ক্যাপিটল হিলে হামলাকারীদের মিছিলের প্রশংসা করছেন ট্রাম্প, প্রকাশ্যে এল ভিডিও ক্লিপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পপ সং-এর সঙ্গে নাচছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে এই দৃশ্য। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাঁর মেয়ে ইভাঙ্কা, ছেলে ডন জুনিয়র ও আরও অনেককে। রিপাবলিকানদের এক মিছিলের প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁদের মুখে। ওই মিছিল থেকেই ক্যাপিটল হিলে হামলা করে উত্তেজিত জনতা। তারা ওই ভবনের দেওয়াল বেয়ে ওঠে। জানলার কাচ ভাঙে। যে কক্ষে আইনপ্রণেতারা বৈঠক করেন, সেখানেও ভাঙচুর চালায়।

হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ডন জুনিয়র তাঁর মোবাইলে ওই ভিডিও ছবি তুলেছিলেন। তার কিছুক্ষণ পরেই ট্রাম্প ভাষণ দেন। তখন তিনি নভেম্বরের নির্বাচনের ফলকে নস্যাৎ করে দেন। যদিও বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি। রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের ট্রাম্প বলেন, আগামী দিনে তাঁদের আরও কঠিন লড়াই করতে হবে।

ভিডিও-র শুরুতে আছে, ডন জুনিয়ার ‘পরম দেশপ্রেমিকদের’ ধন্যবাদ দিচ্ছেন। কারণ নির্বাচনের নামে যে প্রহসন করা হচ্ছে, তাতে তাঁরা ক্লান্ত। ইভাঙ্কাও হামলাকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ বলে টুইট করেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি সেই টুইট মুছে দেন।

ডন জুনিয়র তাঁর বাবার সমর্থকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তাঁরা যেন লড়াই করেন। সেখানে খুব জোরে পপ সং বাজছিল। অনেককে তার তালে নাচতে দেখা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হয়। অনেকেই বলেন, ট্রাম্প জানতেন, তাঁর সমর্থকরা শীঘ্রই ক্যাপিটল হিলে হামলা চালাবে। অনেকেই দাবি করেছেন, ট্রাম্পকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সকলকে গ্রেফতার করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত করা নিয়ে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে হাউস অব রিপ্রেসেন্টেটিভ এবং সেনেটের বৈঠক চলছিল। সেই সময়েই বিক্ষোভকারীরা জোরজবরদস্তি বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। তাদের মুখে ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করলেই অশান্তি শুরু হয়ে যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে, ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা।

সেনেট মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককনেল জানিয়েছেন, শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ঝামেলা চলছে। তবে এখন যা হচ্ছে তাকে গণতন্ত্রের অবমাননাই বলা যায়। ম্যাককনেল ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্পকে অনেক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। তবে এই ঘটনায় তাঁর সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে বলেই দাবি ম্যাককনেলের। বলেছেন, এদের থামানো না গেলে আমেরিকান রিপাবলিককেই বদনাম করে ছাড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More