও সংক্রমণের শীর্ষে। নতুন সংক্রমণ ৬৩ হাজার ধরা পড়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। লাগামছাড়া করোনা কার্ভ দেখে রাজ্যে পুরোপুরি লকডাউন চালু করার কথা ভাবছে উদ্ধব ঠাকরে সরকার। আজ এই মর্মে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা আছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে বলেছেন, কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হবে আজ। কনটেইনমেন্ট জ়োন ও কোভিড সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। গ্রেটার মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়েছে, কোভিড ওয়ার রুম খোলা হবে জায়গায় জায়গায়। ২৪ ঘণ্টাই সেখানে পর্যবেক্ষণে থাকবেন নোডাল অফিসাররা। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে নজর রাখার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিমও তৈরি হচ্ছে।

দিল্লিতে প্রথম দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, করোনার চতুর্থ ঢেউ আচড়ে পড়েছে রাজধানীতে। সংক্রমণের হার বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। দিল্লি সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে যেতে পারে কিনা সে বিষয় ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। দিল্লিবাসীকে কোভিড বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন কেজরিওয়াল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More