ভোটের আগে কেরলে রাহুল গান্ধীর কেন্দ্রে দল ছাড়ছেন নেতারা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ৬ এপ্রিল বিধানসভা ভোট হবে কেরলে। তার আগে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র ওয়ানাড়ে চার কংগ্রেস নেতা পদত্যাগ করলেন। তাঁরা বলেছেন, কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিরক্ত হয়ে দল ছাড়ছেন। দলের রাজ্যস্তরের নেতারা এই ঘটনায় গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুলের কেন্দ্রে বিধায়কদের পদত্যাগের ঘটনায় কংগ্রেসের ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে। রাজ্যে এবার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে কংগ্রেস। তার আগে ওয়ানাড়ে নেতাদের বিদ্রোহ স্পষ্টতই অস্বস্তিতে ফেলেছে দেশের প্রাচীনতম দলকে।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ওয়ানাড় কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন রাহুল। এছাড়া তিনি উত্তরপ্রদেশের অমেঠী কেন্দ্র থেকেও প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু নেহরু পরিবারের বহুদিনের কেন্দ্র অমেঠীতে তিনি পরাজিত হন। ওই আসনে জয়ী হন বিজেপির স্মৃতি ইরানি।

কেরলে মোট ২০ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১৯ টিতেই জয়ী হয়েছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। কংগ্রেসের আশা এবার বিধানসভা ভোটেও ওই জয়ের পুনরাবৃত্তি হবে। কিন্তু গত ডিসেম্বরে পঞ্চায়েত ভোটে এলডিএফ ভাল ফল করেছিল।

রাহুলের কেন্দ্রে যে কংগ্রেস নেতারা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা হলেন জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক পি কে অনিল কুমার, কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক এম এস বিশ্বনাথন, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সদস্য কে কে বিশ্বনাথন এবং মহিলা কংগ্রেসের নেত্রী সুজয়া বেণুগোপাল। তাঁদের একজন ইতিমধ্যে এলডিএফে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

কিছুদিন আগেই কেরলে প্রচারে এসেছিলেন রাহুল। ওয়ানাড়ে একটি কৃষক জমায়েতে ট্রাক্টর নিয়ে গিয়েছিলেন। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে জলে নেমে সাঁতারও কাটেন তিনি। কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও কেরল গিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করে এসেছেন।

এরপর সিপিএমের একটি কর্মসূচিতে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, “ওয়ানাড়ের সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কেরল সম্পর্কে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে তবে বামেদের বিরুদ্ধে তাঁদের অনুভূতি এক। বামেদের বিরুদ্ধে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ।

সিপিএম পলিটব্যুরোর এই সদস্য বলেন, “কংগ্রেসের কোনও লজ্জা আছে? নয়ের দশকে যে অর্থনীতি কংগ্রেস চালু করেছে তার ফলেই লক্ষ লক্ষ কৃষকের প্রাণ গিয়েছে।

কেরলে কংগ্রেসই বিরোধী দল। আর কংগ্রেসের ব্যাপারে কেরল সিপিএম যে কতটা উগ্র বিরোধিতা তা রাজনীতিতে অনেকেরই জানা। কংগ্রেসও তেমন তীব্র বাম বিরোধী কেরলের মাটিতে। একুশের ভোটের আগে বাংলায় যখন ব্রিগেডের সমর্থনে দেওয়াল লেখায় অধীর চৌধুরীর নামের আগে অতি উত্‍সাহে কমরেড বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে তখন কেরলে সিপিএম-কংগ্রেস সংঘাত তুঙ্গে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More