ক্ষমা চাইব না, জরিমানাও দেব না, আদালত অবমাননার মামলা নিয়ে বললেন কুণাল কামরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী জামিন পাওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ টুইট করেছিলেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের অনুমতি চান দু’জন আইনের ছাত্র ও কয়েকজন আইনজীবী। বেণুগোপাল তাঁদের অনুমতি দেন। মামলার কথা শুনে কমেডিয়ান আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি টুইট করার জন্য ক্ষমা চাইবেন না। কোর্ট তাঁর জরিমানা করলে তাও দেবেন না।

মুম্বইয়ের ওই কমেডিয়ান এদিন টুইট করে বলেন, “অতীতে যা টুইট করেছি, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই। আমার বিশ্বাস, ওই টুইট পড়েই সবাই বুঝবেন, আমি কী বলতে চেয়েছি।” পরে তিনি বলেন, “নো ল-ইয়ারস, নো অ্যাপোলজি, নো ফাইন নো ওয়েস্ট অব স্পেস।” অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মামলা হলে তিনি নিজের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করবেন না, ক্ষমা চাইবেন না, জরিমানাও দেবেন না। ওই টুইট করার জন্য টুইটারে ইতিমধ্যে অনেকে কুণাল কামরাকে ট্রোল করেছেন।

২০১৮ সালে আর্কিটেক্ট অভয় নায়েক ও তাঁর মায়ের আত্মহত্যার মামলায় অর্ণব ও আরও দুই ব্যক্তি গ্রেফতার হন। অভিযোগ, অর্ণব ওই আর্কিটেক্টকে প্রাপ্য টাকা মেটাননি। ফলে তাঁর ব্যবসায় গুরুতর ক্ষতি হয়। তাই তিনি ও তাঁর মা আত্মঘাতী হন। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অর্ণব ও অপর দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতির বেঞ্চ অর্ণব সহ তিনজনকেই জামিন দেয়। পাশাপাশি বিচারপতিরা মহারাষ্ট্র সরকারেরও কড়া সমালোচনা করেন।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে শুনানি হয়। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, অর্ণবকে অবশ্যই তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তিনজনকে ৫০ হাজার টাকার জামানতও দিতে বলা হয়। দু’দিন আগেই বম্বে হাইকোর্ট অর্ণবের জামিনের আর্জি নাকচ করে দেয়। তারপর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি মিলল রিপাবলিক টিভির কর্ণধারের।

শুনানির শুরুতে বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, “আমি ওই চ্যানেল দেখি না। কিন্তু এক্ষেত্রে যদি আদালত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে আমরা ধ্বংসের পথে যাব।” অর্ণবের আইনজীবী হরিশ সালভে সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “অর্ণব গোস্বামী কি সন্ত্রাসবাদী? তাঁর বিরুদ্ধে কি খুনের অভিযোগ আছে? তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না কেন?” অন্যদিকে পুলিশ ও মহারাষ্ট্র সরকার বলে, অভিযোগকারীকে নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের কর্তব্য।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, কাউকে টাকা না দিলেই কি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়? বিচারপতিরা মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে জানতে চান, “কাল যদি মহারাষ্ট্রে কেউ সরকারের ওপরে দোষ দিয়ে আত্মঘাতী হয়, তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হবে?”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More