বাংলাদেশে বাড়ছে করোনা প্রকোপ, তারই মধ্যে মসজিদে জমায়েতের অনুমতি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ১৮৬ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৭১৯।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আক্রান্ত আর মৃত্যু দুই-ই বাড়ছে পড়শি বাংলাদেশে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ৩ জন মারা গেছেন। নতুন করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ৭৯০ জন। এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রক অনলাইন ব্রিফিংয়ে যে তথ্য দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ১৮৬ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৭১৯। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৯ হাজার ৫৯৩ জনের নমুনা। দেশে এখন ৩৩টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই রমজান মাসে সাধারণ মুসলমানদের মসজিদে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার জোহর থেকে সাধারণ মুসলমানরা মসজিদে জামাতে নমাজ আদায় করতে পারবেন। বুধবার দেশের ধর্ম মন্ত্রক এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

রাজীব সিনহাকে ফের কড়া চিঠি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্যে বাধা কেন, কৈফিয়ত তলব

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সারা দেশে জনসমাগমের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রক মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ, জুমা ও তারাবির জামাত সীমিত আকারে আদায়ের জন্য নির্দেশ জারি করেছিল। দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামারা পবিত্র রমজানের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নমাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন। এর পরেই সরকার সার্বিক বিবেবচনা করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

বাংলাদেশ সরকার যে সব শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে বলা হয়েছে, মসজিদে কারপেট বেছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নমাজের আগে মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার সাবান-জল রাখতে হবে। সকলকে অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে।

প্রত্যেককে বাড়ি থেকেই ওজু করে ও সুন্নত নমাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে। ওজু করার সময়ে অবশ্যই কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। নমাজের কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। কমপক্ষে তিন ফুট পরপর দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

নির্দেশে আরও বলা হয়েছ, শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না। সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদের ওজুখানায় সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। এবং মসজিদে টুপি ব্যবহার করা যাবে না। তবে সকলকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মসজিদে ইফতার ও সাহরির আয়োজন করা যাবে না।

এর আগে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার জানিয়েছিল, মসজিদ খোলা রাখা গেলেও প্রতি ওয়াক্তের জামাতে পাঁচজনের বেশি অংশ নেওয়া যাবে না। এই পাঁচজন হবেন মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম। এ ছাড়া জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন আসতে পারবেন। এবারে সাধারণের জন্যও মসজিদের দরজা খুলে দিল বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা জেলায়। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ জেলা। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চললেও দোকান-বাজার প্রায় সবই খোলা রয়েছে। এবার মসজিদের জমায়েতেও অনুমতি দেওয়া হল। এর ফল খারাপের দিকে যেতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এখন মার্কেট খোলা হয়েছে। গার্মেন্টস বাজার খোলা হয়েছে, দোকানপাটে আনাগোনা বাড়ছে। কাজেই সংক্রমণ যে বৃদ্ধি পাবে, এটি আমরা ধরেই নিতে পারি। আমাদের যতটুকু সম্ভব এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জীবন ও জীবিকা দুটোই পাশাপাশি যাবে।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More