ফুরিয়ে এসেছে অক্সিজেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ২০০-র বেশি রোগীর প্রাণ বাঁচালেন পুলিশ কর্মীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৩৫ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। যথারীতি চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু আচমকাই সিঁদুরে মেঘ দেখলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আস্তে আস্তে ফুরিয়ে এল মজুত রাখা অক্সিজেন।

দিল্লির হাসপাতালে গতকাল শতাধিক মানুষের মৃত্যু একেবারে নিশ্চিত ছিল, যদি না পুলিশ কর্মীরা থাকতেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তায় আটকে পড়া অক্সিজেন ট্যাঙ্কারগুলিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন পুলিশ কর্মীরা। আর তাতেই প্রাণ বাঁচে মরণাপন্ন রোগীদের।

ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গেছে, দিল্লির পশ্চিম ভিহার অঞ্চলের অ্যাকশন বালাজি হাসপাতালে সোমবার রাতে হঠাৎই অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। সেখানে পৌঁছোনোর জন্য দুটি অক্সিজেন ট্যাঙ্কার আসছিল কিন্তু রাজধানীতে লকডাউন জারি হওয়ায় দিল্লি সীমান্তে আটকে পড়ে তারা। এদিকে অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালের মোট ২৩৫ জন রোগীর এখন-তখন অবস্থা।

খবর পেয়ে কর্তব্য স্থির করতে আর দেরি করেনি এলাকার ট্রাফিক পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থান থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত তাঁরা তৈরি করে দেন ‘গ্রিন করিডোর’। তার জেরেই ফাঁকা রাস্তায় গতি বাড়িয়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পারে ট্যাঙ্কার গুলি। কঠিন সময়ে পুলিশের এই তৎপরতা প্রশংসা কুড়িয়েছে নানা মহলে।\

অক্সিজেনের প্রথম ট্যাঙ্কারটি আটকে পড়েছিল নয়ডায়। ১৪ হাজার লিটার অক্সিজেন বহন করছিল সেটি। এছাড়া আরও একটি ট্যাঙ্কার ছিল ফরিদাবাদে। তাতে ছিল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার লিটার অক্সিজেন। দিল্লি পুলিশের তৎপরতার নজির নতুন নয়। এর আগে রবিবারই নিহাল ভিহার এলাকায় ৩৫ জন মরণাপন্ন করোনা রোগীর কাছে ২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়েছিল তাঁরা। হাসপাতালের তরফ থেকে সেদিন পুলিশের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছিল।

দিল্লিতে গতকাল থেকেই চালু হয়েছে লকডাউন প্রক্রিয়া। আগামী সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত টানা ৬ দিন রাজধানীতে চলবে সম্পূর্ণ লকডাউন। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোমবার এই ঘোষণা করেন। করোনা মোকাবিলার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকরী হয় সেটাই এখন দেখার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More