মুকুল রায় কি তৃণমূলে ফিরছেন? বড় ইঙ্গিত দিয়ে জল্পনা বাড়ালেন সৌগত রায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামে শেষ দিনের প্রচার মনে পড়ে?

হুইল চেয়ারে বসে রেয়াপাড়া-সহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা ঘুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভামঞ্চে পৌঁছনোর পর বক্তৃতা করতে গিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। হাসতে হাসতে দিদি বলেছিলেন, “মুকুল কিন্তু শুভেন্দুর মতো অত খারাপ নয়। বেচারাকে সেই কৃষ্ণনগরে দাঁড় করিয়েছে। ব্যারাকপুর, নৈহাটি ওঁর নিজের এলাকা। সেখানে দিতে পারত…!”

একদা সেকেন্ড ইন কমান্ডের সম্পর্কে যেন সহানুভূতি ঝরে পড়েছিল দিদির গলা থেকে। সেই সময়ে অনেকে বলেছিলেন, এ আসলে বিজেপির মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি করে দেওয়ার কৌশল। কিন্তু ভোট মেটার পর এক মাস আট দিন পেরিয়ে গিয়েছে। প্রবীণ বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে ঘিরে যখন নানা জল্পনা তৈরি হচ্ছে, তখন তাকে আরও কিছুটা উস্কে দিয়ে বড় ইঙ্গিত দিতে চাইলেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌগতবাবু বলেছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেক নেতাই যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলে ফেরার জন্য। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।”

এই পর্যন্ত কোনও জল্পনা নেই। কারণ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেকও বলেছিলেন, বিজেপির বেশ কয়েকজন সাংসদ, জেতা বিধায়ক তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের ওয়ার্কিং কমিটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়িত্ব দিয়েছে।

কিন্তু সৌগত রায় এ ব্যাপারে বলেছেন, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা উচিত। এক কট্টরপন্থী এবং দুই নরমপন্থী।

কট্টরপন্থী কারা?

সৌগতবাবুর কথায়, যাঁরা তৃণমূল ছাড়ার পরে বিজেপিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন তাঁরা কট্টরবাদী। এই তালিকার মধ্যে পড়েন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু দমদমের সাংসদের কথায়, মুকুল রায় কখনওই মমতা সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু বলেননি। অনেকের মতে, এটাই হয়তো বার্তা।

বিজেপির বৈঠকে মুকুলের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। দল বলছে, মুকুলবাবুকে খবর দেওয়া হয়েছিল। সর্বভারতীয় সভাপতি বলছেন, তিনি কিছু জানেনই না। অনেকের মতে, এতেই স্পষ্ট মুকুল রায়ের সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে।
তা ছাড়া মুকুলবাবুর অসুস্থ স্ত্রীকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার পরও নানান জল্পনা ডানা মেলেছিল বাংলার রাজনীতিতে। তার মধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন সৌগতবাবু।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More