‘অন্নদাতারা রাস্তায়!’ কৃষকদের সঙ্গে ফের কথা চেয়ে মোদীকে চিঠি হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি তিনটি কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিলের  দাবিতে তিন মাসের ওপর ধরনায় বসা কৃষকরা কোভিড-১৯ সংক্রমণ লাগামছাড়া বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে হরিয়ানার মুখ্য়মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টারের অবস্থান প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এবার কেন্দ্র-কৃষক সমাজের বিরোধ, সংঘাতের মধ্যে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্যন্ত চৌতালা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে প্রতিবাদী কৃষকদের সঙ্গে ফের কথাবার্তা শুরুর আবেদন জানালেন।  চৌতালা উদ্বেগের সুরে বলেছেন, ১০০ দিনের ওপর হয়ে গেল কৃষক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতাদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসে গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বের করা উচিত কেন্দ্রের নেতা-মন্ত্রীদের।  চৌতালার দাবি, হরিয়ানাই একমাত্র রাজ্য যারা ৬টি ফসল ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) কেনে।

গত ১০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মুখে কৃষক নেতাদের আবেদন করেন, তাঁরা যেন সমাবেশে আসা বয়স্ক, বাচ্চাদের দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ইতিমধ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে কৃষকদের ১১ দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কখনও সরকার আলোচনায় বসতে তৈরি না থাকায়, কখনও  বা কৃষক ইউনিয়ন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় আন্দোলন বহাল রয়েছে।  কৃষকদের আন্দোলন স্থগিত রেখে সরকারের সঙ্গে কথা বলা উচিত, এই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তোমর এমন দাবিও করেন,অনেক কৃষক ইউনিয়ন, অর্থনীতিবিদ কেন্দ্রের কৃষি বিল সমর্থন করেন। তবে পাল্টা ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের মুখপাত্র রাকেশ টিকায়েত কিষাণ মহাপঞ্চায়েতের প্রতিবাদ আগামীকাল সকাল সাতটা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, সরকার আলোচনা চাইলে আমরা তৈরি, কিন্তু সরকার শর্তসাপেক্ষে কথা চাইলে আমরা রাজি নই। কৃষক প্রতিবাদ অবস্থান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে তোমরের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, যেখানে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে করোনা হচ্ছে না! এটা শাহিনবাগ নয়। এখানে শাহিনবাগের মতো আন্দোলন উঠে যাবে না।

প্রসঙ্গত, দিল্লি সংলগ্ন টিকরি, সিংঘু, গাজিপুর সীমান্তে কৃষকরা অবরোধ করে বসে আছেন। তিন সীমান্ত দিয়ে দিল্লি ঢোকার রাস্তা বন্ধ। সেখানে কাঁটাতারের বেড়া বসিয়েছে কেন্দ্র, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছে। পাল্টা আইন প্রত্যাহার ছাড়া ঘর ওয়াপসি নয়, জানিয়ে দিয়েছেন  কৃষকরাও। তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি একাধিক কৃষক ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন,  ম্যানুফ্যাকচারার, ফুড প্রসেসিং ইউনিটের সঙ্গে কথা বলে শীর্ষ আদালতে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

পারস্পরিক আলোচনায় প্রতিটি সমস্যার সমাধান  হয় বলে লিখেছেন তিনি। চৌতালা আরও বলেছেন, আমাদের অন্নদাতারা দিল্লি সীমান্তে রাস্তায় বসে আছেন, কেন্দ্রের তিনটি নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। ১০০ দিন পেরিয়ে  গেল, এটা উদ্বেগের ব্যাপার।

 

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More