হাথরাসে জাতপাতের দ্বন্দ্ব বাধাতে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক, কোর্টে বলল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাংবাদিকের ছদ্মবেশে উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে যাচ্ছিলেন কেরলের বাসিন্দা সিদ্দিক কাপ্পান। তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সেখানে জাতপাতের দ্বন্দ্ব তৈরি করা। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারত। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে এমনই জানাল উত্তরপ্রদেশ সরকার।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে এক দলিত তরুণীকে চার উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার পরিবারের দাবি, তাঁরা দলিত হওয়ার জন্যই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছিল। গণধর্ষণের পরে তরুণীর ওপরে বীভৎস অত্যাচার করে অপরাধীরা। তাঁর শরীরে নানা জায়গায় হাড় ভেঙে যায়। সারা শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায়। ঘাড়ে গভীর ক্ষত থাকার জন্য তাঁর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, তরুণীর জিভেও ক্ষত ছিল। চার অপরাধী যখন তাঁকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজের জিভ কামড়ে ফেলেন।

সিদ্দিক কাপ্পানের দাবি, সাংবাদিক হিসাবে তিনি সেই ঘটনার রিপোর্টিং করতে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেছে, তিনি পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া নামে এক সংগঠনের সদস্য। তাঁর কাছে কেরলের এক সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র ছিল। সংবাদপত্রটি ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কেরল ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস থেকে সিদ্দিক কাপ্পানের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তাঁকে অবিলম্বে জামিন দেওয়ারও আর্জি জানানো হয়। উত্তরপ্রদেশ সরকার শীর্ষ আদালতে বলে, এই দাবির কোনও যৌক্তিকতা নেই। কারণ সিদ্দিক কাপ্পানের সঙ্গে ইতিমধ্যে তাঁর আইনজীবীরা দেখা করেছেন। আত্মীয়স্বজনদেরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেই জামিনের আবেদন পেশ করতে পারতেন।

এর আগে পুলিশ জানায়, তারা মথুরায় পিএফ আই-এর চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের নাম হল সিদ্দিক কাপ্পান, আতিউর রহমান, মাসুদ আহমেদ এবং আলম। হলফনামায় উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, সিদ্দিক কাপ্পানকে বে আইনিভাবে আটকে রাখা হয়নি। তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে।

যোগী আদিত্যনাথ সরকারের অভিযোগ, সিদ্দিক কাপ্পানকে যখন এসটিএফ জিজ্ঞাসাবাদ করছিল, তিনি নিজের বাড়ির ভুল ঠিকানা দিয়েছিলেন। আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি ভুল তথ্য দেন। কেরলের সাংবাদিক সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়, তাদের আইনজীবী ৬ অক্টোবর মথুরা কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। কখন অভিযুক্তকে কোর্টে তোলা হচ্ছে তিনি জানতেন।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত সিদ্দিক কাপ্পানের সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগাযোগ ছিল। তদন্তে সেকথা জানা গিয়েছে। ৫ অক্টোবর সিদ্দিক কাপ্পানের সঙ্গে আরও তিনজন গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই জামিনের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু তা নাকচ করা হয়েছে।

সাংবাদিক ইউনিয়নের হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। এর আগে তিনি বলেছিলেন, “এফআইআরে সিদ্দিক কাপ্পানের নাম নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি। কিন্তু তিনি ৫ অক্টোবর থেকে জেলে আছেন।” কাপ্পান নিজে অভিযোগ করেন, আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More