৯/১১-র বর্ষপূর্তির আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা ফিরিয়ে আনবেন বাইডেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার টুইন টাওয়ারে জঙ্গি হানার ২০ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। ২০০১ সালে ওই হামলার পরেই আফগানিস্তানে তালিবান বিরোধী অভিযানে যায় মার্কিন সেনা। বাইডেন প্রশাসন সূত্রে খবর, এবার ৯/১১-র বর্ষপূর্তির আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরিয়ে আনা হবে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০ বছর ব্যাপী ওই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চান। যদিও এর ফলে আফগানিস্তান ফের তালিবানের কবলে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই সেনা প্রত্যাহারের জন্য তালিবানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। কয়েক বছর আগেই মার্কিন প্রশাসনের কর্তাদের ধারণা হয়, আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন রেখে লাভ নেই। সম্প্রতি তুরস্ক ঘোষণা করে, আফগানিস্তানে শান্তি সম্মেলন করা হবে। প্রায় ৪০ বছর ধরে যুদ্ধ চলার পরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই ওই সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। যদিও তালিবান জানিয়ে দিয়েছে, ওই সম্মেলন বয়কট করবে তারা।

সম্ভবত বুধবারই আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানোর কথা ঘোষণা করবেন বাইডেন। এর আগেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আল কায়েদা ও আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিভিন্ন দেশে যে মার্কিন সেনাদের পাঠানো হয়েছে, তাদের ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা হবে। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, শীঘ্র আফগানিস্তান থেকে সব সেনাকে ফিরিয়ে আনা হবে। কেবল কাবুলে মার্কিন দূতাবাস পাহারা দেওয়ার জন্য মোতায়েন থাকবে অল্পসংখ্যক সেনা।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালিবানের সঙ্গে একদফা চুক্তি করেন ট্রাম্প। তাতে বলা হয়, তালিবান আর আল কায়েদা বা অপর জঙ্গি গোষ্ঠীকে সমর্থন করবে না। বিনিময়ে ২০২১ সালের মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা।

মঙ্গলবার বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে মে মাসে। ১১ সেপ্টেম্বরের আগেই প্রত্যাহারের কাজ শেষ হবে। তালিবান আপাতত জানিয়েছে, তারা মার্কিন সেনার ওপরে হামলা চালাবে না। কিন্তু আফগান সেনাকে আক্রমণ করবে। মার্কিন প্রশাসন তালিবানকে হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের সেনার ওপরে আক্রমণ হলে ‘উপযুক্ত প্রত্যাঘাত’ করা হবে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালিবান আত্মবিশ্বাসী, তারাই যুদ্ধে জিতবে। তারা আফগানিস্তানের আরও জমি দখল করতে চায়। বাইডেন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অসামরিক পথে চেষ্টা করবে যাতে আফগানিস্তানে সমাজ সংস্কার হয়। মহিলাদের ক্ষমতায়ন হয়।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More