একটা এনকাউন্টারে জড়িয়ে পড়েছি, ক্ষমা করে দিও, ১৪ বছরের কাশ্মীরী জঙ্গির শেষ ফোনকল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত রবিবার কাশ্মীরে সীমান্ত রক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় ১৪ বছরের ফয়সল গুলজার গনাই। নিহত ৫ জঙ্গির মধ্যে সেও ছিল। জানা গেছে, দুদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরই ফয়সলকে দেখা যায় জঙ্গিদের হয়ে বন্দুক ধরতে। জওয়ানের গুলিতে প্রাণ হারায় সে এরপর। ফয়সলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠেছে, কী এমন করেছিল সেই কিশোর?

ফয়সলরা কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। বাবা পেশায় কৃষক। তিন মেয়ের পর একমাত্র ছেলে ফয়সল ছিল অত্যন্ত আদরের। ক্লাস টেনে পড়ত সে।

গত মঙ্গলবার থেকে ফয়সলকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না বাড়ির লোক। ৮০ বছরের বৃদ্ধ ঠাকুরদা ভাবছিলেন, ক্রিকেট খেলতে গেছে বোধহয় নাতি। কিন্তু সন্ধে পেরিয়ে রাত, ফয়সল ফেরেনি আর। ফোন সুইচড অফ বলছিল বারবার। পরিবারের সকলে উদ্বিগ্ন হয়ে এদিকওদিক খোঁজ করে যান। কিন্তু ফয়সলের সাড়া মেলেনি। থানায় ডায়েরি করেছিলেন তাঁরা।

এরপর একটা ফোন আসে শনিবার। ফোনে ফয়সলের কন্ঠ ভেসে আসে, “একটা এনকাউন্টারে জড়িয়ে পড়েছি। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও।” উত্তরে বৃদ্ধ ঠাকুরদা তাকে বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। তাকে জঙ্গি সংশ্রব ত্যাগ করে বেরিয়ে আসতে বোঝান, বলেন, হাত তুলে বেরিয়ে এস। জওয়ানরা তোমায় উদ্ধার করে আনবেন। কিন্তু উত্তর আসে না আর। ফোন কেটে যায় ওই প্রান্তে।

ফয়সলের ঠাকুরদা জানান, এনকাউন্টারের সময় সেনাবাহিনী অতটুকু বালককে দেখে একটা সুযোগ দিয়েছিল। সদ্য জঙ্গি বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া ফয়সলকে আর্মি অফিসাররা নানা ভাবে অনুরোধ করেন বেরিয়ে আসতে। কিন্তু জঙ্গিরা তা হতে দেয় না।

৭২ ঘণ্টার এনকাউন্টারে সেই রাতের মত ইতি টেনেছিলেন জওয়ানরা। কিন্তু পরদিন সকালেই বন্দুক হাতে জঙ্গিদের সঙ্গে বেরিয়ে আসে ফয়সল। জানা যায়, ১৯ বছরের জঙ্গি আসিফ ছিল ফয়সলের বন্ধু। তার আহ্বানেই জঙ্গিবাহিনীতে নাম লিখিয়েছিল সে। জঙ্গিরা কীভাবে নাবালকদের ব্রেনওয়াশ করে দলে টানছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ অফিসার খালিদ আহমেদ।

তাঁর খেদ একটাই, সুযোগ ছিল। তাও শেষ রক্ষা হল না। জঙ্গিরা বন্দুকে ট্রিগার চাপতেই এগিয়ে গিয়ে গুলি চালায় জওয়ানরা। এনকাউন্টারে মারা যায় ফয়সল সহ ৫ জঙ্গি।

তার মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য নানা প্রশ্ন উঠলেও সেনাপ্রধানের বক্তব্য, জওয়ানরা নিজেদের কাজ করেছেন। ফয়সলকে অনেকবার বলা সত্ত্বেও সে আত্মসমর্পণ করেনি। সেও তো জঙ্গিই। অতএব কীই বা করার থাকে!

এদিকে দক্ষিণ কাশ্মীরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী মহলও। লেখক গৌহার গিলানি এদিন টুইট করেন, “ছোট্ট কফিনগুলোর ওজন সবচেয়ে বেশি। শিশুরা কফিনে শিশু হয়েই থেকে যায়। কীভাবে একজন শিশুর দিকে বন্দুক তোলা যায়! কীভাবেই বা তাকে জঙ্গিবাহিনীতে নিয়োগ করা যায়! এই বিশ্বে কারও হাতই সাদা নেই আর।”

প্রসঙ্গত, দেশে নাবালক জঙ্গি মৃত্যু এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর শ্রীনগরে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছিল। তাদের একজন ছিল ফয়সলের মতই কিশোর।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More