মোদী-শাহর নতুন টিম বাংলায়? নেতৃত্বে শুভেন্দু, সঙ্গে অর্জুন, নিশীথ, সৌমিত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটে যতই লম্ফঝম্ফ হোক, বাংলায় সাংগঠনিক দুর্বলতা লুকিয়ে রাখতে পারেনি বিজেপি। গ্রাম, মফস্বল পরের কথা, কলকাতার বহু আসনে পোস্টার, হোর্ডিং লাগানোর মতো লোক ছিল না। ভোটে ভরাডুবির পর এবার সম্ভবত সেদিকেই নজর দিতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা। হয়তো তাই, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাসভবনে বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং তিন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক, সৌমিত্র খাঁ এবং অর্জুন সিংকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ।

বিজেপির শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, একটা ব্যাপার লক্ষণীয়। তা হল, শুভেন্দু পরিষদীয় দলের নেতা। সংগঠনের নেতা নন। কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে লাগাতার তাঁর সঙ্গেই দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মঙ্গলবার অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। পরে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। কথা হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দ্র যাদব এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে। এর পর বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তার পর সন্ধ্যায় ফের বৈঠক হয়েছে অমিত শাহর সঙ্গে।

সূত্রের মতে, শুভেন্দুর সঙ্গে প্রথম দফায় আলোচনা করার পরই সৌমিত্র, অর্জুন, নিশীথকে দিল্লিতে ডাকা হয়। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, এর অর্থ হতে পারে শুভেন্দুর নেতৃত্বেই একটি সক্রিয় এবং অ্যাগ্রেসিভ টিম হয়তো তৈরি করে দিতে চাইছেন মোদী শাহ। যে টিমে বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায়রাও থাকবেন। দলের ওই কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, শুভেন্দুর সঙ্গে লকেট ও বাবুলের তালমিল ভাল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বাবুল বলেছিলেন, শুভেন্দুকেই দলের সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা করে দেওয়া উচিত।

বিজেপির ওই নেতা আরও বলেন, বাংলায় বর্তমানে যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাতে বিজেপির সংগঠন ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বইকি। কারণ, একদিকে কিছু নেতা ও বিধায়ক ক্ষমতার লোভে তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছে। নিচু তলায় কেউ কেউ ভয়ে তা করছেন, নইলে এলাকায় টিকতে পারবেন না। রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কথা মোদী-শাহকে সবিস্তারে জানিয়েছেন শুভেন্দু সহ বাকি নেতারা। তবে এ ব্যাপারে অমিত শাহর বক্তব্য স্পষ্ট। তা হল, বাংলায় সংগঠন বাড়াতে গেলে এ ভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই তা করতে হবে। অতীতে তৃণমূলকেও বামেদের সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এখন বিজেপিকে তা করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সর্বভারতীয় সংগঠনের তরফে রাজ্য সংগঠনকে যথাসম্ভব আইনি ও অন্য সাহায্য করা হবে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More