‘আমেরিকার আনন্দের কোনও কারণ নেই’! বাগদাদির পরে কে প্রধান, জানিয়ে দিল আইসিস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইসিস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদিকে খতম করার কথা রবিবারই নিশ্চিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার চার দিন পরে অবশেষে সে কথা স্বীকার করল আইসিস। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে দলের পরবর্তী মাথার নামও ঘোষণা করে দিল তারা। জানাল, বাগদাদির আসনে বসতে চলেছে আইসিস নেতা আবু ইব্রাহিম আল-হাশমি আল-কুরেশি।

বাগদাদির পরে কে আসতে পারে এই পদে তা নিয়ে জল্পনা চলছিল তার মৃত্যুর পর থেকেই। সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ছিল যার আসার, বাগদাদির ডানহাত বলে পরিচিত ছিল যে, আইসিসের সেই মুখপাত্র আবু আল-হাসান আল-মুহাজিরকেও বাগদাদির সঙ্গেই খুন করা হয় বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাই বাগদাদির পরে আইএসের শীর্ষ নেতার দায়িত্বে কে আসতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল গত ক’দিন ধরেই।

এর পরেই নতুন মুখপাত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আবু হামজা আল-কুরেশি। সে একটা অডিও বার্তায় আইসিসের তরফে জানিয়েছে, বাগদাদির মৃ্ত্যুতে তারা শোকাহত। কিন্তু তাতে আমেরিকার স্বস্তি পাওয়ার কোনও কারণ নেই, কারণ হামলা থামাবে না তারা। বরং ইউরোপের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে তারা। সেই সঙ্গেই নতুন আইসিস প্রধানের নামও জানায় মুখপাত্র।

তবে আইসিস বাগদাদির মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও, তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করে পেন্টাগন৷ উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় যে উঁচু দেওয়াল ঘেরা কম্পাউন্ডে আইসিস প্রধান লুকিয়ে ছিল, সেখানে মার্কিন বাহিনী কী ভাবে অভিযান করল, তার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়৷

শনিবার রাতেই ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, “এইমাত্র বিশাল বড় একটা ঘটনা ঘটল।” ট্রাম্পের এই টুইটের পরেই শুরু হয় জল্পনা। কী এমন ঘটল যা খুলে বললেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অনেক রকম সম্ভাবনার কথা উড়ে আসে। তার মধ্যেই সিরিয়ায় হামলার কথাও শোনা যায়। অবশেষে সেটাই নিশ্চিত করেন ট্রাম্প নিজে। রবিবার ট্রাম্প বলেন, “গত রাতে বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতাকে জব্দ করেছে আমেরিকা। মার্কিন হামলার পরে একটি আত্মঘাতী জ্যাকেট পরে, বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাগদাদি নিজেকে উড়িয়ে দেন।” ওই বিস্ফোরণে বাগদাদির তিন জন শিশুসন্তান মারা গেছে বলেও জানান ট্রাম্প।

২০১১ সালে বাগদাদিকে ধরার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল মার্কিন প্রশাসনের তরফে৷ যদিও ২০১৭ সালের মে মাসে রুশ বিমান হানায়, সিরিয়ার রাক্কা শহরে ইসলামিক স্টেট প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির মৃত্যু হয় বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছিল। এর পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে, ২০১৭ সালের ওই হামলায় আইএস নেতা বাগদাদি খুন হয়নি, আহত হয়েছে। এর পরেই ফের শুরু হয় অভিযানের পরিকল্পনা।

ডেল্টা ফোর্সের সঙ্গে এই অভিযানে ছিল মার্কিন নৌবাহিনী, সিরিয়া ও কুর্দের সেনাবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ডের মেরিন কর্পস জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, বারিশার গোটা চত্বরটাই ছিল খানাখন্দে ভরা। ছোট বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছিল বাগদাদির কম্পাউন্ডের বাইরে। এইসব গর্তের আড়ালে লুকিয়ে বসে ঘাঁটি পাহারা দিত আইএস জঙ্গিরা। এদের কাবু করার জন্য এলোপাথাড়ি বোমা বর্ষণ করে মার্কিন বায়ুসেনা। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক অস্থায়ী জঙ্গি ঘাঁটি। একদিকে এয়ারস্ট্রাইক, অন্যদিকে লাগাতার গুলি চালিয়ে জঙ্গিদের কোণঠাসা করছিল ডেল্টা ফোর্স। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাগদাদির সুরক্ষা বলয় তছনছ হয়ে যায়। মারা পড়ে তার অধিকাংশ দেহরক্ষী।

কেনেথ জানিয়েছেন, বাগদাদির ডেরায় যখন ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে সেনারা সবচেয়ে আগে প্রতিঘাত আসে জঙ্গি নেতার স্ত্রীদের তরফে। তাদের পরনেও ছিল সুইসাইড ভেস্ট (আত্মঘাতী জ্যাকেট)। কী প্রবল আক্রমণাত্মক ছিল সেই মহিলারা। বাগদাদির দু’জন স্ত্রীকেই গুলিতে উড়িয়ে দেয় মার্কিন সেনা। কেনেথ জানিয়েছেন, গুলি না চালালে আত্মঘাতী জ্যাকেট দিয়ে তারা নিজেদের উড়িয়ে দিত এবং সেই বিস্ফোরণে মারা পড়ত মার্কিন সেনারা।

দেহরক্ষী ও স্ত্রীদের একে একে ধরাশায়ী হতে দেখে ছুটে একটি অন্ধকার সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ে বাগদাদি। সঙ্গে ছিল তার তিন সন্তান। বাগদাদির পিছু নিয়ে তাকে ধাওয়া করে যায় বেলজিয়ান ম্যালিনয়েস জাতের মার্কিন বাহিনীর ওই জাঁদরেল সেনা-কুকুর। যার ছবি টুইট করে সামনে এনেছিলেন ট্রাম্প। সুড়ঙ্গের ভিতর থেকেও গুলি চালিয়েছিল বাগদাদি। আর্তনাদ করে কেঁধে উঠেছিল। চিৎকার করছিল তার সন্তানেরাও। তারপরই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গুহা। আত্মঘাতী জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দেয় আইএস প্রধান।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

প্রতিফলন

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More