কেরলে মাস টেস্টিং শুরুর পরে করোনা পজিটিভ বেড়ে প্রায় ১৪ হাজার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা রোধে শুক্র ও শনিবার কেরলে হয়েছে মাস টেস্টিং। গত সপ্তাহে যেখানে পজিটিভিটি রেট ছিল ১২.৫৩ শতাংশ, তা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১৭.০৪ শতাংশ। এদিন কেরলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৩৫ জন। শুক্রবারই কেরলে করোনা সংক্রমণ ছাড়ায় ১০ হাজারের গণ্ডি। এদিন কেরলে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৫৯ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৮১ হাজার ২১১ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বাকি নমুনাগুলি পরীক্ষা করা হবে পরে।

কেরলে বিধানসভা ভোটের প্রচারপর্ব শুরু হতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৩.৭৮ শতাংশকে এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ভ্যাকসিনের অভাব দেখা দিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা এদিন বলেন, রাজ্যে এখনই ৫০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন চাই। তাঁর কথায়, “যাঁদের এখনই ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন, তাঁদের জন্য ৫০ লক্ষ ডোজ প্রয়োজন। আমরা বার বার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ভ্যাকসিনের জন্য আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি কেন্দ্র আমাদের ভ্যাকসিন পাঠাবে।”

চলতি মাসে দেশে ২০ লক্ষের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার সকালে জানা যায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ। মারা গিয়েছেন ১৩৪১ জন। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে দেশে করোনায় মারা গিয়েছেন মোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৪৯ জন।

অতিমহামারীর মোকাবিলা করার জন্য দেশের বিভিন্ন শহরে চালু হয়েছে নাইট কার্ফু। কড়াকড়ি করা হচ্ছে রেলেও। ভারতীয় রেল বিধির তালিকাতেই এখন থেকে মাস্ক পরা এবং অন্যথায় জরিমানার নিয়মটিও যুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

অতিমহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্মশানের ওপরে বিরাট চাপ পড়েছে। মৃতদের প্রিয়জনেরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শ্মশানের সামনে। বারাণসী ও ভোপালের মতো শহরে শ্মশানে চুল্লির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।

বারাণসীর বাসিন্দা রবীন্দ্র গিরি জানিয়েছেন, শুক্রবার এক প্রিয়জনকে দাহ করার জন্য তাঁকে হরিশচন্দ্র ঘাটে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “শ্মশানে এমন দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আমরা দাহ করার জন্য কাঠ পর্যন্ত পাচ্ছিলাম না। আমাদের চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।”

উত্তরপ্রদেশে যে শহরগুলি অতিমহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার অন্যতম হল বারাণসী। সেখানে মণিকর্নিকা ঘাট শ্মশানে রোজ আসছে বিপুল সংখ্যক মৃতদেহ। প্রশাসন জানিয়েছে, হরিশচন্দ্র ঘাট শ্মশানে শুধুমাত্র কোভিড রোগীদের দাহ করা হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More