সীমান্তে আর গোলাগুলি নয়, ভারতের সঙ্গে একমত হল পাকিস্তান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে বলেছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনা চালাতে হবে। একদিন হয়তো তারা বুঝবে, সীমান্তে অশান্তি হলে কারও লাভ হয় না। বৃহস্পতিবারই শোনা গেল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কঠোরভাবে সংঘর্ষ বিরতি মেনে চলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। দুই দেশের ডায়রেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের বৈঠকে স্থির হয়েছে, সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলে সংঘর্ষ বিরতি মেনে চলা হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকরী হবে বুধবার মধ্যরাত্রি থেকে। ভারত ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে।

২০০৩ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি হয়। তারপরেও বারবার সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় গ্রামগুলিতে গোলাগুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সীমান্তে শান্তি বজায় থাকলে দুই দেশই লাভবান হবে। দুই দেশের ডিজিএমও-ই পরস্পরের সমস্যার কথা শুনতে রাজি হয়েছে।”

এরপরে বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই দেশই স্থির করেছে, প্রতিটি চুক্তি কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে অবস্থিত প্রতিটি সেক্টরে পালিত হবে সংঘর্ষবিরতি।”

কিছুদিন আগেই চিন সীমান্তে প্যাংগং সো দ্বীপের উত্তরো দক্ষিণ তীর থেকে সেনা সরানো শুরু করেছে ভারত ও চিন। চিন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর ব্যবস্থা করছে ভারত।

জেনারেল নারাভানে অবশ্য বলেছেন, চিন সীমান্তে সেনা সরানোই যথেষ্ট নয়। আমাদের এখনও কাজ বাকি আছে। পরে তিনি বলেন, “আমরা যা করছি তা করবই। কিন্তু একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, সতর্কতা কমালে চলবে না। চিনের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়ার অভাব রয়েছে। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের দু’পাশে কী হচ্ছে, তার ওপরে নজর রাখতে হবে।”

তাঁর কথায়, “চিনারা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসেছে। তাদের কেউ বাধা দেয়নি। একটাও গুলি না ছুড়ে, একজনেরও জীবনহানি ছাড়াই তাদের লক্ষ্যপূরণ হয়েছে।” দক্ষিণ চিন সাগরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে কয়েকটি দ্বীপে চিনারা সেনা মোতায়েন করেছে। ভারত এই ব্যাপারটাকে ভাল চোখে দেখছে না।

লাদাখ নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, সেখানে সংকট শুরু হওয়ার পরেই সরকারের প্রতিটি দফতর হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর চিনা সরকারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও যথেষ্ট ভাল পরামর্শ দিয়েছিলেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More