মামলা সরানো হোক দিল্লি কিংবা মুম্বইয়ে, আর্জি হাথরাসে মৃতার পরিবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্টে হাথরাসে গণধর্ষণ ও খুনের মামলা ওঠে। নির্যাতিতার পরিবার আদালতে তিনটি দাবি জানায়। প্রথমত, মামলাটি উত্তরপ্রদেশের বাইরে স্থানান্তরিত করতে বলা হয়। তাঁদের আইনজীবী সীমা কুশওয়াহা জানিয়েছেন, মৃতের পরিবার চায়, দিল্লি অথবা মুম্বইতে মামলা স্থানান্তরিত হোক।

মৃতের পরিবারের দ্বিতীয় দাবি হল, ওই মামলায় তদন্তের রিপোর্ট যেন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত না হয়। তৃতীয় দাবি হল, তাঁদের জন্য আরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক। অভিযোগ, উচ্চবর্ণের ঠাকুররা গ্রামের দলিত পরিবারগুলিকে ভয় দেখাচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২ নভেম্বর।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।

অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জোর করে তাঁর দেহ আত্মীয়দের থেকে কেড়ে নিয়ে যায়। পরিবারকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। কয়েকজন পুলিশকর্মী মিলে রাত আড়াইটেয় তরুণীর দেহ পুড়িয়ে দেন।

মৃত তরুণীর ভাই প্রশ্ন করেন, “সেদিন কার দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদি আমার বোনের দেহ হয়, তবে ওইভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হল কেন? পুলিশ এবং প্রশাসন কেন তাকে শেষবারের মতো দেখতে দিল না।” পরে তিনি বলেন, “আমি বোনের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট দেখতে চেয়েছিলাম। পুলিশ বলল, ওই রিপোর্ট ইংরেজিতে লেখা। তোমরা পড়তে পারবে না।”

ইতিমধ্যে হাথরাসে দলিত তরুণীকে অত্যাচার করে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন চারজন। পুলিশ দাবি করেছে, মোবাইলের কল রেকর্ড থেকে জানা যায়, মৃত তরুণীর ভাইয়ের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ঠাকুরের যোগাযোগ ছিল। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত দু’জনের মধ্যে ১০৪ বার কথা হয়েছে।

হাথরাস পুলিশকে চিঠি লিখে সন্দীপ দাবি করেছেন, মৃত তরুণী তাঁর বন্ধু ছিল। মাঝে মাঝে তার সঙ্গে সন্দীপের দেখা হত। ফোনেও দু’জনের কথাবার্তা হত। চিঠিটি লেখা হয়েছে হিন্দিতে। তাতে অভিযুক্ত চারজনেরই টিপসই আছে।

চিঠিতে সন্দীপ ঠাকুর অভিযোগ করেছেন, মৃত তরুণীর পরিবার তাঁদের বন্ধুত্ব পছন্দ করেনি। চিঠিতে লেখা হয়েছে, “ঘটনার দিন আমি মাঠে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তার মা ও ভাই সেখানে উপস্থিত ছিল। মেয়েটি আমাকে চলে যেতে বলে। তখন আমি মাঠ থেকে ফিরে আসি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More