‘রাম’কে নাম, সায়নী বনাম তথাগত! টুইট যুদ্ধে এগিয়ে কে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই বিধানসভা ভোট, আর তার মধ্যেই চলছে টিম বদলের রমরমা। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্ম প্রায়ই হাতিয়ার হয়েছে অনেক দলের। ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির লড়াই আজও চলছে, তবে ‘গণতান্ত্রিক’ দেশে বাকস্বাধীনতা সকলের আছে! নেতা থেকে অভিনেতা সকলেই রাজনীতি নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত, সে কারণ যাই হোক না কেন! রাজনীতি নিয়ে বারবার মুখ খুলতে দেখা গেছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে।

শীতকালে রামের একটা আলাদাই মজা আছে, কিন্তু এই শীতে ‘রাম’ বেলাগাম! হয়তো সেই কারণেই রামকে নিয়েই টুইট যুদ্ধে নামতে হল সায়নী ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়কে।

বিজেপির বিরুদ্ধে তথা অন্যান্য দলগুলির কাছেও প্রশ্ন তুলছেন তিনি, তাই এই মুহূর্তে স্পষ্টবাদী সায়নীকে নিয়ে অনেকেই চর্চা করছেন। সেই লিস্টিতে বাদ পড়েনি অমিত শাহ থেকে শুরু করে সহকর্মী রুদ্রনীল ঘোষও। তবে বোধহয় আরও একধাপ এগিয়ে গেল সায়নী ঘোষ এবং মেঘালয়ে রাজ্যপাল তথাগত রায়ের বাকযুদ্ধে। সায়নী সটান প্রশ্ন তোলেন বাংলা মানুষ আদতে কী চান, সেটা কি জানতে চেয়েছেন কোনও রাজনৈতিক দল? নাকি সবটাই রঙ বদলানোর খেলা! জয় শ্রীরাম ধ্বনিকে যেভাবে ক্রমশই রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা কখনওই কাম্য নয়। ইশ্বরের নাম ভালবেসে বলা উচিত। এটা বাঙালির সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। ঈশ্বরের নাম কখনওই কোনও পার্টির আইডেন্টিফিকেশন হতে পারে না, সে কথা মনে রাখা দরকার।

সায়নীর বক্তব্যের পরে স্পষ্টত তাঁকে আক্রমণ করে তথাগত লেখেন, ‘এই টাইপটাকে দেখেই কোথায় বলে ”মূর্খের অশেষ দোষ”। তবে এই মুর্খামির দায় শুধু @সায়নী-এর নয়…”! আসলে তিনি বলতে চেয়েছেন অভিনেত্রী দেশভাগের কথা ভুলে গিয়েছেন। দেশভাগের সময় মুসলিমদের ‘অপরাধের’ কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এরপরেই বাকযুদ্ধের বাইশ গজে এসে পড়েন তথাগত রায়। সায়নীকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন ‘ছি-এসব বলতে নেই। করুক না ওরা কিছু হিন্দু খুন ও মেয়েদের ধর্ষণ! হোক না সোয়া কোটি হিন্দু গৃহহীন, পথের ভিখারী! ওরাও তো মানুষ’!, এমন উদাহরণ টেনে ‘সেকুলারপন্থীরা’ এসবই শিখিয়েছেন ‘এদের’ বলে আক্রমণ করেন তথাগত রায়।

তথাগত রায়কে ব্যক্তিগতভাবে সায়নী চেনেন না, তাই আচমকা তাঁকে ট্যাগ করাতে তিনি যথেষ্টই বিরক্ত ও বিব্রত হন।। সায়নী জানান যে তিনি তথাগতবাবুর হাঁটুর বয়সী, তাও তাঁকে এই টুইটের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন সায়নী। বিষয়টা কোন জায়গাতে নামাতে চায়ছেন তথাগতবাবু সেটা দেখে যথেষ্ট হতাশ হন সায়নী।

সেই সঙ্গেই হিন্দু-মুসলিম নিয়ে যে বিভেদ তৈরি করতে চায়ছেন কিছু মানুষ, তার বিরুদ্ধেও আওয়াজ ওঠান সায়নী। সায়নী তথাগত বাবুকে ট্যাগ করে লেখেন,”আরে ‘টাইপ’ গোছের কথা বলে নিজের মানসিক ও সামাজিক সংকীর্ণতার পরিচয় দিলেন…আপনার মতো ‘জিনিস’ সত্যি পশ্চিমবাংলার মানুষের কাম্য নয়!” তথাগত বাবু আবারও লেখেন, “এসব কি আবোলতাবোল লিখেছে ?তাও রোমান হরফে!”

এরপর ফের তথাগতকে ঠুকে সায়নী বলেছেন, ‘ফর আ চেঞ্জ, এভাবে আপনিও অভ্যাস করুন…বাঙালি এখন গ্লোবাল!” তবে  এরপরেই  আর না পেরে তথাগত বাবু রণে ভঙ্গ দিয়ে বলেন ‘আর পারছি না, ক্ষ্যামা দে , মা লক্ষ্মী’। সায়নী নিজেই তাঁর ইনস্টা হ্যান্ডেলে এই টুইটগুলো পোস্ট করেন ও ক্যাপশনে লেখেন,”কথায় কথা বাড়ে, ক্রোধে হয় ঝড়, কথা না বাড়িয়ে সখা যাও তবে ঘর।”

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More