বিপাকে পাকিস্তান, করোনা মোকাবিলায় ১৪০ কোটি ডলার দিল আইএমএফ

ইসলামাবাদকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আইএমএফ-এর শীর্ষ কর্তা জেফরি ওকামোটো বলেন, “করোনায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সার্বিক উন্নয়ন ও সে দেশের নাগরিকদের উন্নতির জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।”

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে কোভিড-১৯ এর থাবা অন্যদিকে বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থা। দুইয়ের চাপে বিপাকে পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই আমেরিকা-সহ বেশ কয়েকটি বন্ধু দেশের থেকে এসেছে সাহায্য। অর্থ সাহায্য পাঠিয়েছে চিন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। কিন্তু তাতেও সঙ্কট মেটার অবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্য নিয়ে পাশে দাঁড়াল ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড। ইমরান খান সরকারকে ১.৩৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিচ্ছে আইএমএফ।

ইসলামাবাদকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আইএমএফ-এর শীর্ষ কর্তা জেফরি ওকামোটো বলেন, “করোনায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সার্বিক উন্নয়ন ও সে দেশের নাগরিকদের উন্নতির জন্য এই অর্থ দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, করোনার প্রকোপ রুখতে ও গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে পাক সরকার। দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত করতে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণাও করেছে ইসলামাবাদ।

করোনাভাইরাসের হামলায় পাকিস্তানের অর্থনীতি বিপন্ন। প্রায় শূন্য বিদেশি মুদ্রার তহবিল। সেই সঙ্গে দেশে চরম খাদ্যসঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের কাছে বকেয়া ঋণ মকুব এবং আর্থিক মদতের আর্জি জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাতে সাড়া দিল আন্তর্জাতিক আইএমএফ। গত বছর জুলাই মাসেও আইএমএফ পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছিল।

পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রার তহবিল প্রায় শূন্য। গত বছরের জুলাই মাসেই ইসলামাবাদ জানিয়েছিল, দেশের ভাঁড়ারে বিদেশি মুদ্রা রয়েছে মাত্র ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। দু’মাসের আমদানির বকেয়া মেটাতেই তা শেষ হয়ে যাবে। এর পরেই আমেরিকার শরণাপন্ন হয় পাক সরকার। ওয়াশিংটনের তৎপরতায় ২০১৯ সালের জুলাই মাসে আইএমএফ পাকিস্তানকে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

করোনা মোকাবিলায় পাকিস্তানকে পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে ইসলামাবাদকে ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলার দিয়েছে ওয়াশিংটন। ওই টাকায় কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য পাকিস্তানে তিনটি ল্যাব তৈরি করার কথাও বলা হয়।

এদিকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পাক সরকার ঠিক মতো কাজ করছে না বলে দেশের মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে। ২১ কোটি জনসংখ্যার দেশে এখনই যা আক্রান্তের সংখ্যা তা বিপজ্জনক। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর মানুষ এক জায়গায় বসবাস করেন। ঘনবসতির কারণে করোনার প্রকোপ যে কোনও সময়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। শেষ পাওয়া হিসেবে পাকিস্তানে একশোর বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত মারা গিয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার পেরিয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More