মুখে-জিভে সাদা ছোপ, ঠোঁটের কোণা ফাটছে, স্বাদও গায়েব?

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন থেকেই জিভে সাদা রঙের একটা আস্তরণ পড়ছিল মিলির। ভেবেছিল জিভ পরিষ্কার করলেই সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু হয়নি। আস্তরণটা আরও গাঢ় হতে থাকে, সেই সঙ্গে জিভের ওপরে চটচটে ভাব। স্বাদ একেবারেই গায়েব। মুখের ভেতরে তালুতেও ছড়াতে থাকল সাদা কোটিং। সেই সঙ্গে ঠোঁটের কোণা ফাটতে শুরু করল বিশ্রি ভাবে।

ডাক্তারের কাছে গিয়ে মিলি জানতে পারল তার মুখের ভেতরে একধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে। একে ডাক্তারি ভাষায় বলে ওরাল থ্রাস (Oral Thrush)। মুখের ভেতরে, জিভে, মাড়িতে, তালুতে সাদা ঘন আস্তরণ পড়তে থাকে। অনেকের হলদেটে আস্তরণ পড়ে। ঠোঁটের ভেতর দিকেও হাল্কা লাল র‍্যাশ হতে দেখা যায়। অনেকের তালুতে ব্যথা হয়, খাবার খেতে সমস্যা হয়।

Thrush: Treatment and Prevention Tips – Cleveland Clinic

কেন হয় ওরাল থ্রাস?

ওরাল থ্রাস ক্যান্ডাডা নামে একধরনের ছত্রাকের সংক্রমণে হয়। আসলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন। আমাদের সকলের মুখের ভেতরেই এমন ছত্রাক জন্মাতে পারে, তবে সংক্রমণ সকলের হয় না। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই ধরনের সংক্রমণ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ওরাল থ্রাস প্রায় সময়েই দেখা যায়। দুধ খাচ্ছে যে বাচ্চারা তাদের মুখের ভেতর সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। না হলে দুধের স্তর জমে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া পেটের সমস্যা, ভিটামিনের অভাবে, ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়ার রোগীদের এই ধরনের ওরাল থ্রাস দেখা যায়। খুব বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডের ডোজ নেন যাঁরা, তাঁদেরও মুখের ভেতরে সাদা ছোপ, ক্ষত হতে পারে।

What is Oral Candidiasis or Oral Thrush...?

কী কী লক্ষণ দেখে বুঝবেন ওরাল থ্রাস হচ্ছে?

জিভের ওপরে গাঢ় সাদা রঙের আস্তরণ পড়বে।

দাঁতের মাড়ি, ঠোঁটের ভেতরে, তালুতেও সাদা বা হলদেটে কোটিং হবে।

সাদা ছোপ আরও গাঢ় হলে জিভের স্বাদকোরকগুলিকে ঢেকে দেবে, ফলে খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে না।

জিভ পরিষ্কার করার সময় ফাটতে পারে বা রক্ত পড়তে পারে।

অনেক সময় জিভে জ্বালা হয়, খাবার খেতে সমস্যা হয়।

Thrush in Babies: Overview and More

কখন ডাক্তার দেখাবেন

ওরাল থ্রাস খুব একটা ভয়ের কারণ নয়। লক্ষণ বুঝলে সঙ্গে সঙ্গেই ডাক্তার দেখান, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল জেল বা ড্রপ লাগালে কিছুদিনের মধ্যেই কমে যাবে। বাচ্চাদের মুখ উষ্ণ গরম জলে পরিষ্কার করে দিন। ঘরোয়া টোটকায় উষ্ণ গরম জলে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার ও মধু মিশিয়ে লাগালে উপকার মেলে। নারকেল তেলও ওরাল থ্রাস প্রতিরোধে কার্যকরী। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মতোই কাজ করা ভাল।

অ্যান্টি-ফাঙ্গাল জেল বা ড্রপেও যদি থ্রাস না যায়, তাহলে চিন্তার কারণ আছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, এইডসের রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে। স্টেরয়েড বেশিমাত্রায় শরীরে যাচ্ছে কিনা নজর রাখতে হবে। ইস্টযুক্ত কোনও খাবার খাওয়া চলবে না। যোনিপথে সংক্রমণ হচ্ছে কিনা তাও পরীক্ষা করাতে হবে। অগ্নাশয় ক্যানসারের পূর্ব লক্ষণ কিনা তা উপসর্গ দেখেই বুঝতে পারবেন ডাক্তাররা। তাই দেরি না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.