‘জয় মমতা’! ফেসবুকে লিখলেন কবীর সুমন, ভিক্টোরিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর অপমানের প্রতিবাদে নামলেন পথে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলকাতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অতিথির আসনে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গতকাল, শনিবার ভিক্টোরিয়ার মেমোরিয়াল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী যখন বক্তৃতা রাখার জন্য পোডিয়ামে ওঠেন, একদল মানুষ চিতকার করে স্লোগান দিতে থাকেন জয় শ্রীরাম। বিরক্তিতে ও প্রতিবাদে কিছু না বলেই নেমে যান মমতা। জানিয়ে দেন, “এটা কোনও রাজনৈতিক পার্টির অনুষ্ঠান নয়। এটা সরকারি অনুষ্ঠান। এখানে ডেকে এনে এভাবে বেইজ্জতি করা যায় না।”

এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে এদিন পথে নামলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা সঙ্গীতকার কবীর সুমন। গড়িয়াহাটে অভিনব এক প্রতিবাদের আয়োজন করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সম্প্রতি গোমাংস-বিতর্কে আক্রমণের মুখে পড়া অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত এবং ‘জয়শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে ভয় দেখানোর বিপক্ষে কথা বলে অভিযোগের মুখে পড়া অভিনেত্রী সায়নী ঘোষও।

নেতাজির জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে কাল দিনভর সাজোসাজো রব ছিল শহরজুড়ে। একদিকে শ্যামবাজার থেকে রেড রোড পর্যন্ত নেতাজির জন্মদিন উপলক্ষে পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে তার কিছুক্ষণ পরেই কলকাতার হাজির হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পরে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানে ছন্দপতন ঘটে।

গতকালের ঘটনায় মমতার প্রতিবাদকে সমর্থন করেছেন অনেকেই। রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ নেতাজির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে জয় শ্রীরাম স্লোগান ভালভাবে নেননি। উল্টোদিকে আবার বিজেপি-সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন, রামের নামে কী আপত্তি আছে! আবার মমতার বিরুদ্ধেও বামেদের একাংশ পাল্টা তোপ দেগেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বহুদিন ধরেই বহু অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পরিণত করার দোষে দুষ্ট বলে।

সে যাই হোক না কেন, কবীর সুমন মমতার আচরণকেই সঠিক মনে করেছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থেকে এদিন সকালে ফেসবুকে পোস্ট পোস্ট করেন কবীর সুমন। তিনি লেখেন, “সাবাশ মমতা, জয় শ্রীরাম নয়, এই বাংলায় কখনও নয়। জয় বাংলা, জয় মমতা, জয় বাংলা, জয় মমতা।”

এর পরে গড়িয়াহাট মোড়ে ‘জয় বাংলা’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কবীর সুমনকে। এই প্রতিবাদকে ‘সত্যাগ্রহ’ বলে বর্ণনা করে কবীর সুমন বলেন, “তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে নয়, আমি রাস্তায় নেমেছি সাধারণ নাগরিক হিসেবে। একজনকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে অপমান করার বিরুদ্ধেই আমি এই অহিংস পথ বেছে নিয়েছি।”

তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কয়েক বারই এই জয় শ্রীরাম স্লোগানের মুখে মেজাজ হারিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি কর্মীদের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার যেন সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ঘটনা পরম্পরা। অনেকেই দাবি করেন, এই ধ্বনির প্রতি মমতার বিতৃষ্ণা বিজেপি বিরোধিতার কারণেই। কিন্তু নিরপেক্ষ মানুষদের একটা বড় অংশ মনে করেন, ‘জয় শ্রীরাম’ কখনওই বাংলার সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য নয়। এটা রণহুঙ্কারের মতো ব্যবহার করছে বিজেপি।

এই পরিস্থিতিতে নেতাজির জন্মদিনের মঞ্চে এই উচ্চকিত স্লোগান এবং তার প্রতিবাদে মমতার বক্তৃতা প্রত্যাখ্যান এক আলাদা মাত্রা যোগ করল রাজ্য-রাজনীতিতে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More