সরস্বতী পুজোর সূচনায় খ্রিস্টান ও মুসলমান, অঞ্জলি দিলেন শিখ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে স্কুলে সরস্বতীপুজো হওয়াই রেওয়াজ। এই পুজোয় সকাল থেকে জল পর্যন্ত না খেয়ে সব ধর্মের পড়ুয়াকেই অঞ্জলি দিতে দেখা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ছবি মোটের উপরে বেশ চেনা। তবে তিন ধর্মের মানুষ এক সঙ্গে প্রদীপ জ্বালিয়ে ক্লাবের সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করছেন – এমন ছবি তেমন দেখা যায় না। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একটি ক্লাবের পুজোয় এই দৃশ্যেরই সাক্ষী হলেন উপস্থিত লোকজন। এই পুজো মণ্ডপেই দেবীর কাছে বিদ্যালাভের বর চাইলেন এক শিখ, দেবীর পায়ে অঞ্জলির ফুল দিয়ে।

নন্দীগ্রাম। এই শব্দটি শুনলে প্রথমে রাজনীতির কথাই মনে পড়ে, সোটাই স্বাভাবিক। আরও স্পষ্ট করে বললে রাজনৈতিক হিংসার কথা মনে পড়ে। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নন্দীগ্রামের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে আর পাঁচটা জায়গার মতোই। সরস্বতী পুজো দিন সকালে নন্দীগ্রামে দেখা গেল সম্প্রীতির অন্য এক ছবি।

নবোদয় সঙ্ঘের প্রতিমা

নন্দীগ্রামের কুলবাড়ির মুরাদপুরে নবোদয় সঙ্ঘের পুজো যেন এক নতুন বার্তা দিল – ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা, মানুষকে ভালবাসার বার্তা।

দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে এই ক্লাবে সরস্বতীর আরাধনা হয়ে আসছে। এই ক্লাবের পুজোর বেশ নামডাকও আছে। এখানে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসেন পুজোয় যোগ দিতে, অঞ্জলি দিতে। এবারে এই ক্লাবের পুজোর উদ্বোধনে প্রদীপ জ্বাললেন একসঙ্গে তিন ধর্মের মানুষ – হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টান।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি অনেক পাঠাগারেও আরাধনা করা হয় দেবী সরস্বতীর। তিনি বিদ্যা-বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবী। তাঁর আশীর্বাদেই নাকি অক্ষরজ্ঞানহীন কালিদাস হয়ে উঠেছিলেন মহাকবি, ভারতের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম। দেবী সরস্বতীর পুজো হয় অনেক বারোয়ারি ক্লাবেও তবে দুর্গাপুজোর মতো কোনও দিনই সেই সব ক্লাবের পুজো সেভাবে ‘সর্বজনীন’ তকমা পায়নি। ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার মঞ্চও হয়ে ওঠেনি সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ। নন্দীগ্রামের পুজো অবশ্য এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ঘটনাই ঘটাল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More