বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ধর্ণার ডাক বিজেপির, কাল রাজ্যে আসছেন নাড্ডা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে, সবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েছে। এর মধ্যেই জায়গায় জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। বিরোধীদের অভিযোগ, ফল প্রকাশের পর থেকেই বল্গাহীন সন্ত্রাস চালাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল। কোথাও পার্টি অফিসে ভাঙচুর করছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কোথাও কর্মীদের মারধর করছে। এমনকি ইতিমধ্যে ৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার দুদিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। সেই সঙ্গে ৫ মে এই হিংসার ঘটনার প্রতিবাদে গোটা দেশে ধর্ণার ডাক দিয়েছে বিজেপি। ওই দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ নেওয়ার কথা।
শুধু বিজেপি নয় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বামেরাও। এ ব্যাপারে টুইট করেছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও।
৪ ও ৫ মে রাজ্যেই থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি রাজ্যের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের পরিস্থিতি ঘুরে দেখবেন। শাসক বিরোধী সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গেও তিনি দেখা করবেন বলে খবর। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সফরের কথা জানিয়েছে গেরুয়া দল।
বিজেপি এদিন জানিয়েছে, “বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর তৃণমূলের গুণ্ডারা যে আক্রমণ চালিয়েছে সেই পরিস্থিতি তিনি খতিয়ে দেখবেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলির সঙ্গে দেখাও করবেন।”

ভোটের ফলাফলে এবার তাদের আশানুরূপ সাফল্য পায়নি বিজেপি। তাদের আসন সংখ্যা তিন অঙ্ক পেরোয়নি। কিন্তু বাংলার মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়েই সোনার বাংলা গড়ার কাজ চালিয়ে যাবেন বলে রবিবার জানিয়েছিলেন জে পি নাড্ডা। পাশাপাশি বাংলায় যে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে তাকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার ভোট গণনার পর রাত থেকেই রাজ্যের একাধিক প্রান্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সোমবার সকালে সংঘর্ষের মাত্রা যেন বেড়ে যায়। তৃণমূল বিজেপি হাতাহাতির খবর আসতে থাকে বারবার। কোভিড দুর্যোগের আবহে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলকর্মীদের উৎসব-উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়লেও সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো যায়নি।
কাঁকুড়গাছির শীতলতলা এলাকায় রবিবার রাতেই এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূলের দিকেই রয়েছে অভিযোগের আঙুল। বিজেপি সূত্রে দাবি, মৃত ব্যক্তির নাম অভিজিৎ সরকার। বছর তিরিশের অভিজিৎ অনেক দিন ধরেই স্থানীয় বিজেপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। রবিবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়।
এদিকে ফের উত্তপ্ত হয়েছে কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকাও। ভোটের দিনই এই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল চার জনের। সোমবার বেলার দিকে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে সেখানে গুলিবিদ্ধ হন এক যুবক। বছর ১৯-এর ওই যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গোটা ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছেন স্থানীয় বিজেপি সমর্থকরা। রাজ্যে ভোট পরবর্তী প্রাণহানি নিয়ে তোপ দেগেছেন গেরুয়া নেতা দিলীপ ঘোষও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More