দেশের কনিষ্ঠতম ধনকুবের, জানেন এই ‘স্কুলছুটে’র বয়স কত!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের পড়াশোনায় একদম মন বসত না ছেলেটার৷ সেই ছেলেবেলা থেকেই কেমন যেন অন্যধারা ঠেকত তার আচার-আচরণ। লেখাপড়ায় আগ্রহ ষোলো আনা। অথচ স্কুলে যেতে একদম ইচ্ছে নেই। মনে প্রশ্ন অনেক। আচরণ কিছুটা খাপছাড়া। তাই মাঝেমধ্যে মাথায় নেমে আসত শাস্তির খাঁড়া। শাস্তি পেয়ে ‘কেন’ একটা কাজ করা উচিত—এই প্রশ্ন ছুড়ে দিত সে। গম্ভীর গলায় উত্তর ভেসে আসত—কারণ কাজটা ‘করতে হয়’।

স্কুলের চার দেয়ালের গণ্ডিতে মনের মতো জবাব কোনওদিনই পায়নি ছেলেটা। তাই চিরতরে স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। বয়স তখন মোটে সতেরো। সামনে অনেকটা পথ চলা বাকি। বিপদ আর ঝুঁকি তো রয়েছেই। তবু হাল ছাড়েনি সে।

এরপর কল সেন্টারে কম মাইনের চাকরি। তারপর ধীরে ধীরে পছন্দের দুনিয়ায় পা রাখা। যেহেতু ছোট থেকেই টাকা রোজগারের স্বপ্নে বুঁদ ছিল, তাই স্টক কেনাবেচায় আলাদা আগ্রহ দানা বাঁধে। শেষে গায়েগতরে খেটে আর বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে আস্ত সংস্থা গড়ে তোলে স্কুলছুট ছেলেটা।

এরপর পিছনে ফিরতে হয়নি। স্বপ্ন ডানা মেলেছে। সেই উড়ানে ভর করে আজ দেশের সর্বকনিষ্ঠ ধনকুবেরের শিরোপা দখল। বছর চৌত্রিশের নিখিল কামাথের জীবনের গল্পটা স্রেফ রংচঙে কাহিনি নয়। সেটা যে কোনও উঠতি তরুণের আত্মবিশ্বাস অর্জনের আখ্যানও বটে!

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের চড়াই-উতরাইয়ের অভিজ্ঞতার কথা আলোচনা করেছেন নিখিল। স্কুল ছাড়ার সময় কী ভেবেছিলেন? একগাল হেসে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে ছিল ব্যাবসা করার। তাই এক বন্ধুকে জুটিয়ে পুরোনো ফোন কেনাবেচা শুরু করি। কিন্তু বাড়ির লোক সেটা জানতে পেরে বকাবকি করতে থাকেন। এমনকী মা একদিন রাগের মাথায় পুরোনো মোবাইল নিয়ে টয়লেটে ফ্ল্যাশও করে দেন।’

এই ঘটনাটা জানাজানি হতেই স্কুলে নিখিলকে জোর চর্চা শুরু হয়। প্রিন্সিপাল তাঁর বাবা-মা-কে ডেকে পাঠান। শিক্ষকেরাও বকাবকি আরম্ভ করেন। তখনই স্কুল ছাড়ার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করেননি তিনি।

এরপর বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়৷ মা বেরিয়ে যেতে বলেন। বয়স তখন আঠারোও ছোঁয়নি। বাইরের দুনিয়াটা ঠিক কেমন, জানতেন না নিখিল। কিন্তু থেমে থাকলে তো চলবে না। তাই অনেক খেটেখুটে কল সেন্টারে চাকরি জুটিয়ে নেন তিনি। বেরিয়ে পড়েন বাড়ি থেকে। তারপর মুম্বইয়ের একটা ফ্ল্যাটে বান্ধবীকে নিয়ে ছোট্ট সংসারও বেঁধে ফেলেন।

এরপর শুরু হয় জীবনসংগ্রাম। হন্যে হয়ে কাজ খুঁজতে থাকেন তিনি। কিন্তু স্কুলছুট ছেলেকে কে চাকরি দেবে? নিদেনপক্ষে একটা গ্র‍্যাজুয়েট ডিগ্রি থাকলেও কিছু একটা করা যেত।

এরপরই ‘লাইন বদলে’র সিদ্ধান্ত। নিখিল জানতেন, স্টক মার্কেটের মারপ্যাঁচটা তিনি অন্য অনেকের চাইতে ভাল বোঝেন। তাই যা হওয়ার, সেখানেই হবে।

নতুন কিছু তৈরি করলে তো বেশ হয়! কিন্তু মূলধন? সেটা আসবে কোথা থেকে?

ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন নিখিলের বাবা। সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ ছেলের হাতে দিয়ে দেন তিনি। আর ছলছলে চোখে বলেন, ‘বাকিটা ম্যানেজ করে নে!’

নিখিল খ্যাপাটে হতে পারে। কিন্তু পছন্দের কাজ পেলে নিজেকে নিংড়ে দিতেও কসুর করে না। ছেলেকে নিয়ে বাবার এটুকু ভরসা ছিল।

না। বাবা-মা-ভাই কাউকেই নিরাশ করেননি নিখিল। অল্পদিনেই আর্থিক লেনদেনের বিশ্বে ভালোমতো ছাপ ফেলতে শুরু করেন তিনি। রমরমিয়ে চলতে থাকে ব্যাবসা। ডানা মেলে তার নিজের হাতে বানানো সংস্থা ‘জেরোধা’।

গগনচুম্বী সাফল্যের কোনও সহজ ফর্মুলা?

নিখিলের সাফ জবাব, ‘আমি ছেলেবেলা থেকে দু-তিনটে কাজ ভালোমতো করতে পারি। বড় হয়েও সেই কাজগুলোয় শাণ দিতে থাকতাম। আর হ্যাঁ, পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। সংস্থার কর্ণধার হয়েও আমি দিনের ৮৫ শতাংশ নাগাড়ে খেটে যাই।’

এরপর নয়া প্রজন্মের জন্য টোটকা যোগ করেন এই উদ্যমী তরুণ, ‘পাঁচ বছর পর কী হবে, সেটা ভেবে এখন থেকে মাথাখারাপ কোরো না। এখন যেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছ, সেটা আগামী দিনে মূল্যহীন হতেও পারে। মনের মধ্যে একটা ‘বোকাটে বিশ্বাস’-কে বাঁচিয়ে রেখো। সেটা কোনও না কোনওদিন ক্লিক করবেই।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More