পরিস্থিতির উন্নতি না হলে লকডাউন করতে হবে, জানালেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী এদিন জানালেন, পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয়, তাহলে ফের লকডাউনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে সরকার। তাঁর কথায়, “আমরা লকডাউনের দিকেই এগোচ্ছি। আশা করি, শেষপর্যন্ত লকডাউন করতে হবে না। তার আগেই যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তাহলে আমরা খুশি হব।”

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে রাজেশ তোপী বলেন, “হাসপাতালগুলি ভর্তি হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসকদেরও কেউ কেউ করোনায় মারা যাচ্ছেন। যথেষ্ট পরিমাণে ভ্যাকসিনের ডোজও নেই। দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী এই অবস্থায় লকডাউন করা যেতে পারে। তাহলে করোনাভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলার সময় পাওয়া যাবে।”

পরে তিনি বলেন, “লকডাউনের উদ্দেশ্য হল সংক্রমণের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া। নানা দেশে দেখা গিয়েছে, ১৫ দিন থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত লকডাউন করতে হয়। তবে তার ফল পাওয়া যায়।”

শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৬৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৪২ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭৮০ জনের, যা দৈনিক হিসেবে চলতি বছরে সর্বোচ্চ।

যত মানুষ সংক্রামিত হচ্ছেন, তত মোটেও সেরে উঠছেন না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনামুক্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৮৯৯ জন। যা দৈনিক আক্রান্তের থেকে অর্ধেকেরও কম। যার ফলে দেশের মোট অ্যাকটিভ কেস একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লক্ষ ৭৯ হাজার ৬০৮ জন। দেশে পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৯ লক্ষ ১৩ হাজার ২৯২ জন।

মহারাষ্ট্র ও আরও কয়েকটি জায়গায় দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিনের সংকট। বাণিজ্যনগরীতে মোট ১২০ টি ভ্যাকসিন সেন্টার আছে। কিন্তু প্রতিষেধকের স্টক ফুরিয়ে যাওয়ায় তার ৭১ টি এখন বন্ধ। শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল বিকেসি-তে যে ভ্যাকসিন সেন্টার খোলা হয়েছিল, তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেই ভ্যাকসিন সেন্টারের ডিন রাজেশ দেরে বলেন, সাধারণত স্টক ফুরিয়ে যাওয়ার একদিন আগেই নতুন ভ্যাকসিন পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা আশা করেছিলেন, ভ্যাকসিন আসবে। কিন্তু আসেনি। এখন ওই সেন্টারে ভ্যাকসিনের মাত্র ১৬০ টি ডোজ পড়ে আছে।

মুম্বইতে এতদিন রোজ ৪০ থেকে ৫০ হাজার লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে। শহরের মেয়র কিশোরী পেডনেকর বলেন, “বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন কেন্দ্রে একটাও ডোজ নেই। আমি শুনেছি আজই ৭৬ হাজার থেকে ১ লক্ষ ডোজ আসছে। কিন্তু সরকারিভাবে আমাকে কিছু জানানো হয়নি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More