ইরফান সবরকম ভাবেই আমার প্রাপ্তি, হারিয়ে ফেলা নয়! স্ত্রী সুতপার ছোট্ট বাক্যে ফের আবেগী নেটিজেনরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমি কিছু হারাইনি, আমি সব রকম ভাবেই ঋদ্ধ হয়েছি কেবল। ইরফান খান চলে যাওয়ার পরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি বদলে এমনটাই লিখলেন স্ত্রী সুতপা। ছবিতে তাঁর হাতের বাঁধনে হাসিমুখে রয়েছেন অভিনেতা ইরফান।

সুতপার পোস্ট আবারও চোখে জল এনেছে অনুগামীদের। একইসঙ্গে, ভাবিয়েছে। প্রিয়তম জন চিরতরে চলে গেলে যে প্রবল শোক ও কষ্টের বহিঃপ্রকাশ সাধারণত ঘটে থাকে, তার বদলে সুতপা যেন ওই একটা লাইনে মন জয় করে নিলেন অনেকের। যেন বুঝিয়ে দিলেন, সত্যিকারের ভালবাসা কখনও হারায় না। তা কেবলই প্রপ্তি। এমনকি ভালবাসার মানুষটির চলে যাওয়াও সে প্রাপ্তিকে খাটো করতে পারে না!

এই ছবিটিই পোস্ট করেছেন সুতপা।

সত্যিকারের ভালবাসা বলে কি কিছু হয়? এই অমোঘ প্রশ্নের উত্তরটা হ্যাঁ হতে পারে, ইরফানের জীবনসঙ্গিনী সুতপার দিকে তাকিয়েই। সেই নয়ের দশকে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় পড়াশোনা করতে করতে যে ভাললাগা, বন্ধুত্ব, ভালবাসার জন্ম হয়েছিল, তা অটুট থেকেছে এতগুলো বছর পরেও। যদিও বিয়ে নিয়ে তাঁর কোনও আলাদা উচ্ছ্বাস ছিল না। ইরফানও মনে করতেন না, সম্পর্ককে কোনও নাম দিতেই হবে। ১৯৯৫ সালে একরকম সমাজের চাপে পড়েই তাঁরা সাত পাকে বাঁধা পড়েন নিজেদের মতো করে।

আরও পড়ুন: ঋষি কাপুরের ঠিক কী হয়েছিল, কবে থেকে ভুগছিলেন ক্যানসারে, কত দীর্ঘ লড়াই করেও মানতে হল হার

বাঁধন খোলেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবচেয়ে কাছ থেকে লড়ে গেছেন সুতপা। ইরফানের শারীরিক লড়াইয়ের মতোই সুতপার সে মানসিক ও সার্বিক লড়াই কিছু কম ছিল না। বলিউডের সবাই জানতেন, সুতপার এই সুতীবের চেষ্টার কথা। জানতেন, সুতপার জন্য ইরফানের ভালবাসাও কতটা প্রগাঢ়। ইরফানের মৃত্যুতে তাঁর পরিচালক বন্ধু সুজিত সরকারও টুইটারে লিখেছেন, “সুতপা এই লড়াইয়ে তুমি তোমার সবটুকু দিয়েছো।”

ইরফানের জীবনের সেরা কাজগুলোর মধ্যে নেমসেক সিনেমা একটি। সেখানে বাঙালি কবি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্রে একাত্ম হয়ে গেছিলেন ইরফান। পর্দায় মনেই হয়নি, অভিনয় করছেন মানুষটি। এত সুন্দর করে সে চরিত্র ফুটিয়ে তুলে পারার কারণ হয়তো সুতপাই। বাঙালি কালচার ও ছোটখাটো খুঁটিনাটিগুলো তো তাঁর মাধ্যমেই সঞ্চারিত হয়েছিল ইরফানের মধ্যে। সুতপার মাধ্যমেই ইৎফান যেমন চিনেছিলেন রবীন্দ্রনাথকে, তেমনই ভালবেসেছিলেন খাবার পাতে কচুর লতিকেও।

তবে পর্দায় ইরফানের চোখধাঁধানো সাফল্য দেখে অনেকেই হয়তো জানেন না, ইরফান যখন সবে টেলিভিশনে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করেছেন তার আগে থেকেই সুতপা বলিউডে রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত ‘খামোশি’ ছবির সংলাপ লিখে। পরবর্তী কালে কোনও বাঙালি ইরফানকে যোগাযোগ করতে চাইলে প্রথমে সুতপার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। ইরফানের ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সুতপার পরামর্শ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

আর সুতপা নিজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন ইরফানের জন্য। বিদেশে ক্যানসারের চিকিৎসার শেষে দেশে ফেরার পর ইরফান নিজে বলেছিলেন, তিনি সুতপার জন্যই বাঁচতে চান।

বাঁচা হল না। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বুধবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেতা ইরফান, মাত্র ৫৩ বছর বয়সে। জটিল ক্যানসারের মারণ থাবায় শেষ হয়ে গেল প্রাণ। কিন্তু সে শেষ যেন কোনও ক্ষতি নয়। সে শেষের পরেও ফুরিয়ে যায়নি কাজ, কম পড়েনি ভালবাসা, ফিকে হয়নি মুহূর্তরা।

তাই তো স্ত্রী সুতপার কাছে তিনি এখনও শুধুই প্রাপ্তি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More