কখনও লেবু, কখনও সর্ষের তেলের টোটকা কোভিড রুখতে! এদিকে বাজারে আগুন দাম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারও দাওয়াই সর্ষের তেল। কেউ আস্থা রাখতে বলছেন ‘লেবুর থেরাপি’-তে। নাকে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিলে কিংবা নাসারন্ধ্র দিয়ে সজোরে তেল টানলে নাকি করোনা ভাইরাসের বিষদাঁত ভেঙে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ার খোলা হাট কিংবা ক্ষমতাবান রাজনীতিবিদ, ধর্মগুরুদের সৌজন্যে এখন এমন টোটকা ময়দান কাঁপাচ্ছে। যার জেরে খুচরো এবং পাইকারি বাজারে হু হু করে চড়ছে তেল আর লেবুর দাম। অবস্থা এমনই যে, সর্ষের তেলের মূল্য দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি চড়েছে। তার কুইন্টাল পিছু দাম ১২ হাজার থেকে বেড়ে ১৬ হাজার টাকা ছুঁয়েছে।

লেবু, আমলা এবং অন্যান্য ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলের বাজারেও একই ছবি। ভরপুর ভিটামিন সি পেটে যাওয়া মানেই ইমিউনিটির নিশ্চিন্তি! তাই ভাঁড়ারে টান না পড়লেও দেদার দামে বিক্রি হচ্ছে এমন ফল। বাজারে জোয়ার এসেছে। টাকাও হাতে আসছে। তবু চিকিৎসকরা এতে সিদুঁরে মেঘ দেখছেন।

তাঁদের দুশ্চিন্তার মূলে রয়েছে ভুয়ো খবরের বাড়বাড়ন্ত। গত দু’মাসে দেশে করোনা বেড়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় গুণোত্তর হারে বেড়েছে আধপাকা তথ্যের শেয়ার। কখনও ফেসবুক। কখনও বা হোয়াটসঅ্যাপ। যাচাই না করে চিকিৎসকদের মুখে বসিয়ে এমন কিছু খবর চাউর হচ্ছে, যেগুলি পুরোপুরি বানানো।

অন্যদিকে এতে ইন্ধনও জোগাচ্ছেন পরিচিত অনেক ব্যক্তিত্ব। যেমন, বাবা রামদেব। গত ২৫ এপ্রিল তিনি সাফ নিদান দেন, দিনে দু’ফোঁটা সর্ষের তেল টানুন। নাক দিয়ে ‘পাস’ করে এই তেল পাকস্থলীতে জমা ভাইরাসকে খতম করে ফেলবে। ঠিক যেভাবে স্যানিটাইজার হাতের জীবাণুকে মেরে ফেলে।

সহজ টোটকা। সহজতর উদাহরণ। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এমনটা আদতে অসম্ভব। পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক জুসে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে। কিন্তু তা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী নয়। তেলের ন্যাচেরাল কেমিক্যালও একইভাবে অসাড়। লেবুর টোটকায় ফল মেলার কোনও প্রমাণ মেলেনি। উলটে এই থেরাপি কাজে লাগাতে গিয়ে কর্ণাটকের রায়চূড়ের এক শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।

কিন্তু এতকিছুর পরেও চাহিদা কমার ইঙ্গিত নেই৷ রাজস্থানের ঢোলপুরের তেলবিক্রেতা বৈভব মেহতা। তিনি বলেন, ‘সরষের তেলে কোভিড প্রতিরোধের শক্তি রয়েছে মনে করে অনেকে দেদারে কিনে যাচ্ছেন। ইদানীং প্রতি কুইন্টালের দাম প্রায় পনেরোশো টাকা বেড়েছে।’ একই ছবি সব্জি-ফলের বাজারে। দিল্লির আজাদপুর মান্ডিতে ৩ মে ৩৫ টাকা প্রতি কেজিতে লেবু বিক্রি হচ্ছিল। ঠিক একমাস বাদেই সেটা একশো পেরিয়েছে৷

এই অবস্থায় বিপদের ইশারা দেখছেন কেউ কেউ। বেসিক হেলথ কেয়ার সার্ভিসেসের প্রধান ডা. পবিত্র মোহন বলেন, ‘এমন প্রবণতা গ্রামের দিকে বেশি। সেখানে কোভিডের তেমন পরিষেবা নেই। তা ছাড়া দূরে, শহরে এসে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও গ্রামবাসীদের নেই। বাধ্য হয়ে কখনও কোয়াক ডাক্তারের পরামর্শে কিংবা কখনও নিজেরাই এমন টোটকা বেছে নিচ্ছেন।’

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More