‘কেমিস্ট্রিতে ২৪ পেয়েছিলাম, ভেঙে পড়লে দেশের মধ্যে ২৮তম হতে পারতাম?’ ভাইরাল আইএএস অফিসারের মার্কশিট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোর্ডের পরীক্ষাগুলির ফল বেরোতে শুরু করেছে এক এক করে। দশম শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি দুই ক্লাসের পড়ুয়ারাই পার করছে জীবনের বড় ধাপ। কিন্তু যারা পারছে না? কোনও কারণে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার দৌড়ে? তাদের মধ্যে অনেকেই যে হতাশায় ডুবে গিয়ে মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে, তা নতুন নয়। ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই ধরনের খবরও আসতে থাকে দেশের নানা প্রান্ত থেকেই। খুব কম বয়সেই ফুরিয়ে যায় একাধিক জীবন।

কিন্তু সত্যিই কি একটা বা দুটো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে জীবনে সব পথ বন্ধ হয়ে যায়! নাকি মার্কশিটের নম্বরের পরেও জীবনে সফল হওয়ার আসল লড়াই অন্য কোথাও অপেক্ষা করে! ফলপ্রকাশের পরে তো সফল পড়ুয়াদের নিয়ে মাতামাতির শেষ থাকে না। কিন্তু অকৃতকার্যদের মনের অন্ধকার দূর হবে কীসে? কে দেখাবে তাদের আশার পথ? এই ভাবনা থেকেই পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে অভিনব পদক্ষেপ করলে আইএএস অফিসার নীতিন সাংওয়ান। নিজের পুরনো মার্কশিটের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন তিনি। ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি। আর তাতে দেখা যাচ্ছে, এত বড় আইএএস অফিসার নাকি সিবিএসএই বোর্ডের পরীক্ষায় কেমিস্ট্রিতে মাত্র ২৪ পেয়েছিলেন।

এই মার্কশিটের ছবির সঙ্গে অফিসার লিখেছেন, “দেখুন আমার দ্বাদশ শ্রেণির রেজাল্ট। কেমিস্ট্রিতে ২৪ পেয়েছিলাম আমি। কোনও রকমে পাস করেছিলাম এক নম্বরের জন্য। কিন্তু সেই নম্বর আমার জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ণয় করে দেয়নি। হতাশায় ডুবে যেও না বাচ্চারা। নম্বরের বোঝা নিয়ে ভেব না। জীবনটা বোর্ড রেজাল্ট-এর থেকে অনেক বড়।”

আইআইটি মাদ্রাজের প্রাক্তন ছাত্র নীতিন সাংওয়ান ২০১৫ সালে সিভিল সার্ভস পরীক্ষায় কৃতকার্য হন। দেশের মধ্যে ২৮ ব়্যাঙ্ক করে আইএএস অফিসার হন। উচ্চমাধ্যমিকে ২৪ নম্বর পেয়ে জীবনটা থামিয়ে দিলে এই ২৮তম স্থানে পৌঁছে সফল হওয়া হতো না তাঁর– এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন নীতিন সাংওয়ান।

সাংওয়ান জানিয়েছেন, অনেক বন্ধু ও আত্মীয়র ছেলেমেয়েদের তিনি ভেঙে পড়তে দেখেছেন কম নম্বর পাওয়ার জন্য। এটা তাঁকে খুব ব্যথিত করে। তাঁর মনে পড়ে যায়, এই অবস্থা তিনি নিজেও পার করে এসেছেন, তার পরেও একজন সফল আইএএস অফিসার হতে পেরেছেন। “যদি আমি ফেল করেও সফল হতে পারি, তাহলে ওরাও পারবে। একটু ভরসা করতে হবে জীবনের ওপর, এটাই বলতে চাই।”– বলেন নীতিন।

তাঁর টুইট এবং বার্তা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের ভরসা জোগানোর জন্য। নীতিন বলেছেন, “একবার জীবনে পড়ে গেছো হয়তো, এটা কোনও বড় কথা নয়। তুমি উঠে পড়ে আবার দৌড়তে পারো। জীবন তো অনেক লম্বা। শিক্ষার শেষ উদ্দেশ্য নম্বর পাওয়া হতে পারে না। সাফল্য শুধুই ডিগ্রি ও নম্বরের উপর নির্ভর করে না। এখনকার বাচ্চারা অেক বেশি চাপে থাকে। ওদের হতাশ হয়ে পড়লে চলবে না।”

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More