করোনার কোপ রুটিরুজিতে, দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেকার হলেন ৭০ লাখের বেশি মানুষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল হয়ে পড়েছে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ফের লকডাউনের পথে হেঁটেছে একাধিক রাজ্য। আর তাতেই ফের বাড়তে শুরু করেছে বেকারত্বের হার।

পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিলে ভারতে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। গত চার মাসের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি। মার্চে দেশের বেকারত্বের হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। করোনার কোপে এপ্রিলে কাজ হারিয়েছেন ৭.৯৭ শতাংশ মানুষ। সংখ্যার বিচারে যা প্রায় ৭০ লাখেরও বেশি। সেন্টার ফর মনিটারিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি নামের একটি বেসরকারি গবেষণা কেন্দ্র এই তথ্য তুলে ধরেছে।

সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মহেশ ব্যাস বলেছেন, “কাজের দুনিয়ায় হঠাৎই বেশ মন্দা দেখা দিয়েছে। লকডাউনের জন্য এটা হতে পারে।” এখনই এই পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি দেখছেন না তিনি। তাঁর কথায়, “ভাইরাসটা এখনও দেশ জুড়ে বেশ সক্রিয়। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরেও চাপ পড়েছে। মনে হচ্ছে, মে মাসেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না।”

গত শনিবারই করোনা সংক্রমণে রেকর্ড করেছিল ভারত। আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছিল চার লাখের গণ্ডি। আর রবিবার সংক্রমণ খানিক কমলেও রেকর্ড তৈরি হয়েছিল মৃত্যুর হারে। মোট ৩ হাজার ৬৮৯ জন করোনা রোগী প্রাণ হারিয়েছিলেন রবিবার। তবে সোমবার আবার সেই সংখ্যা খানিক কমেছে।

করোনার বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে কড়া লকডাউনের পক্ষে সওয়াল করেছেন দিল্লি এইমসের প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া। অন্যান্য চিকিৎসকরাও একই পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু গত বছর মার্চের মতো এ বছরেও সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে হাঁটতে চাইছে না কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতে করোনা যুদ্ধে লকডাউন হবে সবচেয়ে শেষ অস্ত্র।

পুরোপুরি লকডাউন না ডাকায় দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা আছে বলে দাবি করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু এদিনের পরিসংখ্যানে বেকারত্বের হার আবার নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এমন অবস্থায় কোন পথে হাঁটে কেন্দ্র সেটাই এখন দেখার।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More